General News

[CRK] KKR vs GT: আহমেদাবাদে কি ঘুরে দাঁড়াবে কলকাতা? লড়াই হবে টিকে থাকার

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

[CRK]

সংকটে কেকেআর: আহমেদাবাদে কি মিলবে মুক্তির পথ?

কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) এখন এমন এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে যাকে বলা যায় ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’। টুর্নামেন্টের অর্ধেক পথ পার হতে এখনো অনেক বাকি, কিন্তু পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন খাদের কিনারায়। আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে তারা জানে যে, এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য যেকোনো ফলাফল তাদের টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত ছিটকে দিতে পারে।

দলের মূল সমস্যা হলো তাদের শক্তির জায়গাটি তারা এখনো খুঁজে পায়নি। বিশেষ করে বড় অংকের মূল্যে কেনা বিদেশি খেলোয়াড় ফিন অ্যালেন এবং ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ভারতীয় খেলোয়াড় রিঙ্কু সিং এবং রমনদীপ সিংয়ের মতো নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটাররা এখনো তাদের সেরা ফর্মে ফিরতে পারেননি।

কৌশলগত বিভ্রান্তি ও বোলিং পরিস্থিতি

গত ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে সুনীল নারিনকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ছিল একটি কৌশলগত চাল, যাতে প্রতিপক্ষের বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে ঠেকানো যায়। তবে বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছে কেকেআর-এর চিন্তা ভাবনা কিছুটা অগোছালো। কারণ এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের সেরা পাওয়ারপ্লে ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানেকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দলের ভারসাম্য নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে আশার কথা হলো, বোলিং বিভাগে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। সুনীল নারিন তার পুরনো জাদুকরী ছন্দে ফিরেছেন এবং কার্তিক ত্যাগী ও বৈভব অরোরা জুটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এখন শুধু বরুণ চক্রবর্তীর সেরা খেলার অপেক্ষা। কিন্তু সমস্যা হলো, পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর তাদের প্রতিপক্ষ গুজরাট টাইটান্স এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

উড়ন্ত গুজরাট টাইটান্স: জয়ের ধারা ধরে রাখার লক্ষ্য

মন্দগতির শুরু কাটিয়ে গুজরাট টাইটান্স (GT) এখন তুঙ্গে। শুভমন গিল এবং বি সাই সুধরসন তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিরেছেন। এছাড়া জস বাটলার, যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিছুটা ফর্ম হারিয়েছিলেন, এখন আবার বিধ্বংসী রূপ ফিরে পেয়েছেন।

বোলিংয়ে প্রসিধ কৃষ্ণ তার শর্ট-অ্যান্ড-স্লো ডেলিভারির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাকোচ করছেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ভুলে যাওয়া স্মৃতি মুছে রশিদ খান আবারও তার পুরনো মাজে ফিরেছেন। টানা তিনটি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে গুজরাট, যা তাদের শীর্ষ চারের দৌড়ে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

টিম নিউজ: পঠিরানার অনুপস্থিতি

গুজরাট টাইটান্সের দলে কোনো চোটের সমস্যা নেই। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে সাত উইকেটে হারিয়ে দেওয়া সেই শক্তিশালী একাদশই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি। তবে একটি বড় ধাক্কা হলো, মাথিশা পঠিরানা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC) পেলেও লজিস্টিক সমস্যার কারণে এই ম্যাচে তিনি উপলব্ধ থাকবেন না।

গুজরাট টাইটান্স (সম্ভাব্য একাদশ): শুভমন গিল (অধিনায়ক), বি সাই সুধরসন, জস বাটলার (উইকেটকিপার), ওয়াশিংটন সুন্দর, গ্লেন ফিলিপস, রাহুল তেওয়াটিয়া, এম শাহরুখ খান, রশিদ খান, কাগিসো রাবাদা, অশোক শর্মা, প্রসিধ কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সিরাজ।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য একাদশ): ফিন অ্যালেন/টিম সাইফার্ট, সুনীল নারিন, অজিঙ্কা রাহানে (অধিনায়ক), অঙ্গিকৃষ রঘুবंशी, ক্যামেরন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, রোভম্যান পাওয়েল, আনুকুল রায়, বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগী, বরুণ চক্রবর্তী।

স্পটলাইটে: প্রসিধ কৃষ্ণ এবং রিঙ্কু সিং

প্রসিধ কৃষ্ণ: এই মরসুমে প্রসিধ নিঃশব্দে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তার স্লো-বোলিং আহমেদাবাদের বড় বাউন্ডারিতে ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই মরসুমের যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক, যা তাকে সিরাজ এবং রাবাদার চেয়েও এগিয়ে রেখেছে।

রিঙ্কু সিং: মরসুমের শুরুতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেও তা রানের সাথে মেলেনি। চার ইনিংসে মাত্র একটি ছক্কা এবং ১২০-এর স্ট্রাইক রেট তার মানের তুলনায় অনেক কম। কেকেআর-এর জন্য এখন রিঙ্কুর একটি বড় ইনিংস অত্যন্ত জরুরি। আহমেদাবাদের এই মাঠেই তিনি একসময় ২০তম ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা মেরেছিলেন, সেখানে কি তিনি পুরনো ফর্ম ফিরে পাবেন?

পরিসংখ্যান ও বিশেষ তথ্য

  • আনুকুল রায় বনাম বাটলার: আনুকুল রায়ের বাঁহাতি স্পিন জস বাটলারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাটলারের স্ট্রাইক রেট বাঁহাতি স্পিনারের বিরুদ্ধে ছিল মাত্র ৯২ এবং ১০ বারের মধ্যে চারবার তিনি বাঁহাতি স্পিনারের বলে আউট হয়েছেন।
  • সুনীল নারিনের অর্থনীতি: আইপিএলের ইতিহাসে নারিনের ইকোনমি রেট অন্য সব স্পিনারের চেয়ে কম। ২০২৩ সাল থেকে উচ্চ স্কোরিং যুগেও তার ইকোনমি ৭.৩৯, যা অন্য স্পিনারদের তুলনায় ০.৭৮ উন্নত।
  • রশিদ খানের প্রভাব: ২০২৬ আইপিএলে রশিদ খানের ইকোনমি ৬.৯, যা জিটি-র জার্সিতে তার সেরা। জিটি-র জয়ে তার ইকোনমি থাকে ৭.০, কিন্তু হেরে যাওয়া ম্যাচগুলোতে তা বেড়ে ৮.৪ হয়ে যায়।

পিচ এবং কন্ডিশন

নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের ৬ নম্বর পিচে এই মরসুমের প্রথম ম্যাচটি হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় এই পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য চমৎকার ছিল এবং পেসাররা এখানে বাড়তি বাউন্স পাচ্ছিলেন। শুরুতে কিছুটা সুইং থাকলেও তা দ্রুত মিলিয়ে যায়। স্পিনারদের খুব বেশি সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই টস জিতে আগে বোলিং করা এবং রান তাড়া করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

খেলোয়াড়দের কথা

টুর্নামেন্টের কঠিন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গ্লেন ফিলিপস বলেন, “আইপিএল খুব কঠিন একটি টুর্নামেন্ট। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক থাকা খুব মুশকিল। আমরা অনেক কিছু সঠিকভাবে করার চেষ্টা করছি এবং কঠোর পরিশ্রম করছি। প্রতিটি দলই শক্তিশালী, আমরা শুধু আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।”

অন্যদিকে, চোট কাটিয়ে ফেরা কার্তিক ত্যাগী জানান, “বারবার শিন স্প্লিন্টের সমস্যা হচ্ছিল, তাই আমি এক বছর বিরতি নিয়েছিলাম। আমার রান-আপ পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং নিজেকে আরও উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই স্তরে খেলে নিজেকে আরও উন্নত করাই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.