ঘরের মাঠের পিচ নিয়ে অসহায় দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হেমং বদানি
পিচ নিয়ে ধোঁয়াশায় দিল্লি ক্যাপিটালস: মুখ খুললেন হেমং বদানি
আইপিএলের চলতি মরশুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের পারফরম্যান্স যেন এক গোলকধাঁধা। বিশেষ করে নিজেদের ঘরের মাঠ, অরুনা জেটলি স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে খোদ দলের কোচ হেমং বদানিই বেশ বিব্রত। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ঘরের মাঠে খেলা সত্ত্বেও পিচ কেমন হবে, তাতে তাদের দলের কোনো হাত নেই।
নিয়ন্ত্রণ নেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হাতে
হেমং বদানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইপিএলে পিচ তৈরির পুরো বিষয়টি বিসিসিআইয়ের হাতে থাকে। তিনি বলেন, ‘পিচ নিয়ে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা হয়তো ভাবি যে নিজেদের পছন্দমতো পিচে খেলব, কিন্তু বিসিসিআইয়ের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে তারা পিচের দেখাশোনা করবে। কোনো স্থানীয় দল যাতে পিচ থেকে সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তাই আমাদের যা দেওয়া হয়, তাতেই খেলতে হয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দিল্লির পিচ কেমন আচরণ করবে, তা বোঝা আমাদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একটি উত্থান-পতনের যাত্রার মতো। কখনো হাই-স্কোরিং ম্যাচ, তো কখনো মাত্র ৭৫ রানে অলআউট—এই অসামঞ্জস্যতা মানিয়ে নেওয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং।’
পিচের বৈচিত্র্য ও দিল্লির অসহায়ত্ব
চলতি আইপিএল মরশুমে দিল্লি ক্যাপিটালস তাদের ঘরের মাঠে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে জয় পেয়েছে মাত্র একটি ম্যাচে। পিচের এই অদ্ভুত আচরণের উদাহরণ দিতে গিয়ে বদানি বলেন, ‘একটা ম্যাচে ২৬৫ রান হয়েছে, আবার অন্য ম্যাচে আমরা মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে গেছি। আবার মঙ্গলবার দেখা গেল স্পিন সহায়ক উইকেট। আইপিএলের সব দলকেই এই পরিস্থিতির সাথে লড়াই করতে হয়, কিন্তু দলের কোচ হিসেবে আমি চাই পিচে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকুক।’
কুলদীপ ও অক্ষরের ওপর আস্থা
পিচের পাশাপাশি দলের তারকা ক্রিকেটার কুলদীপ যাদব এবং অক্ষর প্যাটেলের ফর্ম নিয়েও কথা বলেছেন বদানি। কুলদীপ এই মরশুমে বল হাতে খুব একটা ছন্দে নেই, কিন্তু বদানি তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। তিনি বলেন, ‘তারা বিশ্বমানের ক্রিকেটার। কুলদীপ ডাবল বিশ্বকাপজয়ী। আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং তারা নিজেরাও জানে কীভাবে এই কঠিন সময় কাটিয়ে ফিরে আসতে হয়।’
অক্ষর প্যাটেলের বিষয়ে বদানি বলেন, ‘অক্ষর আজকে দারুণ বল করেছে (৪ ওভারে ২৪ রান)। ব্যাটিংয়ে সে হয়তো রান পাচ্ছে না, কিন্তু আমি জানি সে খুব দ্রুতই ফর্মে ফিরে আসবে। ২০টি রান বেশি বোর্ডে থাকলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।’
সামনের পথে দিল্লির চ্যালেঞ্জ
দিল্লি ক্যাপিটালস বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পিচের চরিত্র বুঝতে পারা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের রণকৌশল সাজানোই এখন বদানির কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, বিসিসিআইয়ের নিরপেক্ষ পিচ নীতি থাকা সত্ত্বেও, পেশাদার দল হিসেবে তাদের যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে।
উপসংহার: আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে পিচ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে হেমং বদানির এই মন্তব্য বুঝিয়ে দেয় যে, মাঠের বাইরের পিচ রাজনীতি বা নিরপেক্ষ পিচ নীতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য কাজটিকে কতটা জটিল করে তোলে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে দিল্লি এই ‘আপ-এন্ড-ডাউন’ পিচের সাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারে।
