তিন নম্বর পজিশনে নতুন ধ্রুব জুরেল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধ্রুব জুরেলের অভিজ্ঞতা খুব একটা বেশি নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র নয়টি টেস্ট এবং চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অনেকের কাছেই তিনি ঋষভ পন্ত বা অন্যান্যদের ব্যাকআপ হিসেবে পরিচিত। তবে আইপিএল ২০২৬-এ তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এই ধারণাকে বদলে দিতে বাধ্য করেছে। শুক্রবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল একজন সাধারণ খেলোয়াড় নন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের চোখে জুরেলের দক্ষতা
অম্বতি রাইডু মনে করেন, ধ্রুব জুরেলের প্রতিভা নিয়ে বিশ্বে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিত। ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে রাইডু বলেন, জুরেল এখন অনেক বেশি পরিণত একজন ব্যাটার। তার ব্যাটিং দক্ষতা এবং মেজাজ বা টেম্পারামেন্ট সত্যিই অসাধারণ। রাইডুর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে জুরেলের চেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটার খুব কমই আছে। তাকে এখন সব ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত করা উচিত।
প্রাক্তন অজি তারকা অ্যারন ফিঞ্চও জুরেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, ‘জুরেলের টেকনিক, মেজাজ এবং পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে সে একজন কমপ্লিট ব্যাটার।’ ফিঞ্চের মতে, ক্রিজে এসেই যেভাবে তিনি সাবলীলভাবে ব্যাটিং শুরু করেছেন, তা যেকোনো তরুণ ক্রিকেটারের জন্য একটি শিক্ষা।
চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতা
আইপিএল ২০২৬-এ জুরেলের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করা হয়েছে। ৩ নম্বরে নেমে তিনি এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ১৭৬ রান করেছেন। যশ্বসী জয়সওয়াল আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে যেভাবে তিনি ইনিংসের হাল ধরেছেন, তা রাজস্থান রয়্যালসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে বৈভব সূর্যবংশীর মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারের সাথে ব্যাটিং করার চাপ তিনি যেভাবে সামলেছেন, তা ছিল দেখার মতো।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জুরেল বলেন, ‘৩ নম্বরে ব্যাট করতে নামলে বৈভব সূর্যবংশী আমার কাজটা সহজ করে দেয়। যখন সে মারমুখী থাকে, তখন আমার মনে হয় উইকেটটা অনেক ভালো। যদিও আমি জানি ক্রিকেট সহজ নয়, কিন্তু প্রথম বাউন্ডারি পাওয়ার পর ছন্দ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায়।’
টিম ম্যানেজমেন্ট ও লক্ষ্য
রাজস্থান রয়্যালসের টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান দিতে পেরে খুশি জুরেল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ব্যাটিং পজিশন শুধু একটি সংখ্যা মাত্র। আমাকে যদি ৮ বা ৯ নম্বরেও ব্যাট করতে বলা হয়, আমি তা আনন্দের সাথেই গ্রহণ করব। আমার লক্ষ্য হলো দলের জন্য ম্যাচ জেতানো। শেষ পর্যন্ত আমি ম্যাচটি ১৮-১৯ ওভারের মধ্যেই শেষ করতে চেয়েছিলাম এবং আমরা তা করতে পেরেছি।’
রাজস্থান রয়্যালস তাদের গুয়াহাটির হোম ম্যাচে টানা চারটি জয় পেয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। বৈভব সূর্যবংশী, যশ্বসী জয়সওয়াল এবং ধ্রুব জুরেলের এই ত্রয়ী এখন দলের প্রধান শক্তি। সামনেই রাজস্থান রয়্যালসের বেশ কিছু অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে এবং এই ফর্মে থাকলে জয়যাত্রা বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হবে না। জুরেলের এই উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।
0 Comments