কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বিশায়ারের দাপট
রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু-তে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দিনে ব্যাট হাতে রীতিমতো দাপট দেখাল ডার্বিশায়ার। সেন্ট্রাল কো-অপ কাউন্টি গ্রাউন্ডে দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪২ রান। দলের হয়ে ফর্মে ফেরা ক্যালেব জুয়েল অপরাজিত আছেন ৯১ রানে।
জুয়েলের ঘুরে দাঁড়ানো
সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা ভালো ছন্দে ছিলেন না তাসমানিয়ান ওপেনার ক্যালেব জুয়েল। গত ছয় ইনিংসে মাত্র ৫৮ রান সংগ্রহ করা জুয়েল এদিন ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নেমে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। নর্দাম্পটনশায়ারের বোলারদের শাসন করে তিনি অপরাজিত ৯১ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার সঙ্গী হিসেবে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেন, যিনি ৫৬ রান করে মাঠ ছাড়েন।
ব্যাটারদের রাজত্ব
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ডার্বিশায়ারের হয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করেন হ্যারি কাম এবং লুইস রিস। পিচে বোলারদের জন্য তেমন কোনো সহায়তা না থাকায় প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তারা। হ্যারি কাম ৭৩ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন। এছাড়া ম্যাথিউ মন্টগোমারি ৫৪ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস উপহার দিয়ে দলের রান তিনশ পার করতে সাহায্য করেন।
বোলারদের সংগ্রাম
নর্দাম্পটনশায়ারের বোলাররা এদিন ছিলেন অনেকটা ম্লান। বেন স্যান্ডারসন ২০ ওভার বল করে ৫২ রান খরচায় ১টি উইকেট নিতে পারলেও অন্য বোলাররা ডার্বিশায়ারের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারেননি। বিশেষ করে হ্যারি কনওয়ে শুরু থেকেই ছিলেন ছন্দহীন। যদিও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় স্যান্ডারসন কিছুটা সুইং আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ডার্বিশায়ারের ব্যাটাররা বেশ সাবলীলভাবেই তা মোকাবিলা করেছেন।
ম্যাডসেনের মাইলফলক
ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেন এই ম্যাচে একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। সব ধরণের ক্রিকেট মিলিয়ে ডার্বিশায়ারের হয়ে এটি ছিল তার ১৫০তম ম্যাচ। দিনশেষে জুয়েলের সাথে অবিচ্ছিন্ন ১০৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে এই দলের স্তম্ভ বলা হয়। খারাপ আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ের চার ওভার আগেই দিনের খেলার সমাপ্তি টানতে হয় আম্পায়ারদের।
ম্যাচের সারাংশ
- ডার্বিশায়ার: ৩৪২/৩ (জুয়েল ৯১*, কাম ৭৩, ম্যাডসেন ৫৭*, মন্টগোমারি ৫৪)
- নর্দাম্পটনশায়ার: বোলারদের মধ্যে স্যান্ডারসন ১টি উইকেট লাভ করেন।
প্রথম দিনের খেলা শেষে ডার্বিশায়ার যে অবস্থানে আছে, তাতে দ্বিতীয় দিনে বড় সংগ্রহের আশা করাই যায়। স্বাগতিকদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম ইনিংসে নর্দাম্পটনশায়ারের বোলারদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে রানের পাহাড় গড়া। নর্দাম্পটনশায়ারকে দ্বিতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে না পারলে ম্যাচ থেকে তারা অনেকটাই ছিটকে যেতে পারে।
0 Comments