[CRK] দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর জেমিমাহ রদ্রিগেজের হতাশা: ১৫ রান কম হয়েছে
[CRK]
ম্যাচ শেষে রদ্রিগেজের অকপট স্বীকারোক্তি
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ভারত হেরেছে ৫ বল বাকি থাকতেই। ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৫৭ রান, যা জেমিমাহ রদ্রিগেজের মতে ছিল ১৫ থেকে ২০ রান কম। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রদ্রিগেজ হারের নেপথ্যের কারণগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।
ব্যাটিং ব্যর্থতা ও সুযোগের সদ্ব্যবহার
জেমিমাহ রদ্রিগেজ এবং হরমনপ্রীত কৌরের জুটিতে যখন রান আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল ভারত ১৭৫ রানের গণ্ডি অনায়াসেই স্পর্শ করবে। কিন্তু ১৫তম ওভারে জেমিমাহ আউট হয়ে যাওয়ায় সেই ছন্দপতন ঘটে। রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমি ঠিক ভুল সময়ে আউট হয়ে গেছি। যখন আমাদের বড় সংগ্রহের জন্য ক্যাপিটালাইজ করার সময় ছিল, তখন আমি উইকেটে থাকতে পারিনি। সেট ব্যাটার হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল ইনিংসটি আরও গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।’
শুরুর ছন্দ ও মিডল অর্ডারের লড়াই
শেফালি ভার্মার ২০ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী শুরুর প্রশংসা করে রদ্রিগেজ বলেন, ‘শেফালি যেভাবে শুরু করেছিল তা চমৎকার। কিন্তু পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট পড়ে যাওয়াটা আমাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। এরপর হরমনপ্রীত এবং আমি জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা প্রত্যাশিত স্কোরে পৌঁছাতে পারিনি।’ হরমনপ্রীত কৌর অপরাজিত ৪৭ রান করলেও নিচের দিকের ব্যাটাররা খুব একটা অবদান রাখতে পারেননি, যা হারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বোলারদের পারফরম্যান্স ও পিচের আচরণ
পিচের কন্ডিশন সম্পর্কে রদ্রিগেজ জানান, প্রথম ইনিংসে উইকেট কিছুটা ধীরগতির ছিল এবং বল আটকে আসছিল। তবে তিনি বোলারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘শ্রেয়াঙ্কা পাটিল ও শ্রী চারণী দারুণ বোলিং করেছে। তারা ম্যাচটিকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স ইতিবাচক ছিল, কিন্তু আমাদের আরও নিখুঁত বোলিং করতে হতো।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য
সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় এই সিরিজটি ভারত দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১২ মাসে শীর্ষ সারির দলের বিপক্ষে (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা) ভারত ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই হেরেছে। যদিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জয় পরিসংখ্যানকে উজ্জ্বল করেছে, কিন্তু রদ্রিগেজ মনে করেন বড় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আগামী ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে রদ্রিগেজ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘পরের ম্যাচে আমরা জানি উইকেট কেমন আচরণ করবে। দিনের বেলা ম্যাচ হওয়ায় কন্ডিশন দুই দলের জন্যই সমান থাকবে। টসের প্রভাব এখানে কম থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা আমাদের বোলিংয়ের খুঁটিনাটি ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।’
ভারতীয় দলের অলরাউন্ডারদের সুযোগ পাওয়া এবং ম্যাচ টাইম বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে রদ্রিগেজ আরও বলেন, ‘আমাদের নিচের দিকের অলরাউন্ডারদের আরও বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কঠিন কন্ডিশনে খেলা আমাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াতে চাই।’
