[CRK] টম অ্যাবেলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে হ্যাম্পশায়ারকে হারাল সামারসেট | কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ
[CRK]
টম অ্যাবেলের বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি: হ্যাম্পশায়ারকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল সামারসেট
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান মরসুমে নিজেদের অপরাজেয় ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর সামারসেট। এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে টম অ্যাবেলের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে হ্যাম্পশায়ারকে ২ উইকেটে পরাজিত করে এক গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নিল তারা। এই ম্যাচে টম অ্যাবেলের ক্যারিয়ারের ২২তম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরিটি ছিল দলের জন্য এক সঞ্জীবনী সুধার মতো, যা সামারসেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
সামারসেট: প্রথম ইনিংসে ২৮৮ রান (জেমস রিউ ৮৬) এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৮৮ রান (টম অ্যাবেল ১০১*, জেমস রিউ ৫৯, সনি বেকার ৫-৬২)।
হ্যাম্পশায়ার: প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রান (জেক লেহম্যান ৭৬) এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৬ রান (গাবিন্স ৮৩, ব্রাউন ৬৬, লেহম্যান ৫০, গ্রেগরি ৫-৪২)।
ফলাফল: সামারসেট ২ উইকেটে জয়ী।
চূড়ান্ত দিনের নাটকীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ
শেষ দিনে জয়ের জন্য সামারসেটের প্রয়োজন ছিল ১৪৮ রান। আপাতদৃষ্টিতে লক্ষ্যটি সহজ মনে হলেও, মাঠের পরিস্থিতি এবং হ্যাম্পশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচটিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছিল। সামারসেট শুরু থেকেই ‘ধীর এবং স্থির’ (slow and steady) কৌশলে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে হ্যাম্পশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।
দিনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। প্রথম ১৬ মিনিটে মাত্র ২ রান যোগ করা হয়। এরই মধ্যে দলের বড় আশা জেমস রিউ আউট হয়ে ফিরে যান। রিউ এই মরসুমে দারুণ ফর্মে আছেন এবং ৫টি ইনিংসে তার গড় ৭৫.৮। তবে এই ম্যাচে দুর্ভাগ্যবশত তার ইনিংসটি ৫০ থেকে ১০০ রানের মধ্যবর্তী সীমানায় থেমে যায়। রিউ এবং অ্যাবেল মিলে লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ রান কমিয়েছিলেন, কিন্তু রিউ-এর প্রস্থানে দলের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়।
বোলিং লড়াই এবং চাপের মুহূর্ত
হ্যাম্পশায়ারের বোলাররা বিশেষ করে রড ব্রানসগ্রোভ প্যাভিলিয়ন এন্ড থেকে বোলিং করার সময় ভ্যারিয়েবল বাউন্স তৈরি করে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেছিল। প্রথম এক ঘণ্টায় মাত্র ৩৪ রান ওঠে এবং লাঞ্চের আগে স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ৮৪ রান।
উইল স্মিড একবার জীবনদান পান যখন কোডি ইউসুফ একটি ক্যাচ মিস করেন। তবে পরবর্তীতে জেক লেহম্যান একই পজিশনে দাঁড়িয়ে ভুল করেননি এবং স্মিডকে আউট করেন। স্মিড এবং অ্যাবেলের ৪৯ রানের জুটি সামারসেটকে সঠিক পথে রেখেছিল, কিন্তু ক্রেগ ওভারটনের বোল্ড হওয়ার পর মনে হয়েছিল হ্যাম্পশায়ার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে।
টম অ্যাবেলের অবিচল লড়াই এবং চূড়ান্ত জয়
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে যখন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে গ্রেগরি ক্রিজে আসেন, তখন জয়ের জন্য আরও ৯১ রান বাকি ছিল। পরিস্থিতি ছিল অনিশ্চিত। লাঞ্চের আগে টম প্রেস্টের এক ওভারে তিনটি ক্যাচিং সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা ম্যাচটিকে আরও টানটান করে তোলে। তবে সামারসেটের ক্রিকেটারদের মনে ছিল দীর্ঘ ১৩৫ বছরের অপেক্ষা শেষ করে প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
হ্যাম্পশায়ারের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়ান সনি বেকার। দ্বিতীয় নতুন বল আসার পর তিনি তার পুরনো কাউন্টির বিরুদ্ধে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। তিনি গ্রেগরির মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলে ৬৫ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দেন এবং পরের ওভারেই অ্যালফি ওগবোর্নকে আউট করেন। সনি বেকার এই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে অসাধারণ লড়াই করেন।
তবে এই সমস্ত ঝড় সামলে অবিচল ছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক টম অ্যাবেল। ২২৯টি বল মোকাবেলা করে এবং ৩১৪ মিনিট ক্রিজে থেকে তিনি তার ধৈর্য ও মানসিক শক্তির পরিচয় দেন। পুরো ইনিংসে মাত্র ৮টি বাউন্ডারি মেরে তিনি তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত মিডউইকেটের মধ্য দিয়ে একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি সামারসেটের জয় নিশ্চিত করেন।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান অবস্থা
এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে সামারসেট ২০ পয়েন্ট অর্জন করেছে। ফলে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে এবং নটিংহামশায়ার ও সাসেক্সের চেয়ে ২১ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছে। মরসুমের শুরুতে দুটি অ্যাওয়ে জয় এবং একটি ড্র করার পর এই জয় তাদের শিরোপার দৌড়ে অনেক এগিয়ে দিল।
- সেরা পারফর্মার (সামারসেট): টম অ্যাবেল (১০১*), জেমস রিউ (৮৬ ও ৫৯), গ্রেগরি (৫-৪২)।
- সেরা পারফর্মার (হ্যাম্পশায়ার): সনি বেকার (৫-৬২), গাবিন্স (৮৩)।
