আইপিএল ২০২৬: ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের যুগেও যেভাবে অনন্য হয়ে উঠছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের যুগে ব্যতিক্রমী নীতিশ কুমার রেড্ডি
আইপিএল ২০২৬-এ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (এসআরএইচ) ব্যাটিং লাইনআপের উপরের সারির ব্যাটারদের ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। অভিষেক শর্মা, ট্র্যাভিস হেড, ঈশান কিষাণ এবং হাইনরিখ ক্লাসেন—এই চারজন মিলে এখন পর্যন্ত রানবন্যা বইয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই লাইমলাইটের আড়ালে নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন একজন, তিনি নীতিশ কুমার রেড্ডি। তিনি কেবল একজন ব্যাটার নন, কেবল একজন বোলারও নন, তিনি বর্তমান আইপিএলের অন্যতম ‘প্রকৃত অলরাউন্ডার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কেন নীতিশ রেড্ডি বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার?
দীপ দাসগুপ্তের মতে, বর্তমান আইপিএলে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম আসার পর অলরাউন্ডারদের কদর কমে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নীতিশ রেড্ডি এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। তার ব্যাটিং দক্ষতা দলের লোয়ার-মিডল অর্ডারে গভীরতা যোগ করেছে। ১৬৬.৯১ স্ট্রাইক রেটে ২২২ রান করাটা প্রমাণ করে যে, দলের প্রয়োজনে তিনি কতটা কার্যকর। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১৩ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস বা লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ৫৬ রানের সেই সংগ্রামী ইনিংস—তার ব্যাটিংয়ের বহুমুখিতা পরিষ্কার করেছে।
বোলিংয়ে ধার ও প্রজেক্ট এনকেআর
নীতিশ কেবল ব্যাটার নন, বোলিংয়েও সমান পারদর্শী। চলতি আইপিএলের মতো উচ্চ স্কোরিং টুর্নামেন্টে ১০.৩৯ ইকোনমি রেটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এসআরএইচ-এর সহকারী কোচ জেমস ফ্রাঙ্কলিন জানিয়েছেন, নীতিশ তার বোলিং গতি বাড়ানোর জন্য গত কয়েক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সাবেক কাউন্টি ক্রিকেটার ও বোলিং কোচ স্টিফ্যান জোন্সের সাথে ‘প্রজেক্ট এনকেআর’-এর মাধ্যমে তিনি তার বোলিং গতি ১৪০ কিমি/ঘণ্টার আশেপাশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাওয়ারপ্লে-তে নতুন বল সুইং করানো এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়া তাকে দলের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছে।
দলের ভারসাম্য রক্ষায় রেড্ডির ভূমিকা
দীপ দাসগুপ্ত মনে করেন, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাফল্যের পেছনে নীতিশ রেড্ডির অবদান অপরিসীম। তিনি বলেন, “ইমপ্যাক্ট সাব অপশন থাকার পরেও নীতিশ নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে দলগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ খেলা খেলছে, সেখানে পাঁচজন বোলার নিয়ে মাঠে নামার পর অতিরিক্ত একজন ব্যাটার হিসেবে রেড্ডির মতো খেলোয়াড় থাকাটা দলের জন্য বড় সুবিধা।” নীতিশ রেড্ডির এই অবদানই এসআরএইচকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যতের পথে
আইপিএলের পরিবর্তনশীল নিয়মের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নীতিশ রেড্ডি দেখিয়েছেন যে, প্রতিভা থাকলে এবং সঠিক পরিশ্রম করলে এই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের যুগেও অলরাউন্ডারের গুরুত্ব বজায় রাখা সম্ভব। তিনি কেবল এসআরএইচ-এর জন্য একজন খেলোয়াড় নন, তিনি বিশ্বমানের অলরাউন্ডার হওয়ার পথে এক উজ্জ্বল নাম। ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, আগামী ম্যাচগুলোতেও তিনি তার এই ফর্ম বজায় রাখবেন এবং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সম্পদ হয়ে উঠবেন।
উপসংহারে বলা যায়, আইপিএল ২০২৬-এ নীতিশ কুমার রেড্ডির উত্থান অলরাউন্ডারদের জন্য এক নতুন আশার আলো। তার ব্যাটিংয়ের তেজ এবং বোলিংয়ের বুদ্ধিমত্তা তাকে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত করেছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এখন তার ওপর ভরসা করেই এগিয়ে চলছে এবং এটিই প্রমাণ করে যে, প্রকৃত অলরাউন্ডাররা কখনোই পুরনো হন না।
