আইপিএলে ট্রাভিস-অভিষেক বনাম প্রভ-আর্য: পাওয়ারপ্লে নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ভিটোরি ও হ্যাডিন
পাওয়ারপ্লের লড়াইয়ে হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ
আইপিএলের চলতি মৌসুমে পাঞ্জাব কিংস (PBKS) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH) তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিং দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছে। তবে আসন্ন লড়াইটি কেবল দুই দলের নয়, বরং এটি হলো দুই বিস্ফোরক ওপেনিং জুটির মর্যাদার লড়াই। একদিকে আছেন সানরাইজার্সের ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা, অন্যদিকে পাঞ্জাবের প্রভসিমরণ সিং ও প্রিয়াংশ আর্য। এই দুই জুটির ব্যাটিং তাণ্ডব সামলাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলো।
দুই জুটির পরিসংখ্যান ও প্রভাব
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সানরাইজার্সের হেড ও অভিষেক জুটি এই মৌসুমে ১০ ইনিংসে ২০৮.০৫ স্ট্রাইক রেটে ৫৪৩ রান তুলেছে। তবে তাদের ছাপিয়ে এগিয়ে আছে পাঞ্জাবের প্রভসিমরণ ও প্রিয়াংশ জুটি, যারা মাত্র আট ইনিংসে ২৪২.৫ স্ট্রাইক রেটে রান সংগ্রহ করেছে। এই দুই জুটিই মূলত পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেয়।
কোচদের ভাবনা ও পরিকল্পনা
সানরাইজার্সের কোচ ড্যানিয়েল ভিটোরি দুই দলের ব্যাটিং কৌশলের মধ্যে বেশ মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যখন ট্রাভিস এবং অভিষেক ভালো শুরু পায়, তখন পুরো দলের পারফরম্যান্সই অন্য উচ্চতায় চলে যায়। পাঞ্জাবের ক্ষেত্রেও বিষয়টি হুবহু এক। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কীভাবে তাদের এই ওপেনিং জুটিকে দ্রুত সাজঘরে ফেরানো যায়।’ অন্যদিকে, পাঞ্জাবের সহকারী কোচ ব্র্যাড হ্যাডিনও একই সুর গেয়েছেন। হ্যাডিন বলেন, ‘পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়াটা খুব জরুরি। হেড ও অভিষেককে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে দেওয়া যাবে না।’
হায়দরাবাদের পিচে বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ
হায়দরাবাদের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক। ভিটোরি একজন বোলার হিসেবে এই চ্যালেঞ্জটি ভালোভাবেই বোঝেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই মাঠে বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন। তবে আমাদের বুঝতে হবে, এখানে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে অলআউট করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বড় ওভারগুলো এড়িয়ে যাওয়া। আমরা যদি ২৪০ রান করি, তবে ২৩৯ রান দিয়ে জিতলেও তা আমাদের জন্য স্বস্তির।’
মধ্যম সারির অবদান ও আত্মবিশ্বাস
পাঞ্জাব ও সানরাইজার্স—উভয় দলই তাদের সর্বশেষ ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে কোচরা। হ্যাডিন জানিয়েছেন, গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাচে পাঞ্জাবের মধ্যম সারির ব্যাটাররা যেভাবে হাল ধরেছিলেন, তা দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। মার্কাস স্টয়নিস ও তরুণ সূর্যংশ শেডগে চাপের মুখে যেভাবে ব্যাট করেছেন, তাতে দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ভিটোরিও একমত যে, আইপিএলের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে একটি হার নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। দলের ব্যাটিং গভীরতার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
শেষ কথা
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পাঞ্জাব কিংসের জন্য এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, জয় পেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদও পৌঁছে যেতে পারে টেবিলের শীর্ষে। পাওয়ারপ্লেতে কে বেশি দাপট দেখাতে পারে এবং বোলাররা কোন কৌশলে রান আটকানোর লড়াইয়ে সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই ম্যাচের ভাগ্য। ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চিতভাবেই একটি উচ্চস্কোরিং এবং রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
