নিজের শর্তে বাঁচতে চান বিরাট কোহলি
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা বিরাট কোহলি বর্তমানে ক্যারিয়ারের এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ক্ষুধা এখনো অটুট। সম্প্রতি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) একটি পডকাস্টে তিনি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন, তবে সেই সাথে জুড়ে দিয়েছেন এক বিশেষ শর্ত। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিজের যোগ্যতা বারবার প্রমাণ করার মানসিক চাপে তিনি আর নেই।
প্রমাণের লড়াইয়ে আর নেই কিং কোহলি
কোহলি তার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে কোনো কিছু প্রমাণ করার চাপ থেকে মুক্তি চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে এমন জায়গায় থাকতে হয় যেখানে বারবার প্রমাণ করতে হবে যে আমি কতটা যোগ্য, তবে আমি সেই জায়গায় থাকতে আগ্রহী নই।’ তার মতে, খেলার প্রতি তার সততা এবং নিবেদন শতভাগ, এবং সেই পরিশ্রমের ওপর ভরসা রাখাই বাঞ্ছনীয়। কেউ যদি তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে সেটি তার কাজের জায়গার জন্য নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৭ বিশ্বকাপ এবং খেলার প্রতি ভালোবাসা
২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দাঁড়িয়েও কোহলির লক্ষ্য পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘আমি যদি খেলি, তবে আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করতে চাই। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলাটা সব সময়ই সম্মানের।’ তিনি কেবল ফলাফলের পেছনে ছুটছেন না, বরং খেলার প্রতি তার ভালোবাসা থেকেই মাঠে নামতে চান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। তিনি সেখানে ১৩১ এবং ৭৭ রানের ইনিংস খেলেছেন, যা তার ফর্মের জানান দেয়।
মানসিক প্রস্তুতি ও কাজের সততা
কোহলি বিশ্বাস করেন, ফলাফল সব সময় কারো নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে কঠোর পরিশ্রম এবং সততার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়ানডে ম্যাচে ৪০ ওভার বাউন্ডারি থেকে বাউন্ডারি দৌড়াতে পারি, কারণ আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করি।’ কোহলির মতে, খেলার দিন শেষ বল পর্যন্ত নিজের সেরাটা দেওয়া এবং দলের প্রয়োজনে সবকিছু উজাড় করে দেওয়াটাই একজন ক্রিকেটারের আসল পরিচয়। তিনি চান, ম্যানেজমেন্ট বা সংশ্লিষ্টরা যেন তাকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা না দেয়। হয় তাকে প্রয়োজন, নতুবা নয়—এটি দিনের শুরুতেই পরিষ্কার করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ফলাফলের ঊর্ধ্বে দায়বদ্ধতা
ক্রিকেটের বাইরের আলোচনা বা ম্যানেজমেন্টের অস্পষ্টতাকে তিনি অপছন্দ করেন। কোহলির মতে, ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে ফলাফল দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। কারণ, ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা এবং পারফরম্যান্স সব সময় একরকম থাকে না। তিনি বলেন, ‘আমি সারাবছর একইভাবে কঠোর পরিশ্রম করি। আমি কোনো সিরিজের জন্য হঠাৎ করে প্রস্তুত হই না, কারণ আমার জীবনযাপনই এমন।’
নতুন করে খুঁজে পাওয়া আনন্দ
কোহলি স্বীকার করেছেন যে, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তিনি যেন আবার নতুন করে ক্রিকেটকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন। ছোটবেলার মতো মাঠে ডাইভ দেওয়া, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা এবং কেবল নিজের আনন্দের জন্য খেলা—এটাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি এখন খেলার আনন্দ পাওয়ার জন্য খেলি, কাউকে কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়।’
বিরাট কোহলির এই বক্তব্য আধুনিক ক্রিকেটে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মানসিক পরিপক্কতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাফল্যের শীর্ষে থেকেও নিজের আত্মসম্মান এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা কতটা জরুরি। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তার এই বার্তা স্পষ্ট যে, যতদিন তিনি মাঠে থাকবেন, ততদিন তিনি নিজের শর্তে এবং খেলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকেই অবদান রেখে যাবেন।
0 Comments