হ্যাম্পশায়ারের জয়ে ফ্রান্সেসকা সুইটের দ্যুতি
মেট্রো ব্যাংক ওয়ান-ডে কাপে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে হ্যাম্পশায়ার। ক্লাফটন পার্কের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ফ্রান্সেসকা সুইট। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটার তার নতুন কাউন্টির হয়ে নিজের প্রথম অর্ধশতকটি তুলে নেন ঠিক সময়ে, যা দলকে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ১৬ রানের জয় পেতে সাহায্য করে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল ও পরিস্থিতি
বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে হ্যাম্পশায়ার প্রথমে ব্যাট করে ৩৮ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ডিএলএস পদ্ধতিতে ইয়র্কশায়ারের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২১৩ রান। তবে ইয়র্কশায়ার ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। এই জয়ের ফলে হ্যাম্পশায়ার চলতি মৌসুমে সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করল।
ব্যাটিংয়ে হ্যাম্পশায়ারের ঘুরে দাঁড়ানো
ম্যাচের শুরুতে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ওপেনার এলা ম্যাকগান দারুণ ব্যাটিং করেন। তার ৫০ বলে ৫১ রানের একটি পরিপক্ক ইনিংস দলকে ভালো সূচনা এনে দেয়। ইনিংসের মাঝপথে বৃষ্টি বাগড়া দিলে দীর্ঘ ৯০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। তবে বিরতির পর ফ্রান্সেসকা সুইট এবং অস্ট্রেলিয়ার আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। সুইট ৫৭ বলে তার প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যেখানে কভার ড্রাইভের খেলা ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে, ওয়েলিংটন ২৫ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থেকে দলের রান দুইশোর কোঠায় নিয়ে যান।
ইয়র্কশায়ারের বোলিং ও হ্যাম্পশায়ারের প্রতিকূলতা
ইয়র্কশায়ারের হয়ে জেস জোনাসেন দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। তিনি হ্যাম্পশায়ারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে দলকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে হ্যাম্পশায়ারের অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামস এবং নাওমি ডাটানিকে দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে ইয়র্কশায়ারকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন জোনাসেন। তবে শেষদিকে সুইট ও ওয়েলিংটনের জুটি ইয়র্কশায়ারের জয়ের স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেয়।
ইয়র্কশায়ারের রান তাড়া ও পরাজয়
ইয়র্কশায়ারের হয়ে লরেন উইনফিল্ড-হিল এবং জর্জি বয়সের ওপেনিং জুটি বেশ ভালো শুরু করলেও হ্যাম্পশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। দুই ওপেনারই দ্রুত আউট হয়ে গেলে ইয়র্কশায়ার চাপে পড়ে। এরপর স্টেরে কালিস ৪৬ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও হ্যাম্পশায়ারের বেক্স টাইসন এবং নাওমি ডাটানির বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ রান দূরেই থেমে যেতে হয় স্বাগতিকদের।
উপসংহার
এই জয় হ্যাম্পশায়ারের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে চলেছে তারা। অন্যদিকে, ইয়র্কশায়ারের জন্য এটি চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে চতুর্থ পরাজয়। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ইয়র্কশায়ারকে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই আরও মনোযোগী হতে হবে। হ্যাম্পশায়ারের জন্য ফ্রান্সেসকা সুইটের এই পারফরম্যান্স আগামী ম্যাচগুলোর জন্য একটি দারুণ ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
0 Comments