[CRK] নাগিদ রানা ও তানজিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ
[CRK]
নাগিদ রানার বোলিং তোপ ও তানজিদের ব্যাটে সমতায় বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। নাগিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এবং তানজিদ হাসানের ঝোড়ো ফিফটির সুবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। এখন চট্টগ্রামের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
বল হাতে নাগিদ রানার বিধ্বংসী রূপ
ম্যাচের শুরু থেকেই কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখেন বাংলাদেশি বোলাররা। বিশেষ করে নাগিদ রানা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নিউজিল্যান্ডের টপ এবং মিডল অর্ডারে ধস নামিয়ে তিনি তুলে নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিক কেলি ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্যদের ব্যর্থতায় তারা ১৯৯ রানের বেশি করতে পারেনি। শরিফুল ইসলামও দারুণ বল করে ২ উইকেট নিয়েছেন।
রান তাড়ায় শুরুতে ধাক্কা, পরে তানজিদের শাসন
১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের বলে আউট হন সাইফ হাসান। এরপর সৌম্য সরকারও দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। তবে ক্রিজে এসেই ভয়ডরহীন ব্যাটিং শুরু করেন তানজিদ হাসান। তিনি মাত্র ৩৩ বলে নিজের ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন। তার ব্যাটিং তাণ্ডবে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তানজিদ ৪টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় স্কোরকে জয়ের পথে নিয়ে যান।
শান্ত ও হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
তানজিদ ফেরার পর নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে জুটির হাল ধরেন। শান্তর ৫০ রানের ইনিংসটি ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং মারমুখী। তিনি তানজিদের সাথে ১২০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। শান্ত পায়ে ক্র্যাম্পের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে দারুণ অবদান রাখেন। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ভর করে ৩৫.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। হৃদয় অপরাজিত ৩০ রান করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ:
- নাগিদ রানার দুর্দান্ত স্পেল: ৫-৩২ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
- তানজিদ হাসানের তাণ্ডব: মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি এবং বিধ্বংসী ব্যাটিং।
- ফিল্ডিংয়ের নৈপুণ্য: লিটন দাসের দারুণ ক্যাচ এবং তাওহীদ হৃদয়ের লং-অনে অসাধারণ ফিল্ডিং।
- সিরিজ সমতা: দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ, বৃহস্পতিবার হবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।
পরবর্তী লক্ষ্য চট্টগ্রাম
এই জয়টি বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি ব্যাটারদের ফর্মে ফেরাটা দলের জন্য দারুণ স্বস্তির খবর। এখন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজ জয়ের মিশনে নামবে টাইগাররা। ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে সিরিজ জয় সম্ভব বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের এই জয়টি কেবল সমতাই ফেরায়নি, বরং সমালোচকদের জবাব দেওয়ার একটি সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। দলের তরুণ তুর্কিরা যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে, তা আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।
