আম্বাতি রায়ডু: KKR-এর বিপক্ষে SRH-এর ‘পরিকল্পনাহীন’ খেলা ও আত্মতৃপ্তি
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: আত্মতৃপ্তি ও পরিকল্পনাহীনতার কড়া সমালোচনা
আইপিএল ২০২৬-এর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)-এর কাছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ)-এর সাত উইকেটের বড় পরাজয় ক্রিকেট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আম্বাতি রায়ডু এসআরএইচ-এর এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে দলের আত্মতৃপ্তি এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছেন। টানা পাঁচটি জয়ের পর এসআরএইচ-কে সেই ছন্দহীন মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রায়ডু ভিন্নমত পোষণ করেন।
রায়ডুর সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ: ‘পরিকল্পনাহীনতা’ই হারের কারণ
ইএসপিএনক্রিকইনফো-এর ‘টাইমআউট’ অনুষ্ঠানে আম্বাতি রায়ডু সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার মতে, টানা পাঁচটি ম্যাচ জেতার পর দলটি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, “তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা টানা পাঁচ ম্যাচ জেতা একটি দল, কারণ তারা আত্মতৃপ্ত ছিল।” রায়ডু আরও যোগ করেন যে, এই আত্মতৃপ্তি এতটাই প্রকট ছিল যে, তারা ভেবেছিল কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই বা যেকোনো উপায়ে ম্যাচ জিতে যেতে পারবে। তার মতে, যখন কোনো দল জয়ের ধারায় থাকে, তখন তারা মনে করে সবকিছুই তাদের পক্ষে কাজ করবে। আর টুর্নামেন্টে ধুঁকতে থাকা একটি দলের বিপক্ষে খেলার সময় এই ধারণা আরও বেশি প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে, দিনের বেলায় হায়দ্রাবাদের উইকেটের প্রকৃতি সম্পর্কে এসআরএইচ-এর খেলোয়াড়দের অবগত থাকার কথা ছিল। রায়ডু ব্যাখ্যা করেন, “হায়দ্রাবাদে দুপুর বেলার খেলা মানে আপনারা জানেন যে বল থেমে থেমে আসে। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ উইকেট নয়। পরে অবশ্য উইকেট ভালো হয়। তাদের এটা জানা উচিত ছিল কারণ এই খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই কয়েক বছর ধরে বা তার বেশি সময় ধরে এখানে খেলছে। আমার মনে হয় শুরুতেই তাদের পরিকল্পনা ভুল ছিল।” এসআরএইচ টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা রায়ডুর মতে একটি ভুল পরিকল্পনা ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট হারানো: ভেট্টরির ব্যাখ্যা
এই হারের পরও পয়েন্ট টেবিলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পাঞ্জাব কিংসের (পিবিকেএস) গুজরাট টাইটানস (জিটি)-এর কাছে পরাজয়ের কারণে, এসআরএইচ এই ম্যাচ জিতলে শীর্ষে উঠে যেতে পারত। তবে তারা সেই সুযোগ হেলায় হারিয়েছে। দলের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট হারানোকে দায়ী করেছেন। তিনি বরুণ চক্রবর্তী (৩৬ রানে ৩ উইকেট) এবং সুনীল নারিন (৩১ রানে ২ উইকেট)-এর বোলিংয়ের কথা উল্লেখ করেন, তবে কার্তিক ত্যাগী (৩০ রানে ২ উইকেট)-এর অবদানও কম ছিল না। কেকেআর-এর ছয়জন বোলারের কেউই উইকেট ছাড়া ফেরেননি, যা তাদের সম্মিলিত বোলিং প্রচেষ্টার প্রমাণ।
ভেট্টরি বলেন, “আমরা চমৎকার শুরু করেছিলাম [পাওয়ারপ্লেতে ৭১ রানে ১ উইকেট] কিন্তু সেটিকে কাজে লাগাতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু উইকেট হারানোয় যখন ১৬৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে হয়, তখন ডিফেন্ড করা অবিশ্বাস্যভাবে কঠিন হয়ে পড়ে, যদিও উইকেট কিছুটা ধীর ছিল।” পাওয়ারপ্লেতে কেকেআর-ও একই স্কোর (৭১ রানে ১ উইকেট) করেছিল, যা থেকে বোঝা যায় এসআরএইচ-এর বোলাররাও লড়াই করার চেষ্টা করেছিল। তবে, ভেট্টরি ট্র্যাভিস হেড (নবম ওভারে), ইশান কিষাণ (ষোড়শ ওভারে) এবং হেনরিখ ক্লাসেন (একাদশ ওভারে)-এর উইকেটকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই উইকেটগুলো না পড়লে দল হয়তো ছন্দ ধরে রাখতে পারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোমেন্টাম ধরে রাখা কতটা জরুরি, সেই বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
কেটি মার্টিনের ভিন্ন দৃষ্টিকোণ: ‘নতুন শুরু’র প্রয়োজনীয়তা
‘টাইমআউট’ অনুষ্ঠানে আম্বাতি রায়ডুর মতো এতটা কঠোর না হলেও, কেটি মার্টিন এসআরএইচ-এর ব্যাটিংয়ে ‘চিন্তাভাবনার অভাব’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে, যখন তাদের দুই গুরুত্বপূর্ণ টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা (১৫) এবং ক্লাসেন (১১) ব্যর্থ হন, তখন দলটির দুর্বলতা প্রকাশ পায়। ট্র্যাভিস হেড (২৮ বলে ৬১) এবং ইশান কিষাণ (২৯ বলে ৪২) ১০৩ রান যোগ করলেও, অষ্টম ব্যাটসম্যান প্যাট কামিন্স (১০) ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
মার্টিন ব্যাখ্যা করেন, “আমার মনে হয় কখনও কখনও এমন দিন আসে, আর দেখুন, তাদের টপ-থ্রি ব্যাটসম্যানদের উপর অনেক বেশি নির্ভরতা রয়েছে। আমরা জিটি সম্পর্কে এত কথা বলি, কিন্তু তারা (এসআরএইচ)ও খুব কাছাকাছি।” তিনি মনে করেন, ইনিংসের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও একটু ‘চিন্তাভাবনা’র প্রয়োজন ছিল। যখন কোনো দল ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করে, তখন তারা হয়তো এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চলে যায়, যেখানে সবকিছু আপনাআপনি ঘটে যাবে বলে মনে করে। মার্টিনের মতে, সানরাইজার্স-এর জন্য এই ধরনের একটি পারফরম্যান্স হয়তো একটি ‘রিসেট’ বা নতুন করে শুরু করার সুযোগ এনে দিয়েছে, যাতে তারা তাদের মোমেন্টাম ফিরে পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও পরিকল্পিতভাবে খেলতে পারে। এই পরাজয় দলের জন্য একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হতে পারে, যা তাদের আত্মতৃপ্তি কাটিয়ে উঠে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে সাহায্য করবে।
