[CRK] দক্ষিণ আফ্রিকার দাপটে হোঁচট ভারত: সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে নীল জার্সিধারীরা
[CRK]
দক্ষিণ আফ্রিকার দাপুটে জয়: সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ভারত
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দ্বিতীয়বার লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের ১৪৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে অতিক্রম করে তারা সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ম্যাচটির গতিপ্রকৃতি ছিল প্রথম ম্যাচের মতোই; ভারত এক সময় শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও মধ্যতারে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে ভারত ১৩ ওভারের মাথায় ৯৯ রানে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েছিল। তখন মনে হচ্ছিল ভারত সহজেই ১৬০ বা তার বেশি রান সংগ্রহ করবে। কিন্তু এরপর শুরু হয় নাটকীয় পতন। মাত্র ৪৮ রানের ব্যবধানে তারা ৮টি উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানেই থেমে যায়। ভারতীয় শিবিরের হয়ে একমাত্র শফালি বর্মা (৫৭) এবং অভিষিক্ত অনুষ্কা শর্মা (২৮) ২০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে টুমি সেখুখুনে এবং ক্লোয়ি ট্রায়ন উভয়েই ৩টি করে উইকেট নেন, আর ননকুলুলেকো ম্লাবা তার ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন।
শফালি বর্মার মাইলফলক ও বিধ্বংসী ব্যাটিং
মাত্র ২২ বছর বয়সে ১০০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ড গড়লেন শফালি বর্মা। ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই তারকা ওপেনার তার আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের চাপে রেখেছিলেন। ম্যাচের চতুর্থ বলেই সেখুখুনের ডেলিভারিকে ছক্কায় পরিণত করে তিনি তার শক্তির জানান দেন। সেখুখুনের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম তিনটি বলে ১৪ রান তুলে নিয়ে তিনি মাঠ কাঁপিয়ে দেন।
তবে শফালির এই ইনিংসটি কিছুটা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২৮ রানে থাকা অবস্থায় সেখুখুনের একটি বল লং-অনে গিয়েছিল, কিন্তু অধিনায়ক সুনে লুস সেটি ক্যাচ মিস করেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শফালি তার ক্যারিয়ারের ১৫তম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মাত্র ৩১ বলে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৭ রানে আউট হন, যখন তিনি ম্লাবার বলটি ড্রাইভ করে নাদিন ডি ক্লারকের হাতে ক্যাচ দেন।
মাঠের লড়াই: দক্ষিণ আফ্রিকার মিশ্র পারফরম্যান্স
ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল বেশ হতাশাজনক। শফালির মতো একজন ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যানের ক্যাচ মিস করা যেমন মারাত্মক ছিল, তেমনি তারা অভিষিক্ত অনুষ্কা শর্মাকেও দুইবার ক্যাচ মিস করে। ম্লাবা একবার নিজের বলে এবং একবার ডার্কসেনের বলে অনুষ্কাকে আউট করার সুযোগ হারান। তবে পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিংয়ে দৃশ্যত পরিবর্তন আসে।
লরা উলভারডট দারুণ ক্ষিপ্রতার সাথে রিচা ঘোষকে মাত্র ৩ রানে আউট করেন। এরপর অরুন্ধতী রেডির একটি ড্রাইভের সুযোগ মিস করলেও ডার্কসেন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ভারতীয় অধিনায়ককে রান আউট করতে সাহায্য করেন। এরপর সিনালে জাফতা স্টাম্পের সামনে নিখুঁত পজিশন নিয়ে ডার্কসেনের থ্রো থেকে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে হারমানপ্রীত কৌরকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। সবশেষে ডি ক্লার্কের একটি দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিংয়ের মানকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
উলভারডট ও লুসের বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ওপেনিং কম্বিনেশনে সঠিক সমাধান খুঁজে পেয়েছে বলে মনে হয়। লরা উলভারডট এবং সুনে লুস ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো একসাথে নেমে ১০৬ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ।
উলভারডট তার চিরচেনা অফ-সাইড শটগুলোর প্রদর্শনী করে ১৫তম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, অধিনায়ক সুনে লুস অন-সাইডে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। যদিও জয়ের ঠিক ২৪ রান আগে তারা আউট হয়ে যান, কিন্তু তাদের এই জুটি ভারতকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাজমিন ব্রিটস এবং অ্যানেরি ডার্কসেন ১৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন।
ভারতীয় বোলিং আক্রমণের ব্যর্থতা
ম্যাচের এই পর্যায়ে ভারতের বোলিং পরিবর্তনগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। সিমোর ক্রান্তি গৌড় তার প্রথম দুই ওভারে ২০ রান দিয়ে চাপে পড়ে যান। অন্যদিকে, বামহাতি স্পিনার শ্রী চরণী দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। লুস ও উলভারডট অত্যন্ত দক্ষভাবে সুইপ শট এবং পায়ের মুভমেন্ট ব্যবহার করে তাকে আক্রমণ করেন। চরণী তার ৪ ওভারে ৩৯ রান খরচ করেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পথকে আরও সহজ করে দেয়।
সব মিলিয়ে, ব্যাটিং বিপর্যয় এবং বোলিংয়ে পরিকল্পনার অভাব ভারতকে এই ম্যাচে পরাজিত করেছে। এখন হাইভেল্ডে যাওয়ার আগে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানো এবং সিরিজে লড়াই ধরে রাখা।
