[CRK] ঐতিহাসিক জয়! শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবার ওডিআই-তে হারাল বাংলাদেশ নারী দল
[CRK]
রাজশাহীর মাঠে ইতিহাস: শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথম ওডিআই জয় বাংলাদেশের
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। রাজশাহীর মাঠে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ওডিআই জয় নিবন্ধন করল বাংলাদেশ। শারমিন আক্তারের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং রিতু মনির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ওপর ভর করে তিন উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। যদিও জয়ের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল চরম উত্তেজনায় ঠাসা, তবে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে তারা।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং: শুরুটা ছিল শক্তিশালী
ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা বেশ শক্তিশালী সূচনা করেছিল। অধিনায়ক চামারি আথাপথু আঙুলের ইনজুরির কারণে খেলতে না পারায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা এবং ইমেশা দুলানি ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান যোগ করেন। তবে বাংলাদেশ দলের বোলার রিতু মনি সঠিক সময়ে আঘাত হানে। তিনি তার ইনসুইং ডেলিভারিতে হাসিনি পেরেরাকে এলবিডব্লিউ করে শ্রীলঙ্কার প্রথম উইকেটের পতন ঘটান।
পরের ওভারেই রিতু মনি আরও একবার তার জাদু দেখান। হর্ষিতা সামারবিক্রমাকে ক্যাচ এবং বোল্ড করে তিনি শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা দেন। এরপর ইমেশা দুলানি এবং হানসিমা কারুনারত্নে তৃতীয় উইকেটে ৫২ রান যোগ করে দলের স্কোরকে এগিয়ে নেন। দুলানি ৫৪ রান করার পর সুলতানা খাতুনের বলে আউট হন। অন্যদিকে, কারুনারত্নে ৫৪ রান করার পর সোভনা মোস্তারি নামের একজন খণ্ডকালীন বোলারের হাই ফুল টসে রবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
শ্রীলঙ্কা এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে শুরু করে। নীলক্ষিকা সিলভা এবং কাভিশা দিলহারি পর্যায়ক্রমে মারুফা আক্তার এবং রিতু মনির শিকার হন। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ২০৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে তাদের ইনিংস শেষ করে। রিতু মনি এই ইনিংসে ৩৬ রানে ৩টি উইকেট নেন এবং বামহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২টি উইকেট।
বাংলাদেশের ব্যাটিং: শুরুতেই ধাক্কা এবং শারমিনের লড়াই
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সারমিন সুলতানা শূন্য রানে মাল্কি মাদারার বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয় ওভারে ডেবিউট্যান্ট জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মাত্র ৫ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা ভিহাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গেলে বাংলাদেশ মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে।
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করতে সামনে আসেন শারমিন আক্তার এবং সোভনা মোস্তারি। তারা চতুর্থ উইকেটে ৮৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে ২৮তম ওভারে সোভনা মোস্তারি পায়ে তীব্র ক্র্যাম্প অনুভব করায় তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। তিনি ৫৬ বলে ৬টি চারসহ ৪১ রান করে দলের ভিত মজবুত করেছিলেন।
নাটকীয় সমাপ্তি ও চূড়ান্ত জয়
সোভনার বিদায়ের পর শারমিন আক্তার এবং শোরনা আক্তার together শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণকে শাসন করতে থাকেন। তারা চতুর্থ উইকেটে আরও ৭৮ রান যোগ করেন। শারমিন আক্তার ১২৭ বলে ১৩টি চারসহ ৮৬ রান করেন, যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তবে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেই শুরু হয় চরম নাটকীয়তা।
৪৫তম ওভারে শারমিন আক্তার আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ মাত্র ৭ রান দূরে ছিল জয়ের থেকে। কিন্তু এরপর মুহূর্তের মধ্যে ৪টি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। ৪৬তম ওভারে অফ-স্পিনার ডিউমি ভিহাঙ্গা শোরনা আক্তার (৩৫) এবং রিতু মনিকে (০) আউট করে ম্যাচটিকে আবারও অনিশ্চিত করে তোলেন। রবেয়া খানও একটি খারাপ শটে আউট হয়ে যান, ফলে বাংলাদেশ ২০৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
শেষ মুহূর্তে নাহিদা আক্তার এবং সুলতানা খাতুন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাকি ৬ রান সংগ্রহ করেন। শেষ ওভারে মাল্কি মাদারা একটি ওয়াইড করেন এবং পরবর্তীতে একটি মিসফিল্ডের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
- শ্রীলঙ্কা: ২০৫/৯ (কারুনারত্নে ৫৪, দুলানি ৫২, রিতু মনি ৩-৩৬)
- বাংলাদেশ: ২০৬/৭ (শারমিন ৮৬, মোস্তারি ৪১, ভিহাঙ্গা ৩-৪৩)
- ফলাফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।
এই জয়টি কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয় হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। রাজশাহীর দর্শকদের সামনে এই ঐতিহাসিক জয়টি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসের এক নতুন জোয়ার নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
