[CRK] নাদ ও তানজিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ
[CRK]
নাজিদ-তানজিদ জুটিতে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। নাজিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এবং তানজিদ হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। এখন সবার নজর চট্টগ্রামের অঘোষিত ফাইনালে।
নাজিদ রানার আগুনের গোলা
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই নাজিদ রানার ওপর ছিল বড় প্রত্যাশা। তিনি তা পূরণ করেছেন দারুণভাবে। নিউজিল্যান্ডের টপ এবং মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়ে মাত্র ৩২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন এই তরুণ পেসার। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকারের ঘটনা। তার গতির কাছে পরাস্ত হয়েছে কিউই ব্যাটাররা। ইনিংসের শুরুতে হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শিকার শুরু করেন রানা। এরপর ১৪৬ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে উইল ইয়াংকে গালিতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। শেষ দিকে এসে ফক্সক্রফট এবং লিনক্সকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
তানজিদ-শান্ত জুটির দাপট
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের ইনসুইঙ্গারে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর সৌম্য সরকারও দ্রুত বিদায় নেন। তবে দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান। ৩৩ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করা তানজিদ খেলেন ৭৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস। তার চার ছক্কার ইনিংসটি ছিল দর্শকদের জন্য এক দারুণ উপহার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গোল্ডেন ডাক থেকে ফিরে শান্ত নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসেন এবং ফিফটি তুলে নেন। যদিও ক্র্যাম্পের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়, তবে জয়ের পথ তৈরি করে দিয়েই গিয়েছিলেন তারা।
শেষ দিকে জয় নিশ্চিত
তানজিদ এবং শান্ত ফেরার পর দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাওহীদ হৃদয় এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের অপরাজিত ৩২ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। হৃদয় ৩১ বলে ৩০ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন। ৩৬তম ওভারে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান। এই জয়ে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ব্যর্থতা
অন্যপ্রান্তে নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিক কেলি সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন। তিনি একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। শরিফুল ইসলাম দুই উইকেট এবং সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়ে রানার দারুণ সঙ্গী হয়েছিলেন। ফিল্ডিংয়ে তাওহীদ হৃদয়ের তিনটি ক্যাচ ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত।
সিরিজ নির্ধারণী চট্টগ্রামের অপেক্ষায়
প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হারার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে বোলার এবং ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ক্ষত মুছে ফেলেছে শান্তর দল। এখন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে অলিখিত ফাইনাল। ক্রিকেট ভক্তরা আশা করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য এই জয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাজিদ রানার পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ ম্যাচেও কি বাংলাদেশ একই দাপট ধরে রাখতে পারে কি না!
