[CRK] জসপ্রীত বুমরাহ কেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য নতুন বল হাতে ইতিহাস গড়লেন?
[CRK]
বুমরাহর নতুন রূপে মুম্বাইয়ের ঘুরে দাঁড়ানো
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শুরুর দিকটা ছিল বেশ ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। প্রথম পাঁচটি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলটির জয় এসেছে মাত্র একটি ম্যাচে। এই সময়ে দীপক চাহার বা ট্রেন্ট বোল্টের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে মুম্বাই বারবার ভুল করছিল। কিন্তু গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে চিত্রনাট্য বদলে গেল সম্পূর্ণভাবে। এবার প্রথম ওভারেই বল হাতে তুলে দেওয়া হলো দলের প্রধান অস্ত্র জসপ্রীত বুমরাহর হাতে।
প্রথম ওভারেই বাজিমাত
ক্রিকেটের আধুনিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথম ওভারের গুরুত্ব অপরিসীম। বুমরাহ বল হাতে নিতেই প্রথম ডেলিভারিতে বি সাই সুদর্শনকে সাজঘরে পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিলেন কেন তাকে এই প্রজন্মের সেরা বোলার বলা হয়। এই একটি উইকেটের পতন গুজরাট টাইটানসের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। ফাফ ডু প্লেসিস মজার ছলে বলেছেন, ‘বুমরাহ যখন প্রথম ওভারে উইকেট নেয়, তখন মনে হয় এটা এখন থেকে নিয়মিত ঘটনা হয়ে যাবে।’
কৌশলগত পরিবর্তন ও মানসিক প্রভাব
ইএসপিএনক্রিকইনফোর টাইমআউট শোতে অভিনব মুকুন্দ বিশ্লেষণ করেছেন যে, মুম্বাই এতদিন কেন বুমরাহকে ইনিংসের শুরুতে ব্যবহার করেনি। তিনি বলেন, ‘তারা বোল্ট বা চাহারকে দিয়ে ইনিংস শুরু করাচ্ছিল, ফলে বুমরাহ যখন আসছিল ততক্ষণে বিপক্ষ দল ৪৬ বা ৫০ রান তুলে ফেলছিল। এবার প্রথমবারের মতো ২০২২ সালের পর বুমরাহ প্রথম ওভারে বল করার সুযোগ পেল এবং তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।’
বুমরাহর এই অন্তর্ভুক্তিতে মুম্বাইয়ের ফিল্ডারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও বদলে গিয়েছিল। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটানস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। বুমরাহর এই দুর্দান্ত বোলিং দলের বাকি সদস্যদের মনে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে যে, আজ মুম্বাইয়ের দিন।
বুমরাহর দক্ষতা বনাম নতুন বলের ব্যবহার
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গত কয়েক বছরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী হওয়ার কারণ ছিল বুমরাহকে অতিরিক্ত দেরিতে বোলিংয়ে আনা। অভিনব মুকুন্দ আরও যোগ করেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে এখন নতুন বল খুব বেশি সুইং করে না। কিন্তু বুমরাহর মতো একজন দক্ষ বোলার যদি একদম চকচকে নতুন বল হাতে পান, তবে তার ইয়র্কার এবং স্লোয়ারের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। গত সোমবার সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।’
আইপিএল ইতিহাসে বুমরাহর নতুন অধ্যায়
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ২০২০ সালের পর আর আইপিএল শিরোপা জিততে পারেনি। বুমরাহর হাতে নতুন বল তুলে দেওয়াটা যেন সেই পুরনো মুম্বাইয়ের সাফল্যের দিনগুলো ফিরিয়ে আনার একটি ইঙ্গিত। যদিও বুমরাহ তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে খুব বেশিবার প্রথম ওভার করেননি, তবে এই নতুন কৌশলটি যে মুম্বাইয়ের জন্য একটি মাস্টারস্ট্রোক ছিল, তা বলাই বাহুল্য।
- বুমরাহর প্রথম ওভারের ব্যবহার দলের সামগ্রিক বোলিং কৌশলে ভারসাম্য এনেছে।
- প্রথম ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার ফলে বিপক্ষ দলের টপ অর্ডার চাপের মুখে পড়ে।
- বোলারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব দেখা গেছে ফিল্ডিংয়ে।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এই কৌশল বজায় রাখবে কি না, তা দেখার বিষয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, বুমরাহকে নতুন বলে ব্যবহার করার মাধ্যমে মুম্বাই তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রিকেটের এই কৌশলগত লড়াইয়ে শেষ হাসি কার হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে গুজরাটের বিপক্ষে এই জয় মুম্বাই ভক্তদের মনে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে যে, ২০২৩ বা ২০২৪ নয়, ২০২৬ হতে পারে মুম্বাইয়ের পুনরুত্থানের বছর।
