[CRK] দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ভারত: উলভার্ড্ট ও ডার্কসেনের দাপটে জয় প্রোটিয়া নারীদের
[CRK]
ব্যাটিং বিপর্যয় এবং ফিল্ডিংয়ের ভুলে হার ভারতের
ডারবানের উষ্ণ সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার নারী দল তাদের পঞ্চম সর্বোচ্চ সফল টি-টোয়েন্টি রান তাড়া করে ভারতের বিপক্ষে এক দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ১৫৭ রানে ৭ উইকেট হারালেও, প্রোটিয়া নারীরা মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে ম্যাচটি জিতে নেয়। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
ম্যাচের শুরুতে ভারত বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। ১৫তম ওভার পর্যন্ত ভারতের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১১৯ রান। কিন্তু শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ভারত ১৬০ রানের নিচে আটকে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচ বল বাকি রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ভারতের ব্যাটিং: শুরুটা ভালো হলেও শেষটা হতাশাজনক
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারতের ওপেনিং জুটি শুরুতেই ৪৬ রান যোগ করে। এরপর জেমিমা রড্রিগেজ এবং হারমানপ্রীত কৌর তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৭১ রানের একটি মজবুত জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ৩৩ রান যোগ করতে পারে এবং এই সময়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট হারিয়ে ফেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আয়াবোঙ্গা খাকা এবং টুমী সেখুখুনে যৌথভাবে পাঁচটি উইকেট দখল করেন। এছাড়া ঘরের মাঠে খেলা বামহাতি স্পিনার নুনুকুলেখো ম্লাবা ৩০ রানে ১ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন।
শেফালী ভার্মা এবং শর্ট বলের লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই শেফালী ভার্মা তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। মাত্র চার বলের মধ্যেই তিনি তার শক্তির পরিচয় দেন। সুনে লুসের একটি ভুল লেংথ বলকে মিড-অফ এর ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি। তবে খাকা দ্রুতই শেফালীকে শর্ট বলে পরীক্ষা করতে শুরু করেন। শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও শেফালী দ্রুত মানিয়ে নেন এবং শর্ট ফাইন লেগের মধ্য দিয়ে চার রান সংগ্রহ করেন।
শেফালী মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রান করেন, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০। এটি গত পাঁচ ম্যাচে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তবে সেখুখুনের একটি শর্ট বল মিস হিটে মিডউইকেটে তাজমিন ব্রিটসের হাতে আউট হয়ে যান তিনি। পাঁচ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৪৬ রান।
খাকার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্রেকথ্রু
খাকা কেবল শুরুতেই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে ভারতকে চাপে রেখেছিলেন। স্মৃতি মান্ধানা একটি ফুল ওয়াইড বল খেলতে গিয়ে এক্সট্রা কভারের দিকে বল পাঠিয়ে উলভার্ড্টের হাতে আউট হন। ফলে পাওয়ারপ্লের শেষে ভারত ২ উইকেটে ৪৮ রানে ছিল।
জেমিমা-হারমানপ্রীতের জুটি ভাঙার পর খাকা পুনরায় ফিরে আসেন এবং রিচা ঘোষকে আউট করেন। রিচার একটি বড় শট খেলার চেষ্টা থাকলেও ডিপ মিডউইকেটে অ্যানিক বশ দারুণ ক্যাচ ধরে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। শেষ ওভারে খাকা আরও একটি উইকেট নিয়ে তার স্পেল শেষ করেন। তার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান ছিল ৪ ওভার, ১৬ রান এবং ৩ উইকেট। চলতি বছর পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তিনি টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
লরা উলভার্ড্টের অধিনায়কত্ব ও ব্যাটিং ক্লাস
টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ড্ট শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ৩৯ বলে ৫১ রান করে তিনি দলের ভিত্তি তৈরি করেন। তিনি এবং অ্যানেরি ডার্কসেন তৃতীয় উইকেটে ৫২ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। উলভার্ড্টের এই হাফ সেঞ্চুরির বিশেষত্ব ছিল তার লেগ-সাইড প্লে; তার ৫১ রানের মধ্যে ৩৫ রানই এসেছে অন-সাইড থেকে।
দীপ্তি শর্মার প্রথম ওভারেই তিনটি চার মেরে তিনি ভারতকে চাপে ফেলেন। যদিও পরে শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের বলে মিডউইকেটে আউট হন, তবে ততক্ষণে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে অ্যানেরি ডার্কসেন ৩৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
ভারতের মারাত্মক ভুল এবং ফিল্ডিং বিপর্যয়
ম্যাচটি ভারত জিততে পারত যদি তারা মাঠে আরও সতর্ক থাকত। ভারতের ১৪টি ওয়াইড বল তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যা টি-টোয়েন্টিতে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়াইড সংখ্যা। এছাড়া ডেথ ওভারে ক্যাচ মিস করা ভারতের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।
- রেণুকা সিং: ১৮তম ওভারে ক্লোয় ট্রায়নের সহজ ক্যাচ মিস করেন।
- অনুষ্কা শর্মা: বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে থাকা অনুষ্কা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করেন।
- ওভার-রেট পেনাল্টি: ভারত স্লো ওভার-রেটের কারণে পেনাল্টি পায়, যার ফলে শেষ ওভারে তাদের রিংয়ে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডার রাখতে হয়।
শেষ মুহূর্তে ক্লোয় ট্রায়নের একটি ছক্কার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় নিশ্চিত করে। তবে রবিবারের দিবাগত ম্যাচে একই ভেন্যুতে ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। তারা যদি তাদের ফিল্ডিং এবং ডিসিপ্লিনের উন্নতি করতে পারে, তবে সিরিজে সমতা ফেরানো সম্ভব।
