কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে এসেক্সের বিরুদ্ধে হ্যাম্পশায়ারের লড়াই
রথেসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে এসেক্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপ যখন খাদের কিনারে, তখন ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন জ্যাক লেহম্যান ও বেন ব্রাউন। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী দলকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত এসেক্সের বোলারদের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি। হ্যাম্পশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩৫ রানে গুটিয়ে যায়। দিনের শেষে এসেক্স ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান সংগ্রহ করেছে। তারা এখনও ১৮৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
লেহম্যান ও ব্রাউনের লড়াই
অস্ট্রেলিয়া থেকে ব্যক্তিগত কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে আসা জ্যাক লেহম্যান আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বর্তমান কাউন্টি ক্রিকেটের অন্যতম ভরসা। চাপের মুখে ১৬৪ বলে ৮৯ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন তিনি। এটি এই মৌসুমে তার পঞ্চম টানা ফিফটি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন হ্যাম্পশায়ার অধিনায়ক বেন ব্রাউন। তিনি ১১৬ বলে ৭৩ রান করেন। এই জুটির ১০৫ রানের পার্টনারশিপই হ্যাম্পশায়ারকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার প্রধান রসদ ছিল। তাদের বিদায়ের পর আর কোনো ব্যাটারই এসেক্সের বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সী বেন মেস ২০ রান করলেও বাকিদের অবদান ছিল নগণ্য।
এসেক্সের বোলিং তোপ
এসেক্সের বোলাররা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন। স্যাম কুক শুরুতেই হ্যাম্পশায়ারের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন। তিনি ৫৬ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এরপর চা বিরতির পর হ্যাম্পশায়ারের লেজ ধসিয়ে দেন উইয়ান মুল্ডার। তিনি মাত্র ১২ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন। মাত্র ৩৭ বলে হ্যাম্পশায়ারের শেষ পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে এসেক্সের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ম্যাচের নাটকীয় মোড়
সকাল থেকে এসেক্সের আধিপত্য থাকলেও দুপুরের সেশনে লেহম্যান ও ব্রাউনের ব্যাটিং হ্যাম্পশায়ারকে ম্যাচে ফিরিয়েছিল। সাইমন হারমারকে ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন ব্রাউন। কিন্তু লেহম্যান যখন ৮৯ রানে আউট হন, তখন থেকেই যেন হ্যাম্পশায়ারের ইনিংসের পতনের শুরু হয়। চা বিরতির পর এসেক্স বোলাররা রীতিমতো ঝড় তোলেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ে যাওয়ায় হ্যাম্পশায়ার বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়।
দিনের শেষ পরিস্থিতি
দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে এসেক্সও বেশ চাপের মুখে পড়ে। মাত্র ২২ ওভারের মধ্যে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান সংগ্রহ করেছে। পল ওয়াল্টার এবং ডিন এলগারকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাম্পশায়ার ম্যাচে ফেরার কিছুটা আভাস দিয়েছে। কাইল অ্যাবট এবং জেমস ফুলার এসেক্সের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ জিইয়ে রেখেছেন।
সব মিলিয়ে, ম্যাচটি এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে যেখানে প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হ্যাম্পশায়ার বোলাররা যদি দ্বিতীয় দিনে এসেক্সের বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিতে পারে, তবেই তারা ম্যাচে টিকে থাকার আশা রাখতে পারবে। অন্যদিকে, এসেক্স চাইবে দ্রুত রান তুলে নিয়ে হ্যাম্পশায়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। ক্রিকেটের এই ধ্রুপদী লড়াইয়ের পরবর্তী সেশনগুলো দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
0 Comments