News

আইপিএলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন মিচেল স্টার্কের, মুগ্ধ ইয়ান বিশপ

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

ফেরার দিনে মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিং

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আইপিএল ২০২৬-এ মাঠে নামলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক। কাঁধ ও কনুইয়ের ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে দলের বাইরে থাকলেও, দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই যেন জানান দিলেন নিজের চিরচেনা রূপের। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে চার ওভারে ৪০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বমানের বোলার।

প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান পেসার ইয়ান বিশপ স্টার্কের এই পারফরম্যান্সে অত্যন্ত মুগ্ধ। ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে বিশপ বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কেমন ফর্মে ফিরবেন, তা নিয়ে আমার মনে সংশয় ছিল। কিন্তু তিনি যে ফায়ারপাওয়ার নিয়ে ফিরেছেন, তা সত্যিই আনন্দদায়ক।’

প্রতিপক্ষের ত্রাস স্টার্ক ও জেমিসনের পরিকল্পনা

ম্যাচের শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও স্টার্ক দারুণভাবে ফিরে আসেন। প্রথম বলেই যশস্বী জয়সওয়ালের ছক্কা হজম করার পর দুই বল পরেই তাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর ডেথ ওভারে এসে রবীন্দ্র জাদেজা ও রিয়ান পরাগের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের আউট করে দিল্লিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।

অন্যদিকে, আরেক পেসার কাইল জেমিসন ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীকে দ্রুত ফেরানোর নেপথ্যে নিজেদের কৌশলের কথা জানিয়েছেন। জেমিসন বলেন, ‘১৫ বছর বয়সী এই কিডের বিপক্ষে আমার ক্যারিয়ারে এতটা ভয় বোধ করিনি। তবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত এবং তা কাজে লেগেছে।’

শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা

স্টার্কের বোলিংয়ের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তার ফিল্ডিং ও মানসিকতা। সাবেক ক্রিকেটার আম্বাতি রাইডু স্টার্কের পয়েন্ট অঞ্চলে ডাইভ দিয়ে রান বাঁচানোর প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে তার শরীর এখন পুরোপুরি ফিট এবং তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

স্টার্ক নিজেও তার প্রত্যাবর্তনে সন্তুষ্ট। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘মাঠে ফেরাটা দারুণ ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতির সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং কয়েক মাস পর ব্যাটারদের বিপক্ষে বোলিং করার অভিজ্ঞতাটা মন্দ নয়। আমি আরও উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি।’

দিল্লি ক্যাপিটালসের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

স্টার্কের অন্তর্ভুক্তি দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং লাইনআপকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। লুনগি এনগিডি এবং স্টার্কের জুটি ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অভিজ্ঞ এই পেসারের আগমন দলের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের পরিবর্তন আনবে বলেই বিশ্বাস করেন সতীর্থরা।

কাইল জেমিসন যোগ করেন, ‘বিশ্বমানের বোলার যখন দলে থাকে, তখন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। স্টার্কের সাথে নতুন বল শেয়ার করাটা আমার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমরা এখন টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত।’

সব মিলিয়ে, মিচেল স্টার্কের এই প্রত্যাবর্তন শুধু দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্যই নয়, বরং এবারের আইপিএলের রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্টার্ক কি পারবেন তার পুরনো ফর্মের তুঙ্গে উঠতে? ভক্তরা এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.