[CRK] ইনজুরির তাড়াহুড়ো করে ভুল করেছিলেন হ্যাজলউড, শিখলেন কঠিন শিক্ষা
[CRK]
ইনজুরি থেকে ফেরার কঠিন পথ: জশ হ্যাজলউডের অভিজ্ঞতা
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউড বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ মাসের ইনজুরি কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার পর তিনি জানালেন, তাড়াহুড়ো করে মাঠে ফিরতে গিয়েই তিনি নিজের চোটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিলেন। হ্যাজলউডের মতে, ৩০-এর কোঠার পর একজন খেলোয়াড়ের জন্য নিজের ইনজুরিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা ‘রেসপেক্ট’ করা অত্যন্ত জরুরি।
পাঁচ মাসের দুঃস্বপ্ন
গত নভেম্বরে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন হ্যাজলউড। এরপর রিহ্যাব চলাকালীন অ্যাচিলেস টেন্ডন এবং পরবর্তীতে কাফ মাসলের চোটে তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। এর ফলে তিনি অ্যাশেজ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট মিস করেন। যদিও আইপিএল ২০২৬-এর শুরুতে তিনি দলের সাথে ছিলেন না, তবে এখন তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরেছেন। তিনি জানান, আইপিএলের তীব্রতা সামলানোর জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই তিনি করেছেন।
দ্রুত ফেরার তাড়াহুড়ো কেন ক্ষতিকর?
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হ্যাজলউড বলেন, ‘যেকোনো পেশাদার খেলোয়াড়ই জানেন ইনজুরি থেকে ফেরা কতটা কঠিন। তাড়াহুড়ো করে অ্যাশেজ বা বিশ্বকাপের জন্য ফিট হওয়ার চেষ্টা করাটা হয়তো আমার ভুল ছিল। প্রতিবার ইনজুরি থেকে নতুন কিছু শিখছি, আর এখন বুঝেছি চোট সারার জন্য শরীরকে প্রয়োজনীয় সময় দিতেই হবে।’
আইপিএলের চ্যালেঞ্জ ও বোলিং কৌশল
রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কিছুটা রান দিলেও, লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। হ্যাজলউড টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব বেশি বৈচিত্র্য বা স্লোয়ার বলের ওপর নির্ভরশীল নন। বরং তিনি তার শক্তিশালী লেংথ এবং বাউন্সার দিয়েই ব্যাটারদের চাপে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মূল শক্তি হলো সঠিক লেংথে বল করা। আমি ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু মূল কৌশলে অটল থাকি।’
বোলারের ওপর কি চাপ কমেছে?
বর্তমান আইপিএলে ২০০-এর ওপর স্কোর করা যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে হ্যাজলউডের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘একজন বোলারের দিক থেকে দেখলে, এখন চাপ অনেকটা কমেছে। কারণ এখন প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটারদের ওপর রান করার বড় প্রত্যাশা থাকে। যদি কোনো ব্যাটার শুরুতেই ৬ বলে মাত্র ২ রান করে, তবে তার ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা অনেক সময় বোলারকে সুবিধা দেয়। ব্যাটাররা এখন অনেক সময় চাপে ভেঙে পড়েন, যা আমাদের মতো বোলারদের জন্য সুযোগ তৈরি করে।’
আরসিবির বোলিং ইউনিট
হ্যাজলউড মনে করেন আরসিবির বোলিং আক্রমণ এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের সাথে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের প্রতিটি বোলারের স্কিল সেট ভিন্ন, যা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করে। ট্রেনিংয়ের সময় আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখি এবং ম্যাচে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাই।’
উপসংহার
জশ হ্যাজলউডের এই অভিজ্ঞতার গল্পটি কেবল একজন ক্রিকেটারের চোটের কাহিনী নয়, বরং এটি পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য ধৈর্য এবং শরীরকে বোঝার একটি বড় শিক্ষা। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে যে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন, হ্যাজলউড এখন তাতেই মনোযোগ দিচ্ছেন। ভক্তরা আশা করছেন, এই মৌসুমে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং আরসিবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠবে।
