জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের দুঃস্বপ্ন
আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের জন্য ঘরের মাঠ জয়পুর যেন এক অভিশপ্ত জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুয়াহাটির মাঠে তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেলেও, জয়পুরে এসে ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নিজেদের দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ডে রাজস্থান যেন কোনোভাবেই ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। কেন এমন হচ্ছে? ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলগত পারফরম্যান্সের অভাবই এর মূল কারণ।
কেন ব্যর্থ রাজস্থান?
দীপ দাসগুপ্তের মতে, রাজস্থান রয়্যালস সাম্প্রতিক সময়ে মোটেও ভালো ক্রিকেট খেলছে না। জয়পুরের মাঠটি রান পাওয়ার জন্য উপযুক্ত, কিন্তু সেই অনুযায়ী বোলিং বা ব্যাটিং কোনোটিই ঠিকঠাক হচ্ছে না। দলের ব্যাটিং লাইনআপ আগের মতোই টপ-অর্ডার নির্ভর রয়ে গেছে। ধ্রুব জুরেলের মতো ব্যাটাররা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছেন, যা দলের মিডল অর্ডারে বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
জোফরা আর্চারের ফর্ম ও পিচের চ্যালেঞ্জ
দলের প্রধান পেস অস্ত্র জোফরা আর্চারকে নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মিচেল ম্যাকক্লেনাগান মনে করেন, জয়পুরের উইকেট পেসারদের জন্য খুব একটা সহায়ক নয়। গুয়াহাটির মতো জয়পুরের পিচে আর্চার সেই লিফট ও বাউন্স পাচ্ছেন না যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করা সম্ভব। আর্চারের বলের ধার কমে যাওয়ায় তিনি উইকেট শিকারে আগের মতো সফল হচ্ছেন না।
শেন বন্ডের কঠোর বার্তা
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বোলিং কোচ শেন বন্ডের কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলারদের আরও বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে। মাঠে একই কাজ বারবার করে একই ফলাফল পাওয়া মানেই হলো আপনার কৌশলে পরিবর্তন প্রয়োজন। ব্যাটাররা যদি স্কুপ বা রিভার্স সুইপ করে নতুন শট আয়ত্ত করতে পারে, তবে বোলারদের কেন নতুন স্কিল শিখতে হবে না?’
বন্ডের মতে, আধুনিক ক্রিকেটে বোলারদের জন্য সুযোগ বিশাল, তবে তার জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম ও অ্যানালিস্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ। বোলারদের তিনি পরামর্শ দিয়েছেন রান-আপে পরিবর্তন আনা কিংবা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বল করার দক্ষতা বাড়ানোর। তিনি বলেন, ‘বোলারদের হয় এটি দেখে ভয় পেতে হবে, নাহলে এটিকে নিজের ক্যারিয়ার উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।’
প্লে-অফের সমীকরণ
টানা পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে একসময় শীর্ষে থাকা রাজস্থান রয়্যালস এখন পাঁচ নম্বরে নেমে এসেছে। লিগ পর্যায়ে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি। রাজস্থানের জন্য প্লে-অফের দরজা এখনো খোলা থাকলেও, জয়ের ধারায় ফিরতে না পারলে আইপিএল ২০২৫-এর মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
উপসংহার
রাজস্থান রয়্যালসকে এখন দ্রুতই নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বোলিংয়ের মান উন্নয়ন এবং মিডল অর্ডারে দায়িত্বশীল ব্যাটিং ছাড়া এই আইপিএলে টিকে থাকা কঠিন হবে। শেন বন্ডের সেই ‘আউট অফ দ্য বক্স’ চিন্তাভাবনা কি দলের ভাগ্য বদলাতে পারবে? উত্তর মিলবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে।
0 Comments