[CRK] আইপিএল ২০২৬: ইডেন গার্ডেন্সের পিচকেই সাফল্যের চাবিকাঠি বললেন বরুণ চক্রবর্তী
[CRK]
বরুণের জাদুকরী প্রত্যাবর্তন এবং ইডেনের পিচ
আইপিএল ২০২৬-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম জয়ের ম্যাচে বরুণ চক্রবর্তী তার ৩/১৪ বোলিং ফিগার দিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন। তবে কোনো ব্যক্তিগত অহমিকা বা বড়াই করতে নারাজ এই রহস্য স্পিনার। বরং তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, ইডেন গার্ডেন্সের ধীরগতির পিচ তার এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
পিচের ভূমিকা ও স্পিনারদের কার্যকারিতা
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বরুণ বলেন, ‘আমি কোনো বড় দাবি করতে চাই না। আজকের পিচটি স্পিনারদের জন্য সহায়ক ছিল বলেই আমরা সফল হতে পেরেছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যখন উইকেট ধীরগতির হয়, তখনই মূলত স্পিনাররা ম্যাচে ফিরতে পারেন। এর আগের ম্যাচগুলোতে দেখেছি পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল, তখন সবারই রান খরচ হয়েছে। পিচ সাহায্য করলেই কেবল একজন বোলার তার সেরাটা দিতে পারে।’
ম্যাচের মোড় ঘোরানো বোলিং স্পেল
রাজস্থান রয়্যালসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে বরুণের বোলিং ছিল দেখার মতো। যখন রাজস্থান আট ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৯ রান তুলে ফেলেছিল, তখন বরুণই দলের ত্রাতা হয়ে আসেন।
- বৈভব সূর্যবংশীর উইকেট: ইনিংসের শুরুতেই সেট হয়ে যাওয়া বৈভবকে ফেরাতে তার মাত্র চারটি বল লেগেছিল। নিখুঁত লাইনের ডেলিভারিতে বৈভবের ভুল শট এবং ক্যাচ আউট হওয়া ছিল ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট।
- ধ্রুব জুরেলের স্টাম্পিং: চাপে থাকা জুরেল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বরুণের ক্ষুরধার বোলিংয়ের সামনে পরাস্ত হন এবং স্টাম্পড হন।
- রিয়ান পরাগের বোলিং বোল্ড: ১৫তম ওভারে গোওলির সাহায্যে রিয়ান পরাগের স্টাম্প ছিটকে দিয়ে বরুণ তার স্পেলের ইতি টানেন।
কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতা
গত দুই মাস ধরে বরুণের বোলিং গতি এবং তার ‘রহস্য’ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, তিনি খুব দ্রুত বল করছেন এবং উইকেটের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছেন। কিন্তু কঠিন সময়ে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট তাকে আগলে রেখেছিল।
বরুণ বলেন, ‘কোচিং স্টাফের অবদানই সবচেয়ে বেশি। বাইরের অনেক অযৌক্তিক সমালোচনা ছিল, কিন্তু তারা সেই সব আওয়াজ আমাদের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঠিক ছিল বলেই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি।’
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও আত্মবিশ্বাস
যদিও ইডেনে বরুণ তার ছন্দ ফিরে পেয়েছেন, তবে পরবর্তী চারটি ম্যাচই কেকেআর খেলবে অ্যাওয়ে ম্যাচে, যেখানে পিচ হয়তো ব্যাটিং সহায়ক হতে পারে। এই বিষয়ে বরুণ বেশ বাস্তববাদী। তিনি মনে করেন, পিচে সাহায্য না থাকলে বোলাররা বিভ্রান্ত হতে পারে, যা ক্রিকেটেরই অংশ। তবে রবিবার ইডেনে পাওয়া এই সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
বরুণ আরও বলেন, ‘যখন পিচে সাহায্য থাকে, আমি আমার শক্তির জায়গা অর্থাৎ স্টাম্প টু স্টাম্প বল করার ওপর জোর দিই। কিন্তু পিচ যখন ফ্ল্যাট হয়, তখন সব বোলারই বিভ্রান্ত বোধ করে। এটি ক্রিকেটেরই অংশ। তাই একটি ম্যাচ দিয়ে কারো বিচার করা ঠিক নয়।’
কেকেআর ভক্তদের জন্য বরুণের এই ফিরে আসা দলের বোলিং আক্রমণের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। সামনের ম্যাচগুলোতেও তিনি এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
