নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন ন্যাট সিভার-ব্রান্ট
ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ইনজুরির ধাক্কা
ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের জন্য একটি দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে নতুন সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারবেন না দলের অন্যতম সেরা তারকা ও অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। ইসিবি (ECB) জানিয়েছে, বাঁ পায়ের কাফ মাসলে সামান্য টিয়ার বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে ক্রিকেট বোর্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তার ফিটনেস পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। উল্লেখ্য যে, এই টি-টোয়েন্টি সিরিজগুলো জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ।
ইনজুরির নেপথ্যের কারণ
ন্যাট সিভার-ব্রান্ট মূলত ইনজুরিতে পড়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময়। দ্য ব্লেজ (The Blaze)-এর হয়ে মেট্রো ব্যাংক কাপের ম্যাচে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন। ওই ম্যাচে তিনি ৩২ বলে ৪৭ রান করার পাশাপাশি ৭ ওভার বল করে ২ উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে ম্যাচ শেষে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেন। এরপর শনিবার স্ক্যান করার পর ইনজুরির বিষয়টি ধরা পড়ে এবং তাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দলে কারা ডাক পেলেন?
সিভার-ব্রান্টের অনুপস্থিতিতে দলে ফিরছেন ভাইস-ক্যাপ্টেন চার্লি ডিন। পিঠের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় প্রথমে তাকে এই সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হয়নি, কিন্তু অধিনায়ক ছিটকে যাওয়ায় তাকে ফেরানো হয়েছে। এছাড়াও টপ-অর্ডার ব্যাটার মায়া বাউচারকে স্কোয়াডে বাড়তি কভার হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
ইংল্যান্ড নারী দল গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর খুব বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। গত মার্চে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ইংল্যান্ড ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। এই সিরিজগুলো তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১২ জুন এজবাস্টনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
দলের সার্বিক ইনজুরি পরিস্থিতি
শুধুমাত্র সিভার-ব্রান্টই নন, দলের আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইনজুরির সাথে লড়াই করছেন। চার্লি ডিন তার পিঠের চোট কাটিয়ে ফেরার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে আঙুল ভাঙার কারণে সারা গ্লেনকে নির্বাচকরা বিবেচনায় নেননি। তবে দলের জন্য আশার কথা হলো, দীর্ঘ বিরতির পর অলরাউন্ডার ফ্রেইয়া কেম্প এবং দানি গিবসন আবারো খেলার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন, যা দলের ভারসাম্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
ন্যাট সিভার-ব্রান্টের মতো একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলের বাকি সদস্যরা আসন্ন সিরিজের জন্য কতটা প্রস্তুত এবং এই চ্যালেঞ্জ তারা কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তরা আশা করছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন এবং দলের নেতৃত্ব দেবেন।
