[CRK] ব্রেন্ডন ডগেট কি ফিরছেন অ্যাশেজে? শেফিল্ড শিল্ডে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নির্বাচকদের নজরে
[CRK]
অ্যাশেজের ডাকের অপেক্ষায় ব্রেন্ডন ডগেট
অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিংয়ের গভীরতা বাড়াতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩১ বছর বয়সী পেসার ব্রেন্ডন ডগেট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি বিশ্বাস করেন যে, অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা যখন দল ঘোষণা করবেন, তখন তার নাম সেখানে থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার এই দল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে এবং ডগেট মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন।
হ্যামস্ট্রিংয়ের সামান্য চোট কাটিয়ে শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটে ফিরেছেন ডগেট। ফিরেই তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন, তবুও ডগেটের সরাসরি একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড এবং স্কট বোল্যান্ডের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের ব্যাকআপ হিসেবেই তাকে স্কোয়াডে রাখা হতে পারে। তবে ডগেট মনে করেন, ডাক পেলে তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি।
শেফিল্ড শিল্ডে বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তন
গত সপ্তাহে পার্থের বিখ্যাত ওয়াকা (WACA) গ্রাউন্ডে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ডগেট। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রানে ১ উইকেট শিকার করেন তিনি। মে মাসের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচ। উল্লেখ্য যে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে কাপের একটি ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। ফলে শিল্ডের প্রথম দুই রাউন্ডে তিনি খেলতে পারেননি।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ডগেট বলেন, “ব্যাটিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়াটা আমার জন্য ছিল দুর্ভাগ্যজনক। তবে আমি রিহ্যাব প্রক্রিয়ায় মনোযোগী ছিলাম এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে ফেরার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। ৬ উইকেট পাওয়াটা ছিল সঠিক সময়ে সঠিক কাজ। তবে আমি মাঠে ফিরে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে বেশি খুশি।”
পরিসংখ্যানের পাতায় ডগেটের জয়গান
ব্রেন্ডন ডগেট গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ফ্ল্যাট বা ব্যাটিং সহায়ক পিচে তার গতি এবং বাউন্স তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। গত বছরের শেফিল্ড শিল্ড ফাইনালে কারেন রোলটন ওভালের ব্যাটিং স্বর্গে তিনি ১১ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াকে ২৯ বছর পর শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিলেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডগেট তার শেষ ১২টি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচে ২০.৪০ গড়ে ৫৭টি উইকেট নিয়েছেন। তার স্ট্রাইক-রেটও চমকপ্রদ—মাত্র ৩৯.৫। এই সময়ের মধ্যে তিনি চারবার ইনিংসে ৬ উইকেট এবং দুবার ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন নির্বাচকরা তাকে নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবছেন।
ডরহামে খেলার অভিজ্ঞতা ও জাতীয় দলের হাতছানি
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের রাডারে ডগেট নতুন কেউ নন। ২০১৮ সালে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি প্রথমবার টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন। তবে ইনজুরি এবং ফর্মের কারণে তিনি পিছিয়ে পড়েন। এরপর ঝাই রিচার্ডসন বা মাইকেল নেসারের মতো বোলাররা অভিষেক করার সুযোগ পেলেও ডগেটকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডরহামের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সেখানে ৯টি উইকেট নিলেও চোটের কারণে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চেয়েছিল তিনি যেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ফিট থাকেন। ডগেট বলেন, “ডরহামের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। কন্ডিশন একেবারেই ভিন্ন ছিল এবং সেটি আমার জন্য বড় একটি লার্নিং কার্ভ ছিল।”
কোচ রায়ান হ্যারিসের প্রভাব
ব্রেন্ডন ডগেটের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার এবং বর্তমান দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া কোচ রায়ান হ্যারিসের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডগেটের মতে, গত ১২ মাসে হ্যারিস তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করেছেন। “রাইনো (হ্যারিস) আমাদের প্রতি খুবই প্যাশনেট। তিনি আমাকে আমার শক্তির জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করতে শিখিয়েছেন। নতুন বলে সুইং করানো বা আগ্রাসী বোলিং—সবক্ষেত্রেই তিনি আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন,” বলেন ডগেট।
অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং গভীরতা ও ডগেটের ভূমিকা
২০২১ সালের বক্সিং ডে টেস্টে স্কট বোল্যান্ডের অভিষেকের পর অস্ট্রেলিয়া তাদের টেস্ট দলে নতুন কোনো পেসারকে সুযোগ দেয়নি। কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউড ত্রয়ী দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। তবে অ্যাশেজের মতো বড় সিরিজে ব্যাকআপ পেসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ডগেট তার উচ্চতা এবং নতুন বলে সুইং করানোর ক্ষমতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার পেস অ্যাটাককে আরও বৈচিত্র্যময় করতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত বুধবার নির্বাচকরা কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ডগেটের ভাগ্য। তবে ডগেট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই সুযোগের অপেক্ষায় আছি। যদি ফোন আসে, আমি প্রস্তুত থাকব।” অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই প্রতিভাবান পেসারের টেস্ট ক্যাপ দেখার জন্য।
