[CRK] বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া তরুণ কিউই পেসার উইল ও’রোর্ক
[CRK]
সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর নিউজিল্যান্ডের তরুণ দল
বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফেরানোর পর এখন সব চোখ চট্টগামের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দিকে। নিউজিল্যান্ডের মূল দলের বেশিরভাগ তারকা খেলোয়াড় আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবার কিউইরা মাঠে নেমেছে এক তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল নিয়ে। তবে এই তরুণরাই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে বাংলাদেশ দলকে বেশ চাপে রেখেছে। কিউই ফাস্ট বোলার উইল ও’রোর্ক মনে করছেন, তাদের দলের এই তরুণরা দারুণ লড়াকু এবং তারা শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সিরিজ জয় করতে প্রস্তুত।
মানিয়ে নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ
ও’রোর্কের মতে, বাংলাদেশ সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পিচের বৈচিত্র্যের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। ঢাকার দুই ম্যাচে দুই ধরণের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ম্যাচে বল নিচু হয়ে ঘুরলেও দ্বিতীয় ম্যাচে পেস ও বাউন্স কিছুটা বেশি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব গর্বের সাথে এই সফরে এসেছি এবং সিরিজ জিততে চাই। আমাদের দলে অনেক নতুন মুখ রয়েছে যারা আগে খুব একটা বাংলাদেশে খেলেনি। তাই কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
চট্টগামের পিচ নিয়ে ভাবনা
সিরিজের শেষ ম্যাচে চট্টগামের উইকেট নিয়ে ও’রোর্ক বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, পিচে ঘাসের আস্তরণ থাকায় সেখানে কিছুটা গতি ও বাউন্স পাওয়ার আশা করছেন তারা। ও’রোর্ক বলেন, ‘আমি পিচটি অল্প সময়ের জন্য দেখেছি, মনে হচ্ছে ভালো উইকেট হবে। আউটফিল্ডটাও বেশ শুষ্ক, তাই বল একবার ফিল্ডারদের সীমানা পার হয়ে গেলে বেশ দ্রুতই বাউন্ডারিতে পৌঁছাবে। আশা করছি এখানে পেস বোলাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে উইকেট যেমনই হোক, আমাদের কাজ হলো নিজেদের সেরাটা দেওয়া।’
নিজের পারফরম্যান্স ও শিক্ষা
ঢাকা পর্বে নিজেদের বোলিংয়ের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছেন ও’রোর্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের বোলিং প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমি একটু বেশি ফুল লেন্থে বল করেছিলাম, যা ব্যাটারদের খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল উইকেটে জোরে আঘাত করা যাতে বলের বাউন্সে ভিন্নতা আসে। আশা করি শেষ ম্যাচে আমরা সঠিক লেন্থ বজায় রেখে বল করতে পারব।’ দীর্ঘ আট মাস পর জাতীয় দলে ফেরা ও’রোর্ক এই সুযোগকে বেশ উপভোগ করছেন এবং বাংলাদেশের উইকেট চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি নিজের শরীরের অবস্থাকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা
বাংলাদেশের বর্তমান পেস আক্রমণ নিয়ে কিউই এই পেসার গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম বাংলাদেশে এবার পেস-বান্ধব উইকেটই বেশি পাব। বাংলাদেশের বর্তমান পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্বমানের বোলাররা তাদের দলে আছেন। রানা গত ম্যাচে দারুণ করেছে এবং মুস্তাফিজের মতো বোলাররা তো আছেনই। তাদের পেস অ্যাটাক আসলেই প্রশংসার যোগ্য। তাই আমরাও আমাদের পরিকল্পনায় কোনো ছাড় দিচ্ছি না।’
সিরিজের শেষ লড়াইয়ের প্রস্তুতি
নিউজিল্যান্ড দল এখন পুরো মনোযোগী সিরিজ জেতার দিকে। ও’রোর্ক জানান, দলের সবার মধ্যে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ‘আমরা প্রতিদিন নিজেদের প্রস্তুত করছি এবং কালকের ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি। দলের সবাই খুব ইতিবাচক মানসিকতায় আছে। সিরিজ জিততে হলে আমাদের ফিল্ডিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই সেরাটা দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সেরাটা দিয়ে সিরিজ জিতে দেশে ফেরা।’
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হাসি কার মুখে ফোটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও কিউই তরুণদের এই আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশকে দারুণ এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
