আইপিএল ২০২৬-এ রবি বিষ্ণোইয়ের কঠিন সময়
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি গায়ে রবি বিষ্ণোইয়ের যাত্রাটা হয়েছিল দুর্দান্ত। প্রথম চার ম্যাচে তার বোলিং জাদু প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বেশ ভোগান্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেললেন এই লেগ স্পিনার। সাম্প্রতিক চার ম্যাচে তার শিকার মাত্র দুটি উইকেট, আর ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ১০.৪৫ গড়ে। এই পারফরম্যান্সের জের ধরে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে তাকে। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ লেগ স্পিনার যশ রাজ পুঞ্জা।
অভিজ্ঞদের চোখে বিষ্ণোইয়ের বাদ পড়া
বিষ্ণোইকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভালোভাবে নেননি প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার অভিনব মুকুন্দ। তিনি মনে করেন, আইপিএলে যেসব দল ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে, তারা সবসময় তাদের মূল বোলারদের ওপর আস্থা রেখেছে। অভিনব বলেন, ‘রবি বিষ্ণোইয়ের মতো একজন বোলারকে ভালো পারফর্ম করার পরও বাদ দেওয়া তার আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমি রাজস্থান রয়্যালসের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারছি না।’
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার পীযূষ চাওলাও মনে করেন বিষ্ণোই ফর্মে ছিলেন এবং তাকে বাদ দেওয়াটা একটু বেশি কঠোর হয়ে গেল। যদিও যশ রাজ পুঞ্জা পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে ভালো বোলিং করেছেন এবং দুটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন, তবুও বিষ্ণোইয়ের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে বসিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
বিষ্ণোইয়ের সাম্প্রতিক ফর্ম ও লড়াই
লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ২০২৫ মৌসুমটি বিষ্ণোইয়ের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। গত মৌসুমে ১০.৮৩ ইকোনমি রেটে মাত্র ৯টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইপিএলের প্রতিটি মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিতে তিনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সময় কাটিয়েছেন, শারীরিক ও টেকনিক্যাল উভয় দিক থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
ভবিষ্যৎ পথচলা
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে বিষ্ণোই দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি ফর্মে ফিরেছেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, লেংথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাটাই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল। তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় রাজস্থান রয়্যালস যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বিষ্ণোইয়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিনব মুকুন্দ অবশ্য মনে করেন না যে লখনউ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়াটা ভুল ছিল, কারণ সেই সময়ে বিষ্ণোই সত্যিই খারাপ বোলিং করছিলেন। কিন্তু বর্তমান মৌসুমে তার পারফরম্যান্স এতটা খারাপ ছিল না যে তাকে দল থেকে বাদ দিতে হবে। এখন দেখার বিষয়, রাজস্থান রয়্যালসের এই সিদ্ধান্তের পর বিষ্ণোই কীভাবে তার আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করে মাঠে ফেরেন। ক্যারিয়ারের এই বাঁক বদলের মুহূর্তে তরুণ এই লেগ স্পিনারের মানসিক দৃঢ়তাই হতে পারে তার সাফল্যের মূল হাতিয়ার।
উপসংহার
আইপিএলের মতো হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের ওঠা-নামা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে একজন বোলারকে যেভাবে লালন করা হয়, তা দলের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। রাজস্থান রয়্যালস ম্যানেজমেন্ট বিষ্ণোইকে বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাসকে ধুলোয় মিশিয়ে না দেয়। এখন বল বিষ্ণোইয়ের কোর্টে, তিনি কীভাবে এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
0 Comments