গুজরাট টাইটানসের নতুন তুরুপের তাস জেসন হোল্ডার
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে গুজরাট টাইটানসের (GT) পথচলা শুরু হয়েছিল কিছুটা ধীরলয়ে। কিন্তু মরশুমের সপ্তম ম্যাচে জেসন হোল্ডারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরই যেন চেনা ছন্দে ফিরেছে দলটি। গত ছয়টি ম্যাচে হোল্ডার নিজের জাত চিনিয়েছেন, নিয়েছেন ১৩টি উইকেট। এই ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় তুলে নিয়ে গুজরাট এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থাকার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার
৩৪ বছর বয়সী জেসন হোল্ডারের এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। গত বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৯৯ উইকেট নিয়ে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। গুজরাট টাইটানস ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পেরেছিল যে, গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটিংয়ের চেয়ে হোল্ডারের টেস্ট-শৈলীর সিম বোলিং দলের জন্য অনেক বেশি কার্যকর। এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আজ প্রমাণিত। হোল্ডার দলে আসার পর গুজরাটের প্রথম একাদশ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় হোল্ডারের প্রভাব
ইএসপিএনক্রিকইনফোর এমভিপি (MVP) চার্টেও হোল্ডারের প্রভাব স্পষ্ট। আইপিএল ২০২৬-এ হোল্ডার সামগ্রিকভাবে ১৮তম স্থানে রয়েছেন এবং গুজরাট টাইটানসের খেলোয়াড়দের মধ্যে কাগিসো রাবাদার পরেই তার অবস্থান। যদি অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকা দেখা হয়, তবে হোল্ডার ১১তম স্থানে উঠে আসেন। অন্যদিকে, গ্লেন ফিলিপস এই তালিকায় বেশ পিছিয়ে রয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে হোল্ডারকে দলে নেওয়া ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের সেরা কৌশলগুলোর একটি।
চাপ ধরে রাখার মাস্টারক্লাস
গুজরাট টাইটানসের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট, বিক্রম সোলাঙ্কি মনে করেন যে হোল্ডারের সবচেয়ে বড় অবদান হলো নতুন বলের বোলার কাগিসো রাবাদা এবং মোহাম্মদ সিরাজ যে চাপ তৈরি করেন, তা ধরে রাখা। সোলাঙ্কি বলেন, ‘জেসন দলে আসার পর থেকে বল হাতে দুর্দান্ত কাজ করছে। আমাদের ওপেনিং বোলাররা যে ভালো সূচনা এনে দেয়, সেই চাপটা বজায় রাখার জন্য জেসনই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।’
দলের শক্তির উৎস
হোল্ডার কেবল বোলিংয়েই নয়, মাঠের ভেতরেও তার অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ দিয়ে সতীর্থদের সাহায্য করছেন। কোলকাতার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সোলাঙ্কি আরও বলেন, ‘জেসনের খেলার গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার উপস্থিতি দলের অন্য বোলারদের—যেমন প্রাসিধ কৃষ্ণা বা রশিদ খানকে—মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট পেতে সাহায্য করছে। সে আমাদের দলের জন্য একজন সত্যিকারের সম্পদ।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন সমীকরণ
বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যখন ব্যাটারদের জয়জয়কার, তখন জেসন হোল্ডারের মতো বোলারদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তিনি রান দেওয়ার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক জায়গায় বল ফেলার ওপর জোর দেন। গুজরাট টাইটানস বরাবরই এমন বোলারদের খোঁজ করে যারা অভিজ্ঞ, খেলার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম এবং প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ বজায় রাখতে পারে। জেসন হোল্ডার এই তিনটি গুণই ধারণ করেন।
গুজরাট টাইটানসের এই চমকপ্রদ সাফল্যের পেছনে জেসন হোল্ডার হয়তো প্রচারের আলোয় কিছুটা কম থাকলেও, তার ভূমিকা এখন অনস্বীকার্য। দলের বোলারদের মধ্যে তিনি যেভাবে ছন্দ বজায় রাখছেন, তাতে টুর্নামেন্টের বাকি অংশেও তার কাছ থেকে দারুণ পারফরম্যান্স আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন প্লে-অফের দিকে, যেখানে হোল্ডারের এই অভিজ্ঞতাই গুজরাটকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখাতে পারে।
0 Comments