তরুণদের সুযোগ দেওয়ায় দলের গভীরতা বাড়ছে: নিক কেলি
তরুণদের ওপর আস্থা নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের চাবিকাঠি
বাংলাদেশ সফরে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ছয় উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এই জয় কেবল সিরিজের সমতা ফেরায়নি, বরং কিউই দলের তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি মনে করেন, মূল দলের অধিকাংশ সিনিয়র খেলোয়াড় আইপিএল ও পিএসএল-এর কারণে বাইরে থাকায় তরুণদের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে।
ডেথ বোলিং ও ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়
ম্যাচ জয়ের মূল কারিগর ছিলেন জশ ক্লার্কসন ও বেভন জ্যাকবস। ক্লার্কসন তার বোলিংয়ে মাত্র ৯ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন, যার মধ্যে ইনিংসের শেষভাগে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ছিল। কেলি বলেন, ‘আমরা আমাদের ডেথ বোলিং নিয়ে প্রচুর আলোচনা করেছি। জশ যেভাবে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তা অসাধারণ।’ অন্যদিকে, ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন নিউজিল্যান্ড ধুঁকছিল, তখন বেভন জ্যাকবসের ৩১ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। কেলি তার সতীর্থের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রশংসা করে বলেন যে, নেটে জ্যাকবস অনেক পরিশ্রম করেন এবং তার পাওয়ার হিটিং ক্ষমতা যেকোনো বোলারের জন্য ভয়ের কারণ।
অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি
টম ল্যাথামের আঙুলের ইনজুরির কারণে হঠাৎ করেই নেতৃত্বের ভার পেয়েছিলেন নিক কেলি। নিজের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। আমি যখন বিমানে করে আসছিলাম, তখন কল্পনাও করিনি যে আমাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এই সুযোগ হয়তো আর কখনোই আসবে না, তাই আমি পুরো সময়টা উপভোগ করেছি।’
দলের গভীরতা বৃদ্ধিতে নতুনদের ভূমিকা
নিউজিল্যান্ডের এই সফরে ১৮ জন মূল খেলোয়াড় ছিলেন না। তবে কেলি এটাকে সংকটের চেয়ে সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আইপিএল ও পিএসএল-এর মতো টুর্নামেন্টের কারণে সিনিয়ররা সবসময় পাওয়া যাবে না। কিন্তু এই বাস্তবতা আমাদের তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ করে দেয়। এতে দলের গভীরতা বাড়ে। যখন সিনিয়ররা ইনজুরিতে পড়বেন বা কোনো কারণে অনুপলব্ধ থাকবেন, তখন তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সাথে মাঠে নামতে পারবে কারণ তারা আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছে।’
ভবিষ্যৎ ও নির্বাচকদের নজরে জায়গা
সামনে নিউজিল্যান্ডের ব্যস্ত সময় আসছে। আয়ারল্যান্ডে একমাত্র টেস্ট এবং এরপর ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। কেলি মনে করেন, এই সফরে যারা ভালো করেছেন, তারা অবশ্যই নির্বাচকদের নজরে থাকবেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগ অনেক সময় কম আসে। তাই যখনই সুযোগ পাবেন, তা কাজে লাগাতে হবে। এই সফরে বেশ কয়েকজন তরুণ নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে, যা আমাদের পাইপলাইনের জন্য ইতিবাচক বার্তা। এখন কাজ হলো নিজেদের ঘরোয়া পারফরম্যান্স ধরে রাখা।’
নিউজিল্যান্ডের এই সফর প্রমাণ করেছে যে, দলীয় পরিকল্পনায় সঠিক বিনিয়োগ করলে এবং তরুণদের ওপর আস্থা রাখলে ফলাফল ঘরে তোলা সম্ভব। সিরিজের এই সমতা কিউইদের ভবিষ্যতের পথচলায় বড় একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
