News

আইপিএল সূচির জটিলতায় পাকিস্তান সফরে অনিশ্চিত কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউড

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

আইপিএল ও আন্তর্জাতিক সূচির দ্বন্দ্বে বিপাকে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট

আগামী মে ও জুন মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা। আইপিএল ২০২৬-এর শেষভাগের সাথে এই সফরের সূচির সংঘর্ষের ফলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই দল সাজাতে হতে পারে অসি নির্বাচকদের।

সূচির জটিল সমীকরণ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিশ্চিত করেছে যে, অস্ট্রেলিয়ার পাকিস্তান সফর শুরু হবে ৩০ মে রাওয়ালপিন্ডিতে। এরপর ২ ও ৪ জুন লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে বাকি দুটি ম্যাচ। এই সফরের পরপরই ৯ জুন থেকে বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে অসিদের। অথচ আইপিএলের প্লে-অফ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই, যারা প্লে-অফে খেলবেন, তাদের পাকিস্তান সফরের শুরুর দিকে পাওয়া অসম্ভব।

কাদের খেলার সম্ভাবনা কম?

আইপিএল পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও পাঞ্জাব কিংসের সাথে যুক্ত থাকা প্যাট কামিন্স, ট্র্যাভিস হেড, কুপার কনোলি ও জেভিয়ার বার্টলেটের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। জশ হ্যাজেলউডের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও প্লে-অফের দৌড়ে থাকায় তিনিও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারেন।

তবে মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিসের মতো ক্রিকেটাররা সম্ভবত এই সফরে যোগ দিতে পারবেন, কারণ তাদের আইপিএল দল লখনউ সুপার জায়ান্টস প্লে-অফ থেকে প্রায় ছিটকে গেছে।

ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এই তিন ফরম্যাটের তারকা পেসার—কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজেলউডকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। সামনেই আগস্ট মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ সফর থেকে শুরু করে পরবর্তী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রায় ২০টি টেস্ট ম্যাচ অপেক্ষা করছে। এই দীর্ঘ যাত্রার আগে প্রধান বোলারদের শারীরিক সুস্থতা ও ফ্রেশনেস নিশ্চিত করাটাই এখন নির্বাচকদের প্রধান লক্ষ্য।

তরুণদের দিকে নজর

প্রধান তারকাদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত একটি তরুণ দল গঠন করবে। অ্যালেক্স ক্যারি, অ্যাডাম জাম্পা ও মারনাস ল্যাবুশেনের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি ম্যাট রেনশও দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নাথান এলিসকেও পাকিস্তান সফরের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে তানভীর সাঙ্ঘা, অলি পিক এবং অলরাউন্ডার জোয়েল ডেভিস ও নিখিল চৌধুরীর মতো তরুণরা ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন।

অসি দলের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

ওয়ানডে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের কথা যদি ধরি, তবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তিনি খুব কম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। যদি তিনি এই দুটি সফরে না খেলেন, তবে সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার পরবর্তী ওয়ানডে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ট্র্যাভিস হেডকেও লম্বা সময়ের কথা ভেবে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। তবে ক্যামেরন গ্রিনকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে, যা আগামী বছর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টেস্ট সিরিজের জন্য তাকে স্পিন সহায়ক কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

সামগ্রিকভাবে, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের জন্য এই সিরিজগুলো কেবল জয়ের লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য একটি প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। দেখার বিষয়, আইপিএল পরবর্তী এই ব্যস্ত সূচিতে অসি টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ পর্যন্ত কোন ১১ জনকে নিয়ে মাঠ সাজায়।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.