পিএসএল ফাইনাল: জেসন গিলেস্পির কণ্ঠে হতাশা ও গর্বের সুর
পিএসএল ফাইনালে স্বপ্নের সমাপ্তি
হায়দ্রাবাদ কিংসমানের জন্য পিএসএলের এবারের আসরটি ছিল রূপকথার মতো। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি যেভাবে ফাইনালে উঠে এসেছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। তবে স্বপ্নের এই যাত্রা থেমে গেল ফাইনালের মঞ্চে। পেশোয়ার জালমির কাছে পাঁচ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে শিরোপা স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল কিংসমানের। ম্যাচ শেষে কোচ জেসন গিলেস্পি অকপটে স্বীকার করলেন, প্রতিপক্ষ তাদের চেয়ে সেরা ছিল এবং তারাই যোগ্য চ্যাম্পিয়ন।
হতাশার ব্যাটিং বিপর্যয়
ম্যাচের মোড় ঘুরে গিয়েছিল কিংসমানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে। পাওয়ারপ্লে-র পর ১৪তম ওভার পর্যন্ত কিংসমান এবারের টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল দল ছিল। কিন্তু ফাইনালের রাতে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। পাওয়ারপ্লের পর মাত্র আট ওভারে ৩৯ রান তুলতে গিয়ে তারা ছয়টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। গিলেস্পি বলেন, ‘আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু মাঝের ওই দুই ওভারে চার উইকেট হারানোই আমাদের পিছিয়ে দেয়। এটিই আসলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।’ এই ধসের ফলে কিংসমান মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়, যা পিএসএল ফাইনালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
বোলারদের লড়াই ও ব্যর্থতা
অল্প পুঁজি নিয়েও কিংসমানের বোলাররা শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। বাবর আজমকে শুরুতেই ফেরানোর পর জালমিকে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন কিংসমানের বোলাররা। গিলেস্পি জানিয়েছেন, তারা জানতেন যে হাতে রান কম, তাই শুরু থেকেই উইকেট শিকারের ঝুঁকি নিতে হয়েছিল। কিন্তু অ্যারন হার্ডি এবং আব্দুল সামাদের ৮৫ রানের জুটি সব হিসাব নিকাশ বদলে দেয়। হার্ডির অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসের সামনে শেষ পর্যন্ত কিংসমানের বোলাররা আর পেরে ওঠেননি।
গর্বের সাথে বিদায়
টুর্নামেন্টের শুরুতে হায়দ্রাবাদ কিংসমানকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। প্রথম চারটি ম্যাচেই পরাজয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে তলানিতে ঠেকিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই দলটিই পরের আটটি ম্যাচের মধ্যে সাতটি জিতে ফাইনালে উঠেছিল। গিলেস্পি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে সত্যিই গর্বিত। টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাদের নিয়ে কেউ আশাবাদী ছিল না। কিন্তু ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ইতিবাচক রেখে তারা লড়াই চালিয়ে গেছে।’
ভবিষ্যতের পথে কিংসমান
গিলেস্পি মনে করেন, এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় উন্নতির যে স্বাক্ষর তারা রেখেছেন, তা ভবিষ্যতে কাজে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলেছি— শান্ত থাকা, লক্ষ্যের দিকে স্থির থাকা এবং নিজের দক্ষতা কাজে লাগানো।’ ফাইনালের হারটি অবশ্যই হতাশাজনক, তবে কিংসমানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। গিলেস্পির মতে, দল যে প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে, তা তাদের ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। খেলোয়াড়রা চাপের মুখে নিজেদের প্রমাণ করতে শিখেছে, যা যেকোনো দলের জন্যই বড় সম্পদ। শেষ পর্যন্ত, পেশোয়ার জালমির জয় প্রাপ্য ছিল, কিন্তু হায়দ্রাবাদ কিংসমানও জয় করেছে দর্শকদের হৃদয়।
