মাধব তিওয়ারির দাপটে প্রাণ ফিরে পেল দিল্লি ক্যাপিটালস
আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে এক নতুন তারার উদয় হলো। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করলেন ২২ বছর বয়সী অলরাউন্ডার মাধব তিওয়ারি। ব্যাট ও বল—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের জাত চিনিয়ে তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা। তার এই পারফরম্যান্স কেবল দিল্লিকে জয় এনে দেয়নি, বরং দলের প্লে-অফের স্বপ্নকেও জিইয়ে রেখেছে।
নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই
মাধব তিওয়ারির আইপিএল যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গত মে মাসে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষেই তার অভিষেক হয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই ম্যাচ মাঝপথেই পরিত্যক্ত হয়। এরপর পুনরায় আয়োজিত ম্যাচে সুযোগ পেলেও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি তিনি। তবে ধৈর্য হারাননি এই তরুণ। নেটে কঠোর পরিশ্রম আর কোচিং স্টাফদের নির্দেশনায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মাধব বলেন, ‘আমি দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমি নিজেকে ১০০ শতাংশ বোলার এবং ১০০ শতাংশ ব্যাটসম্যান হিসেবেই দেখি। মুন্নাফ প্যাটেল স্যারের সাথে বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি, আর ব্যাটিং কোচ ইয়ান বেলের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের শট খেলার ক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগী ছিলাম।’
পিচ ও বোলিংয়ের কৌশল
ধর্মশালার পিচে সিম মুভমেন্ট ছিল প্রচুর। পুরো ম্যাচে কোনো স্পিনারকে বল করতে দেখা যায়নি, সব উইকেটই নিয়েছেন ফাস্ট বোলাররা। মাধব তিওয়ারি দিল্লি ক্যাপিটালসের পঞ্চম বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই তুলে নেন পাঞ্জাবের বিধ্বংসী ব্যাটার প্রিয়াংশ আরিয়াকে। এরপর নিজের শেষ ওভারে কুপার কনোলিকে ফিরিয়ে দিয়ে ৪ ওভারে ৪০ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। তিনি জানান, পিচের আচরণ বুঝে লেংথ বলের ওপরই ভরসা রেখেছিলেন তিনি।
ব্যাট হাতেও কারিশমা
শুধু বোলিং নয়, ২১১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাধবের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে অপরাজিত ১৮ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস, যা দিল্লিকে জয় পেতে সাহায্য করে। ধর্মশালার মাঠে এটি ছিল যেকোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। ইয়ান বেলের পরামর্শ ছিল একদম সহজ—নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় শট না খেলে বলের মেরিট অনুযায়ী ব্যাট চালানো। মাধব সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করেছেন।
শ্রেয়াস আইয়ারের হতাশা
অন্যদিকে, পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। এটি ছিল পাঞ্জাবের টানা চতুর্থ পরাজয়। আইয়ার অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাদের বাজে ফিল্ডিং এবং বোলিংই হারের মূল কারণ। তিনি বলেন, ‘আমরা ২১০ রান করেছিলাম, যা এই পিচে জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমাদের ফিল্ডিং ও বোলিং সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি।’
চলতি আসরে পাঞ্জাব কিংস মোট ১৯টি ক্যাচ ফেলেছে, যা যেকোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ। যুজবেন্দ্র চাহালকে দিয়ে কেন বল করাননি—এমন প্রশ্নের জবাবে আইয়ার জানান, পিচের গতিবিধি এবং সিম মুভমেন্টের কারণেই তিনি স্পিনারদের চেয়ে পেসারদের ওপর বেশি ভরসা রেখেছিলেন। যদিও তাদের নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
দিল্লির জন্য নতুন দিগন্ত
দিল্লি ক্যাপিটালস গত ম্যাচে দলে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিল, যা তাদের খেলার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। মাধব তিওয়ারির মতো একজন অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তি দলের বোলিং এবং ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করেছে। দিল্লির কোচিং স্টাফরা এখন আশা করছেন, মাধবের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্লে-অফের টিকিট পাওয়া কঠিন হবে না। ক্রিকেট প্রেমীদের নজর এখন দিল্লির পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে মাধব তিওয়ারি আবারও নিজের প্রতিভা প্রমাণের অপেক্ষায় থাকবেন।
0 Comments