News

আইপিএলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন মিচেল স্টার্কের, মুগ্ধ ইয়ান বিশপ

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

আইপিএলে স্টার্কের আগুনে প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর আইপিএল ২০২৬-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সিতে ফিরলেন মিচেল স্টার্ক। কাঁধ এবং কনুইয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথে দলে যোগ দিয়েই তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্বমানের বোলার বলা হয়। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট, যার মধ্যে ছিল যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগ এবং রবীন্দ্র জাদেজার মতো বিধ্বংসী ব্যাটারদের উইকেট।

ইয়ান বিশপের প্রশংসা

প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাস্ট বোলার ইয়ান বিশপ স্টার্কের বোলিংয়ের ‘ফায়ারপাওয়ার’ দেখে মুগ্ধ। ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে বিশপ বলেন, ‘আমি নিজেও ভাবছিলাম দীর্ঘ বিরতির পর স্টার্ক কেমন ফর্মে থাকবে। কিন্তু সে যে গতি এবং ধার নিয়ে ফিরেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। শেষ ওভারে কিছুটা রান খরচ করলেও তার বোলিংয়ের সামগ্রিক মান ছিল নজরকাড়া।’

বিশপের মতে, লুঙ্গি এনগিডি এবং মিচেল স্টার্কের জুটি দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুই বিদেশি পেসার এবং দুই বিদেশি ব্যাটারের ভারসাম্য দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।

মানসিকতায় পরিবর্তনের ছাপ

শুধুমাত্র বোলিং নয়, স্টার্কের ফিল্ডিং এবং মাঠের ভেতরের অ্যাটিটিউডও প্রশংসা কুড়িয়েছে। রায়ডুর মতে, ১৬তম ওভারের শুরুতে স্টার্কের একটি ডাইভিং স্টপ প্রমাণ করে যে তিনি শারীরিকভাবে ফিট এবং খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। রায়ডু আরও বলেন, ‘তার বোলিংয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো তার শরীরের ভাষা। হুদলে তাকে যেভাবে কথা বলতে দেখা গেছে, তাতে পরিষ্কার যে তিনি এই লড়াইয়ের জন্য কতটা মরিয়া।’

কাইল জেমিসনের ভয় ও স্টার্কের প্রভাব

অন্যদিকে, কাইল জেমিসন রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর স্বীকার করেছেন যে, এতোটা কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে তিনি আগে কখনো ভীত ছিলেন না। জেমিসন জানান, রাজস্থানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল এবং স্টার্কের সাথে বোলিং শেয়ার করাটা তার জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। জেমিসন বলেন, ‘স্টার্ক বিশ্বমানের বোলার। তার মতো একজন বোলার দলে থাকা মানেই বড় সুবিধা।’

স্টার্কের নিজের বক্তব্য

ম্যাচ শেষে স্টার্ক জানান, দীর্ঘদিন পর ম্যাচ খেলে তিনি খুশি। তার কথায়, ‘তিন মাস কোনো ব্যাটারকে বোলিং করিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও, আগামী ম্যাচগুলোতে আমি আরও ভালো ছন্দে ফেরার আশা করছি। আমার লক্ষ্য হলো ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করা এবং দলের জয়ে অবদান রাখা।’

পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং ইউনিটে স্টার্কের অন্তর্ভুক্তি দলকে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টার্কের মতো একজন অভিজ্ঞ বোলারের উপস্থিতি দলের তরুণ বোলারদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে স্টার্ক কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন এবং দিল্লি ক্যাপিটালসকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন।

স্টার্কের এই প্রত্যাবর্তনে দিল্লি ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। চোটের ইতিহাস ভুলে তিনি যেভাবে মাঠে লড়াই শুরু করেছেন, তা বিশ্ব ক্রিকেটে তার দাপট অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরের ম্যাচে স্টার্কের আরও এক আগুনঝরা স্পেলের জন্য।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.