অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নতুন মুখ আইনসওয়ার্থ ও হ্যামিল্টন
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের নতুন পথচলা: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তরুণদের জয়জয়কার
অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেটের আগামী দিনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ঘোষিত ১৮ জনের এই তালিকায় বড় চমক হিসেবে এসেছে ক্লোই আইনসওয়ার্থ এবং লুসি হ্যামিল্টনের অন্তর্ভুক্তি। তরুণ এই প্রতিভাদের ওপর আস্থা রেখে অস্ট্রেলিয়া দল যে ভবিষ্যৎ গড়ার মিশনে নেমেছে, তা নির্বাচকদের বক্তব্যে স্পষ্ট।
নতুন মুখের আগমন এবং অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্লোই আইনসওয়ার্থ এবং বাঁহাতি বোলার লুসি হ্যামিল্টন এবারই প্রথমবার সিএ-এর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা করে নিয়েছেন। হ্যামিল্টন গত মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দারুণ ফর্মে রয়েছেন। অন্যদিকে, ২০ বছর বয়সী আইনসওয়ার্থ এখনো সিনিয়র দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। ডব্লিউএনসিএল-এ তার ব্যাটিং গড় ৯৭.০০ এবং ডব্লিউবিবিএল-এ ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার তাকে নির্বাচকদের নজরে নিয়ে এসেছে।
তালিকায় ফিরে এসেছেন অলরাউন্ডার নিকোলা ক্যারি। ২০২৩ সালে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালেও সম্প্রতি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি পুনরায় দলে ফিরেছেন। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার ব্যাটিংয়ের গভীরতা দলকে নতুন ভরসা দিয়েছে।
নির্বাচকদের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
জাতীয় নির্বাচক শন ফ্লেগলার তরুণ আইনসওয়ার্থকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আইনসওয়ার্থকে আমরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখছি। সে বর্তমানে চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছে। তার শরীরের যত্ন নেওয়া এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তীব্র চাপের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে প্রস্তুত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ অন্যদিকে, হ্যামিল্টনকে নিয়ে ফ্লেগলারের মন্তব্য, ‘সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেন মাছের মতো জলে নেমেছে। তার আত্মবিশ্বাস ও শান্ত মেজাজ যেকোনো দলের জন্য বড় সম্পদ।’
বাদ পড়া খেলোয়াড় ও আনুকূল্য হারানো তারকারা
নতুন এই তালিকায় জায়গা হয়নি টায়লা ভ্লামিঙ্ক এবং টেস ফ্লিনটফের। ভ্লামিঙ্ক দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে ফ্লেগলার আশ্বস্ত করেছেন যে, যদি তিনি নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ফিটনেস প্রমাণ করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে তার ফেরার পথ বন্ধ হয়নি। এছাড়া উইকেটরক্ষক তাহলিয়া উইলসন, যিনি গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে অভিষেক করেছিলেন, তিনিও চুক্তির তালিকায় জায়গা পাননি। তবে অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্ট ভিত্তিক পারফরম্যান্স দিয়ে যে কেউ বছরের যেকোনো সময় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
২০২৬-২৭ মৌসুমের লক্ষ্য
সামনের দিনগুলোতে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের জন্য ঠাসা সূচি অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ, শ্রীলঙ্কা সফর এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট ম্যাচসহ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। এই ব্যস্ত সময়সূচি মাথায় রেখেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের স্কোয়াড সাজিয়েছে।
২০২৬-২৭ চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা
- চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়: ক্লোই আইনসওয়ার্থ, ডার্সি ব্রাউন, নিকোলা ক্যারি, অ্যাশলি গার্ডনার, কিম গার্থ, হেদার গ্রাহাম, লুসি হ্যামিল্টন, গ্রেস হ্যারিস, অ্যালানা কিং, ফিবি লিচফিল্ড, তাহলিয়া ম্যাকগ্রা, সোফি মলিনিউ, বেথ মুনি, এলিস পেরি, মেগান শুট, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, জর্জিয়া ভল, জর্জিয়া ওয়ারহাম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের ভারসাম্য বজায় রেখে অস্ট্রেলিয়া কি বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
