[CRK] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের যোগ্যতা অর্জনের নিয়ম শিথিল করার কথা ভাবছে ইসিবি
[CRK]
ইংল্যান্ড ক্রিকেটের যোগ্যতা অর্জনের নিয়মে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জনের নিয়মগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে। ২০১৯ সালে জোফ্রা আর্চারের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার পর, এবারই প্রথম বোর্ড এমন বড় কোনো পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে।
অতীতের প্রেক্ষাপট ও জোফ্রা আর্চারের উদাহরণ
সাত বছর আগে ইসিবি তাদের কঠোর নিয়মে পরিবর্তন এনেছিল, যার ফলে বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জন্য ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার পথ সুগম হয়। আগে যেখানে সাত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসের প্রয়োজন ছিল, তা কমিয়ে তিন বছরে নিয়ে আসা হয়। সেই পরিবর্তনের সুফল পেয়েছিলেন জোফ্রা আর্চার, যা তাকে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে দেয় এবং ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আর্চার ২০১৫ সালে বার্বাডোস থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং তার ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল। এখন পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন।
কেন নিয়ম পরিবর্তনের কথা ভাবছে ইসিবি?
ইসিবি তখন জানিয়েছিল, ওই পরিবর্তন কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের জন্য নয়, বরং আইসিসির অন্যান্য ফুল মেম্বার দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, ইসিবি আইসিসির বর্তমান নির্দেশিকার সঙ্গে তাদের নিয়মকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে একদিকে যেমন জাতীয় দল আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতাগুলোও নিরসন করা সম্ভব হবে।
বর্তমান নিয়ম বনাম আইসিসির নিয়ম
বর্তমানে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে তিনটি শর্তই পূরণ করতে হয়:
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকতে হবে।
- ইংল্যান্ড বা ওয়েলসে জন্ম হতে হবে অথবা তিন বছর বসবাস করতে হবে।
- গত তিন বছরে কোনো ফুল মেম্বার দেশে লোকাল খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ক্রিকেট খেলা যাবে না।
অপরদিকে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এই তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করলেই চলে, পাশাপাশি গত তিন বছরে অন্য দেশের হয়ে খেলার নিষেধাজ্ঞা তো থাকছেই।
ড্যানিয়েল ল্যাটেগান ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জটিলতা
নতুন এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের ফলে ড্যানিয়েল ল্যাটেগানের মতো উদীয়মান খেলোয়াড়রা উপকৃত হতে পারেন। ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক এবং এসএ২০ লিগে খেলার কারণে তার ইংল্যান্ডে যোগ্যতা অর্জনের পথে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইসিবি যদি তাদের নিয়ম শিথিল করে, তবে ল্যাটেগানের মতো মেধাবী খেলোয়াড়রা দ্রুত ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
চার্লি হেমফ্রির ঘটনা থেকে শিক্ষা
ইসিবি তাদের নিয়ম শিথিল করতে চাইছে কারণ অতীতে কঠোর নিয়মের কারণে অনেকের ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চার্লি হেমফ্রির উদাহরণটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। নিয়মকানুন আর অস্পষ্টতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ২০২১ সালে তাকে ক্যারিয়ার শেষ করতে হয়েছিল। ক্লাবগুলোও অনেক সময় ইংল্যান্ড-কোয়ালিফাইড খেলোয়াড় না হওয়ায় আর্থিক প্রণোদনা হারানোর ভয়ে তাদের সুযোগ দিতে চায় না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইসিবি এখন অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছে যে, তিনটি শর্তের পরিবর্তে দুটি শর্ত পূরণ করলেই খেলোয়াড়দের যোগ্য বলে বিবেচনা করা যায় কিনা। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার কারণে যে ‘কোলিং-অফ’ পিরিয়ড বা নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়, তা কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সেটি নিয়েও কাজ চলছে। যদিও ইসিবি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমাও এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এই পরিবর্তনগুলো বিশ্ব ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা।
