News

হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্বে অম্বাতি রাইডু: নতুন অধ্যায়ের সূচনা

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

নতুন দায়িত্বে অম্বাতি রাইডু

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ এবং সফল ক্রিকেটার অম্বাতি রাইডু এবার নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে। হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (HCA) তাঁকে ক্রিকেট অপারেশন্স ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিন বছরের মেয়াদে রাইডু তাঁর ঘরের মাঠের ক্রিকেটের মানোন্নয়নে কাজ করবেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাইডু লিখেছেন, এটি তার কাছে ক্রিকেটের অনেক কিছু সংশোধন করার একটি চমৎকার সুযোগ। তিনি হায়দ্রাবাদ এবং তেলেঙ্গানার তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী, যাতে ভবিষ্যতে তারা জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

অতীতের তিক্ততা থেকে নতুন যাত্রা

এই নিয়োগটি এমন এক সময়ে এল, যখন হায়দ্রাবাদ ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থা ফেরানো জরুরি। ২০১৯ সালে রাইডু স্বয়ং হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে, এইচসিএ-এর টিম সিলেকশন প্রক্রিয়ায় রাজনীতির প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাটি তখন ভারতীয় ক্রিকেটে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই বিতর্কের পর তিনি হায়দ্রাবাদ ছেড়ে অন্ধ্র এবং বরোদার হয়ে নিজের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করেন। আজ সেই রাইডুই প্রশাসনিক প্রধানের আসনে বসে পুরনো দিনের সেই ‘অব্যবস্থা’ দূর করার কথা বলছেন।

অম্বাতি রাইডুর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার

রাইডুর ক্রিকেট ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণময়। ২০০১-০২ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে হায়দ্রাবাদের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫টি ওয়ানডে, ৬টি টি-টোয়েন্টি এবং ৯৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। তবে তাঁর সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল পালক হলো আইপিএল। তিনি মোট ছয়বার আইপিএল ট্রফি জিতেছেন, যার মধ্যে তিনটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে এবং তিনটি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরেও তিনি সিপিএল (CPL) এবং আইএলটি২০ (ILT20)-র মতো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সক্রিয় ছিলেন।

হায়দ্রাবাদ ক্রিকেটের জন্য প্রত্যাশা

রাইডুর এই নিয়োগকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মাঠের লড়াইয়ের জ্ঞান হায়দ্রাবাদ ক্রিকেটকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। তিনি অতীতে বারবার ক্লাব বদল করলেও, শেষ পর্যন্ত সেই হায়দ্রাবাদেই ফিরে এসেছেন, যেখানে তাঁর ক্রিকেটীয় শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল। ২০০৫-০৬ মৌসুমে অন্ধ্রতে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসা, এবং পরবর্তীতে ২০১৭-২০২০ সময়কালে দলের নেতৃত্ব দেওয়া—রাইডুর এই আসা-যাওয়া হায়দ্রাবাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির সাথেই মিশে আছে। এখন দেখার বিষয়, ডিরেক্টর হিসেবে তিনি প্রশাসনিকভাবে কতটা সাফল্য পান।

কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

  • অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ: রাইডু আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া উভয় পর্যায়েই সাফল্যের স্বাদ পেয়েছেন।
  • সততা ও স্বচ্ছতা: অতীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া রাইডু এখন সরাসরি সিস্টেমে ঢুকে স্বচ্ছতা আনার সুযোগ পেয়েছেন।
  • তরুণদের অনুপ্রেরণা: হায়দ্রাবাদ ও তেলেঙ্গানার উদীয়মান ক্রিকেটাররা একজন আইপিএল জয়ী কিংবদন্তিকে তাদের মেন্টর হিসেবে পাচ্ছেন।

পরিশেষে বলা যায়, অম্বাতি রাইডুর এই দায়িত্ব গ্রহণ শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়, বরং এটি হায়দ্রাবাদ ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন। তিনি যদি মাঠের মতো প্রশাসনের ময়দানেও একই তেজ দেখাতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে হায়দ্রাবাদ থেকে আরও অনেক নামী ক্রিকেটার জাতীয় দলে জায়গা করে নেবেন, এটাই সমর্থকদের প্রত্যাশা।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.