[CRK] আইপিএল ২০২৬: রিঙ্কু ও অনুকুলের দাপট, রাজস্থানকে হারিয়ে প্রথম জয় পেল কলকাতা
[CRK]
নাটকীয় জয়: রাজস্থানকে রুখে দিয়ে প্রথম জয় পেল কলকাতা
আইপিএল ২০২৬-এর শুরুটা খুব একটা সুখকর ছিল না কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর জন্য। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালস-এর বিপক্ষে ম্যাচে তারা প্রমাণ করল যে, সঠিক পরিকল্পনা আর শেষ মুহূর্তের লড়াই থাকলে যেকোনো ম্যাচ জেতা সম্ভব। একটি মন্থর পিচে স্পিনারদের আধিপত্য এবং লোয়ার মিডল অর্ডারের অসাধারণ লড়াইয়ের ওপর ভর করে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে পরাজিত করল কলকাতা।
ম্যাচটির ফলাফল ছিল রোমাঞ্চকর। রাজস্থান রয়্যালস প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে কলকাতা ৬ উইকেটে ১৬১ রান করে জয়লাভ করে। যদিও জয়ের নায়ক ছিলেন রিঙ্কু সিং, তবে তার পাশাপাশি অনিকুল রয় এবং বরুণ চক্রবর্তীর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
শুরুতে রাজস্থানের সতর্ক ব্যাটিং
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল পিচটি বেশ ধীরগতির। রাজস্থানের ওপেনার বৈভব সুর্যবংশী এবং যশস্বী জয়সওয়াল এই পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝেছিলেন। তারা তাড়াহুড়ো না করে রান সংগ্রহের চেয়ে ক্রিজে টিকে থাকাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে সতর্ক ব্যাটিংয়ের মাঝেও সুর্যবংশী আক্রমণ করতে ভুলেননি। জসপ্রিত বুমরাহ এবং সুনিল নারিনের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নিজের দাপট দেখান। ক্যামেরন গ্রিনের একটি ওভারে ২২ রান আসার ফলে রাজস্থান পাওয়ারপ্লে-তে একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে সক্ষম হয়।
স্পিন জাদুতে দিশেহারা রাজস্থান
রাজস্থানের শুরুটা ভালো হলেও মিডল ওভারে কলকাতার স্পিনাররা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে রাজস্থানি ব্যাটাররা। সুর্যবংশী (৪৬) যখন বড় ইনিংস খেলার কথা ভাবছিলেন, ঠিক তখনই বরুণ চক্রবর্তীর একটি ‘রং-আন’ ডেলিভারিতে তিনি আউট হয়ে যান। এরপর ধ্রুব জুরেল রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন।
সুনিল নারিনও ছিলেন সমান কার্যকর। তিনি জয়সওয়ালকে (৩৯) আউট করে রাজস্থানের ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা দেন। রিয়ান পরাগ বরুণের বলে বোল্ড হন এবং নারিন তার শেষ ওভারে কারম বলে ডনোভান ফেরেরাকে আউট করেন। ১০ ওভারের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬১ রান করতে সক্ষম হয় রাজস্থান।
কার্তিক ত্যাগীর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং
স্পিনারদের দাপটের পর শেষ দিকে রাজস্থান আশা করেছিল তারা অন্তত ১৬০-১৭০ রান করতে পারবে। কিন্তু ১৯তম ওভারে কার্তিক ত্যাগী অবিশ্বাস্য বোলিং করেন। তিনি মাত্র এক ওভারে তিনটি উইকেট শিকার করে রাজস্থানকে ১৫৫ রানে থামিয়ে দেন। রবীন্দ্র জাদেজা এবং শিমন হেটমায়ার দুজনেই ত্যাগীর বলে আউট হন। ত্যাগীর ৩ উইকেট ২২ রানের এই স্পেলটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
জেগে ওঠা কলকাতা: রিঙ্কু ও অনুকুলের লড়াই
টার্গেটের তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে কলকাতা। জোফরা আর্চারের আগুনে বোলিংয়ে দুই ওপেনারই শূন্য রানে আউট হয়ে যান। এছাড়া রবীন্দ্র জাদেজার নিয়ন্ত্রিত বোলিং (৩ ওভারে ২-৮) কলকাতাকে চাপে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর উপক্রম হয়েছিল কলকাতার।
তবে ভাগ্য সহায় ছিল রিঙ্কু সিং-এর। নান্দ্রে বার্গার একটি সহজ ক্যাচ মিস করলে রিঙ্কু দ্বিতীয় জীবন পান। এরপর শুরু হয় আসল খেলা। ১৬তম ওভারের শুরুতে রবি বিষ্ণোই-এর একটি লুপী হাফ-ভলিকে ছক্কা হাঁকিয়ে রিঙ্কু ম্যাচের গতি বদলে দেন। তিনি ৫৩* রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
রিঙ্কুর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অনুকূল রায়। যখন জয়ের জন্য ৩৩ বলে ৬৭ রান প্রয়োজন ছিল, তখন তিনি মাত্র ১৬ বলে ২৯ রান করে ম্যাচটি সহজ করে তোলেন। তার এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে মারা ছক্কাটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা শট।
ম্যাচ বিশ্লেষণ ও শেষ কথা
এই ম্যাচে দেখা গেল কৌশলের লড়াই। রাজস্থান রয়্যালস ১৫ ওভার পর্যন্ত খুব ভালো ডিফেন্ড করলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক বোলিং পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে জাদেজাকে সরিয়ে বিষ্ণোই-এর ওপর ভরসা করাটা তাদের জন্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা নাইট রাইডার্স প্রমাণ করল যে তাদের স্পিন আক্রমণ এই মরসুমে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
মূল পরিসংখ্যান একনজরে:
- রাজস্থান রয়্যালস: ১৫৫/৯ (সুর্যবংশী ৪৬, জয়সওয়াল ৩৯; বরুণ ৩-১৪, ত্যাগী ৩-২২)
- কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৬১/৬ (রিঙ্কু ৫৩*, অনুকূল ২৯*; জাদেজা ২-৮)
- ফলাফল: কলকাতা ৪ উইকেটে জয়ী।
