[CRK] করাচি কিংসকে হারিয়ে প্লে-অফের পথে মুলতান সুলতানস: টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জয়
[CRK]
মুলতান সুলতানস বনাম করাচি কিংস: এক মহাকাব্যিক লড়াই
পাকিস্তান সুপার লিগের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে করাচি কিংসকে ১১ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে মুলতান সুলতানস। ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে করাচি কিংসের ব্যাটাররা দারুণ লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত সুলতানদের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হার মানতে হয় তাদের। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মুলতান সুলতানস, অন্যদিকে টানা চার হারে কঠিন পরিস্থিতির মুখে করাচি কিংস।
সুলতানদের রানের পাহাড়
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মুলতান সুলতানস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। জশ ফিলিপ (৪৪) এবং শান মাসুদ (৪৬) দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দলকে একটি মজবুত ভিত্তি এনে দেন। এরপর ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ ইমরানের ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিও সুলতানদের স্কোরকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। বিশেষ করে শেষ ওভারে হাসান আলীর বিপক্ষে ২০ রান তুলে সুলতানদের সংগ্রহ নিয়ে যায় ২০৭ রানে। সুলতানদের ব্যাটিংয়ের সামনে করাচি কিংসের বোলাররা অনেকটা অসহায় ছিলেন, তবে খুশদিল শাহ বোলিংয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন ৩টি উইকেট নিয়ে।
করাচির লড়াই ও আব্বাস-হাসানের ঝড়
২০৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে করাচি কিংস শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। আরফাত মিনহাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দলটি। তবে রিযা হেন্ডরিক্স (৪৯) এবং মঈন আলীর (২৭) জুটিতে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল করাচি। কিন্তু জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট অনেক বেশি হওয়ায় তারা পিছিয়ে পড়ে। ১৫তম ওভারে যখন মঈন আলী আউট হন, তখন করাচির জয় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদি এবং হাসান আলী ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন। আব্বাস মাত্র ১৬ বলে ৩৪ এবং হাসান ১০ বলে ২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য ২৩ রান প্রয়োজন ছিল, যা যেকোনো মুহূর্তেই সম্ভব ছিল।
পিটার সিডলের অভিজ্ঞতা ও সুলতানদের জয়
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অভিজ্ঞ বোলার পিটার সিডল। ১৯তম ওভারে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫ রান আসে এবং গুরুত্বপূর্ণ আব্বাস আফ্রিদির উইকেটটি তুলে নেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। সুলতানদের ফিল্ডারদের তৎপরতা এবং শেষ বলে হাসান আলীর রান আউটে করাচি কিংসের ইনিংস ১৯৬ রানে থামে।
পিচ ও কন্ডিশনের ভূমিকা
ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের কিউরেটর এই ম্যাচের জন্য অস্ট্রেলিয়ান মাটি ব্যবহার করেছিলেন, যা ব্যাটারদের জন্য স্বর্গ হয়ে উঠেছিল। বল ব্যাটে আসছিল দারুণভাবে, যার ফলে চার-ছক্কার বন্যা দেখা গেছে। সুলতানদের বোলাররা পাওয়ারপ্লেতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে করাচিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
উপসংহার
এই জয় মুলতান সুলতানসকে প্লে-অফের লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে দিল। অন্যদিকে, টানা চার হারের গ্লানি নিয়ে করাচি কিংসের সামনে এখন প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। সুলতানরা তাদের দলীয় শক্তির প্রদর্শনী ঘটিয়ে প্রমাণ করেছে কেন তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার। ক্রিকেটপ্রেমীরা আজ এক দুর্দান্ত লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল, যেখানে শেষ বল পর্যন্ত বজায় ছিল টানটান উত্তেজনা।
