[CRK] SRH vs CSK IPL 2026: মালিংগা ও রেড্ডির দাপটে লক্ষ্যভ্রষ্ট চেন্নাই, রোমাঞ্চকর জয় সানরাইজার্সের
[CRK]
অখ্যাত তারকাদের দাপটে দিশেহারা চেন্নাই: হায়দ্রাবাদে রোমাঞ্চকর জয় SRH-র
আইপিএল ২০২৬ মরসুমের রান-স্নানে যখন সব দলই বড় স্কোর গড়ছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। ১৯৪ রানের একটি মাঝারি মানের লক্ষ্য রক্ষা করে ১০ রানের নাটকীয় জয় পেল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH)। এই জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠলেন দলের চারজন এমন বোলার, যাদের কথা হয়তো খুব বেশি আলোচনা হয়নি, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তারা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বিপরীতে, শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)।
ম্যাচের প্রথম পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পর পূর্বাভাস ছিল যে প্রথম ইনিংসের স্কোর ২৩৭ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু জেমি ওভারটন, আনশুল কাম্বোজ এবং গুরজাপনীত সিংয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সেই সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করে দেয়। চেন্নাইকে ১৯৪ রানের লক্ষ্য দেওয়া হয়। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে হাতে সাত উইকেট রেখে ৮৪ রান প্রয়োজন ছিল সিএসকে-র, যা গত আট বছরের হিসেবে তাদের জন্য খুব কঠিন লক্ষ্য ছিল না। তবে ইশান মালিংগা, নীতিশ কুমার রেড্ডি, শিভং কুমার এবং সাকিব হোসেনের বোলিং আক্রমণ চেন্নাইয়ের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং
ম্যাচের শুরুতেই ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা। চেন্নাই বিশেষ কৌশল নিয়ে এসেছিল অভিষেকের জন্য, যেখানে অফস্পিনার ম্যাট শর্টকে আনা হয়েছিল ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেকের উইকেট নিতে। প্রথম দুই ওভারে সেই কৌশল কাজ করলেও তৃতীয় ওভারে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। অভিষেক তার ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করে লেগ সাইডে জায়গা তৈরি করেন এবং মাত্র ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ম্যাট শর্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান তিনি, যা SRH-কে একটি শক্তিশালী ভিত দেয়।
ওভারটন ফ্যাক্টর ও ক্লাসেনের বিচক্ষণতা
মধ্যম ওভারে জেমি ওভারটন হয়ে ওঠেন চেন্নাইয়ের জন্য ত্রাস। এই মরসুমে তিনি মধ্যম ওভারের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক। তার ‘হিট-দ্য-ডেক’ বোলিং স্টাইল সিএসকে ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলে। বিশেষ করে অভিষেকের উইকেট নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল অত্যন্ত ধারালো, যা ব্যাটারের বাইরের প্রান্ত দিয়ে গিয়ে কিপারের হাতে চলে যায়।
অন্যদিকে, হেনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটিংয়ে দেখা গেল এক নতুন কৌশল। গত তিন আইপিএল মরসুমে তার স্ট্রাইক রেট ১৭০-এর উপরে থাকলেও, এবার তিনি কিছুটা সতর্ক ব্যাটিং করছেন। তবে সতর্কতার মানে এই নয় যে তিনি আক্রমণ ছেড়ে দিয়েছেন। নূর আহমদের বিরুদ্ধে একটি দুর্দান্ত ‘সুইচ হিট’ করে তিনি প্রমাণ করেন যে রিস্টস্পিনারের বিরুদ্ধে তিনি এখনও সমান ভয়ঙ্কর। ক্লাসেনের ৫৯ রানের মধ্যে ২৪ রানই এসেছে নূরের বিরুদ্ধে, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৫।
ডেথ ওভারে কাম্বোজ ও গুরজাপনীতের ম্যাজিক
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বোলিংয়ে এক অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা দেখাল সানরাইজার্স। আনশুল কাম্বোজ এবং গুরজাপনীত সিং মিলে শেষ ১৬ বলে চেন্নাইকে খুব সামান্য রান দিতে সক্ষম হন। বিশেষ করে কাম্বোজের নিখুঁত ইয়র্কারগুলো ক্লাসেনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারকেও স্তব্ধ করে দেয়। শেষ ১৮ বলে চেন্নাই মাত্র ১৭ রান করতে পেরেছে, যা এই টুর্নামেন্টে গুজরাট টাইটানসের পর দ্বিতীয় সেরা ডেথ বোলিং পারফরম্যান্স।
আয়ুষ মহাটরে: জয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত
চেন্নাইয়ের ইনিংসে শুরুর দিকে ঝড় তুলেছিলেন তরুণ আয়ুষ মহাটরে। পাওয়ারপ্লেতে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সিএসকে-কে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। প্রফুল হিঞ্জকে একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কায় শাসন করে তিনি প্রমাণ করেন কেন তিনি এই মরসুমের উদীয়মান তারকা। তবে ভাগ্যের পরিহাসে, রুতুরাজ গায়কওয়াদ ও মহাটরের মধ্যে একটি দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মহাটরে বাম পায়ে গুরুতর চোট পান।
মহাটরের এই চোটের পর চেন্নাইয়ের ব্যাটিং ছন্দ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ডাগআউটে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং এবং মাইক হাসির চিন্তিত মুখ বলে দিচ্ছিল যে দলের মোমেন্টাম কোথায় চলে গেছে। মহাটরে আউট না হয়েও মাঠ ছাড়ায় সিএসকে পরবর্তী ৮.৪ ওভারে মাত্র ৫৮ রান করতে পারে এবং চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায়।
ইশান মালিংগার চূড়ান্ত আঘাত
ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে ইশান মালিংগা হয়ে ওঠেন যেন এক দেওয়াল। রুতুরাজ গায়কওয়াদকে বাউন্সারে আউট করার পর তিনি তার নিখুঁত ইয়র্কার দিয়ে ম্যাট শর্ট এবং সরফরাজ খানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। মালিংগার রিভার্স সুইং এবং সঠিক লেন্থ চেন্নাইয়ের শেষ আশাগুলো মুছে দেয়।
শেষ পর্যন্ত শিভাম ডুবের ব্যর্থ ফিনিশিং এবং মেগা অকশনের ত্রুটিপূর্ণ কৌশল সিএসকে-কে আবারও পরাজয়ের মুখে ঠেলে দিল। ১০ রানের এই জয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জন্য কেবল একটি জয় নয়, বরং তাদের অখ্যাত বোলারদের আত্মবিশ্বাসের এক বিশাল জয়।
- সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: ১৯৪/৯ (অভিষেক ৫৯, ক্লাসেন ৫৯; কাম্বোজ ৩-২২, ওভারটন ৩-৩৭)
- চেন্নাই সুপার কিংস: ১৮৪/৮ (শর্ট ৩৪, মহাটরে ৩০; মালিংগা ৩-২৯, রেড্ডি ২-৩১)
- ফলাফল: সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ১০ রানে জয়ী।
