[CRK] আইপিএল ২০২৬: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে উড়িয়ে টানা জয়ে উড়ছে পাঞ্জাব কিংস
[CRK]
পাঞ্জাব কিংসের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা অব্যাহত
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিল পাঞ্জাব কিংস। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে প্রভসিমরান সিং ও শ্রেয়াস আইয়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে মুম্বাই। কুইন্টন ডি ককের ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় রুখতে যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ের ফলে এবারের আসরে পাঞ্জাব কিংস এখনো অপরাজিত থাকল।
আরশদীপের বোলিংয়ে কোণঠাসা মুম্বাই
ম্যাচের শুরুতে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন আরশদীপ সিং। মুম্বাইয়ের দুই ওপেনারকে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরানোর কাজটা তিনিই করেছেন নিখুঁতভাবে। নতুন বলে সুইং এবং পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের দক্ষতায় তিনি মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন। বিশেষ করে সূর্যকুমার যাদবের উইকেটটি ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এই উইকেট পাওয়ার সাথে সাথেই আরশদীপ আইপিএলে তার ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন।
ডি কক ও ধীরের লড়াই
রোহিত শর্মার ইনজুরির কারণে সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন কুইন্টন ডি কক। তিনি ৬০ বলে ১১২ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। আইপিএলের ইতিহাসে তিনি মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়লেন। এছাড়া নামান ধীরের ৩০ বলে ৫০ রান মুম্বাইকে একটা চ্যালেঞ্জিং স্কোরের দিকে এগিয়ে দিয়েছিল। তবে মাঝের ওভারে পাঞ্জাবের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মুম্বাই শেষ পর্যন্ত ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে পারেনি।
শ্রেয়াস আইয়ার ও প্রভসিমরানের পাল্টা আক্রমণ
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাব কিংসের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। আল্লাহ গজানফরের স্পিনে দুই উইকেট হারিয়ে তারা কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে দলের হাল ধরেন প্রভসিমরান সিং এবং শ্রেয়াস আইয়ার। প্রভসিমরান ৩৯ বলে অপরাজিত ৮০ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তার স্ট্রোক মেকিং এবং সাহস মুম্বাইয়ের বোলারদের পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। অন্যদিকে শ্রেয়াস আইয়ার ধারাবাহিকভাবে তার ফর্ম বজায় রেখে ৩৫ বলে ৬৬ রানের একটি ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন। এটি ছিল আইয়ারের টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি।
ফিল্ডিংয়ের অনন্য নজির
ম্যাচটিতে ফিল্ডিংয়ের এক দুর্দান্ত নিদর্শন স্থাপন করেন শ্রেয়াস আইয়ার। লং অনের কাছে হার্দিক পান্ডিয়ার একটি ক্যাচ ধরার সময় তিনি যেভাবে সীমানার বাইরে যাওয়া থেকে বলটি বাঁচিয়ে জেভিয়ার বার্টলেটকে হস্তান্তর করেন, তা নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ক্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন অসামান্য ফিল্ডিং ও ব্যাটিং পারফরম্যান্সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়েছিল।
মুম্বাইয়ের টানা চতুর্থ হার
ম্যাচশেষে মুম্বাই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া জানান, ২০ রান কম হওয়ায় তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। অন্যদিকে পাঞ্জাবের বোলাররা শেষ ৮ ওভারে মাত্র ৭০ রান খরচ করে মুম্বাইয়ের রানের গতি থামিয়ে দেয়। জসপ্রীত বুমরাহ এদিনও উইকেটশূন্য ছিলেন, যা মুম্বাইয়ের বোলিং বিভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়। পাঞ্জাব কিংসের এই জয় তাদের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকার দাবিকে আরও জোরালো করল।
পাঞ্জাব কিংসের এই জয় প্রমাণ করে যে, এবারের আসরে তারা কতটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রভসিমরান এবং আইয়ারের মতো তরুণ ব্যাটারদের ফর্ম দলের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এবারের আইপিএল যাত্রা যে বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে, তা তাদের টানা চার পরাজয় থেকেই স্পষ্ট।
