[CRK] নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ড ১৯৮-এ অলআউট
[CRK]
নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ড ১৯৮-এ অলআউট
নাহিদ রানার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করেছে ৪৮.৪ ওভারে। রানা নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট হুল লাভ করেন, যা তাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গত মাসের ৫ উইকেটের পরেই আবারও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
পাওয়ারপ্লে থেকেই চাপ নাহিদের
ম্যাচের শুরু থেকেই নাহিদ রানা নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপে চাপ নিয়ে আসেন। অষ্টম ওভারে প্রথম বদল হিসাবে এসে, তিনি প্রথম দুই ওভারেই দুটি উইকেট নেন। হেনরি নিকোলসকে আউট করেন lbw-র মাধ্যমে, যাঁর ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ২৬ বলে ১৩। পরের ওভারে উইল ইয়াংকে গালি পয়েন্টে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেন। ইয়াং মাত্র ২ রান করে ফিরে যান।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামও বাঁচতে পারেননি। সৌম্য সরকারের বলে বাইরের কিনারা নিয়ে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন। ল্যাথাম ৩৫ বলে ১৪ রান করেন, যা লিটনের ১০০তম ওয়ানডে ম্যাচে বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করে।
ঐক্যবদ্ধ বোলিং ও ফিল্ডিং
নিক কেলি এবং মুহাম্মদ আব্বাস মিলে চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রানের অংশীদারি গড়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করে। কেলি মাঝারিতে স্ট্রোক খুঁজে পান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে কয়েকটি চাঙ্গা চারে সতর্ক করে দেন। কেলি ৮৩ রান করে সবচেয়ে বেশি রান করেন, তবে শরিফুল ইসলামের হাতে মিডউইকেটে আউট হন।
আব্বাস রানা ফিরে আসার পর উইকেট হারান। লিটন দাস এক অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচ নেন ফাইন লেগের দিকে ছুটে গিয়ে।
রানা শেষ পর্যন্ত হিরো
নাহিদ রানা সেশনের পর সেশনে উইকেট নেন। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ২টি উইকেট, মিডল ওভারে ১টি এবং তৃতীয় পাওয়ারপ্লেতে ২টি। তিনি ডিন ফক্সক্রফটকে ডিপ স্কোয়ার লেগে টোয়াইদ হৃদয়ের হাতে আউট করেন।
তাঁর পঞ্চম উইকেট এসেছিল জেইডেন লেনক্সের রূপে, যাঁকে তিনি ইয়র্কারে বোল্ড করেন শূন্য রানে। ন্যাথান স্মিথ তাঁর শেষ ওভারের শেষ বলে শেষ রক্ষা করেন, কিন্তু তার আগেই রানার কাছে মাথা নত করেছিল নিউজিল্যান্ড ইনিংস।
ফিল্ডিংয়ে টাইগারদের মনোযোগ
বাংলাদেশের ফিল্ডিং কর্মকাণ্ড এদিন মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লিটন দাস দুটি স্মার্ট ক্যাচ নেন, আর টোয়াইদ হৃদয় নেন তিনটি ক্যাচ, যার মধ্যে একটি ছিল ডাইভিং প্রচেষ্টা। ভিতরের সার্কেলে তারা একাধিক সিঙ্গেল বাঁচিয়ে চাপ বাড়িয়েছে, আবার ডিপে ফোরও সংরক্ষণ করেছে।
- নাহিদ রানা: ৫-৩২ (১০ ওভার)
- নিক কেলি: ৮৩ (নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ)
- টোয়াইদ হৃদয়: ৩ ক্যাচ
- লিটন দাস: ১০০তম ওয়ানডে, ২ ক্যাচ
এই জয়লাভের পথে বাংলাদেশের হয়ে আশা জাগছে। রানার ক্রিকেটবুদ্ধি, লিটনের পরিপক্বতা এবং তরুণ হৃদয়ের এনার্জি – এগুলো মিলে গড়েছে এক সমন্বিত কার্যকরী পারফরম্যান্স।
নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮-এ বাঁধা হওয়ায় টাইগারস সিরিজ সমতার দোরগোড়ায় এসেছে। এবার ব্যাট করতে নামার আগে তারা একটি কঠিন লক্ষ্য ব্যাটিং ক্রমের উপর ভর করবে।
