[CRK] কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস বনাম লাহোর কালান্দার্স: রসো এবং নওয়াজের দাপটে জয় কোয়েটার
[CRK]
করাচির চ্যালেঞ্জিং পিচে লাহোর কালান্দার্সকে উড়িয়ে দিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস
করাচির ব্যাটিং বান্ধব নয় বরং বেশ কঠিন একটি পিচে লাহোর কালান্দার্সকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে এক দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস। নির্ধারিত ওভারের ২২ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কোয়েটা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে গ্ল্যাডিয়েটরস। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ের পর লাহোর কালান্দার্স এখন সপ্তম স্থানে স্থবির হয়ে আছে, যারা ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হেরেছে।
লাহোর কালান্দার্সের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং করাচির দুঃস্বপ্ন
ম্যাচের শুরু থেকেই লাহোর কালান্দার্সের ব্যাটিং বিভাগ চাপে ছিল। করাচির এই পিচটি ছিল অত্যন্ত রহস্যময়; লো-বাউন্স এবং পুরনো বলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রিপের কারণে ব্যাটসম্যানদের জন্য রান তোলা ছিল কঠিন। টস জিতে ব্যাটিং করার পর কালান্দার্সরা শুরু থেকেই হোঁচট খায়। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই মোহাম্মদ নাঈম এবং ফখর জামানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ওপেনার আউট হয়ে যাওয়ায় পুরো দল ব্যাকফুটে চলে যায়।
নাঈম এবং ফখর শুরুতে সাকিব খান এবং জাহান্দাদ খানের বলে দুটি করে চার মেরে কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় ওভারে জাহান্দাদের একটি লেংথ বলে লো-বাউন্সের সুযোগ নিয়ে নাঈম আউট হন। এরপরই আলজারি জোসেফ তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে ফখরের স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে কালান্দার্সের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
লাহোর কালান্দার্সের জন্য করাচি শহরটি যেন অভিশপ্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শহরের তিনটি ম্যাচে তারা তিনবারই অল-আউট হয়েছে। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কাকে দলে এনে ব্যাটিং শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়, কারণ পাওয়ারপ্লের শেষ দিকে আলজারি জোসেফের একটি শর্ট অফ লেংথ ডেলিভারিতে তিনি আউট হয়ে যান। এরপর সাকিব খান মোহাম্মদ ফারুককে এলবিডব্লিউ করে কালান্দার্সের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেন।
স্পিন আক্রমণ এবং উসমান তারিকের ম্যাজিক
ম্যাচের মধ্যভাগে স্পিন আক্রমণ যখন শুরু হয়, তখন কালান্দার্সের ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে উসমান তারিক এবং আবরার আহমেদ তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লাহোরকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলেন। একাদশ ওভারে উসমানের প্রবেশ মাত্র তিন বলের মধ্যে আবদুল্লাহ শফিক এবং শাহিন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে দেয়। গতিহীন বলের কৌশলে তিনি সিকান্দার রাজাকেও পরাস্ত করেন। পুরো চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট দখল করেন উসমান তারিক।
অন্যদিকে, আবরার আহমেদ উইকেট না পেলেও তার বোলিং ছিল অত্যন্ত কার্যকরী। চার ওভারে ১৩টি ডট বল করে তিনি মাত্র ১৪ রান খরচ করেন, যা কালান্দার্সদের স্কোরবোর্ডকে একদম স্থবির করে দিয়েছিল। তবে শেষ দিকে উসামা মিরের ৭ বলে ২২ রানের ঝোড়ো ক্যামিও লাহোরকে ১৩৪ রানের একটি সম্মানজনক মোট সংগ্রহ এনে দেয়। তিনি আলজারি জোসেফ এবং জাহান্দাদ খানকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বিশাল ছক্কা হাঁকান, যদিও শেষ ওভারে তিনি ক্যাচ আউট হন।
রিলী রসো ও হাসান নওয়াজের বিধ্বংসী জুটি
১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শামীল হোসেন এবং সৌদ শেকিলকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল কোয়েটা। কিন্তু এরপর শুরু হয় রিলী রসো এবং হাসান নওয়াজের সেই ঐতিহাসিক জুটি, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তারা ৬৯ বলে ১০৪ রানের একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়েন, যা করাচির কঠিন পিচে ছিল অবিশ্বাস্য।
পাওয়ারপ্লের শেষ তিন ওভারে তারা ৩১ রান যোগ করে জয়ের ভিত গড়ে তোলেন। উসামা মিরের দুই ওভার ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত (৭ম ও ৯ম ওভারে যথাক্রমে ২ ও ৫ রান), কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে হারিস রউফকে তারা রীতিমতো শাসন করেন। রউফ ১০ এবং ১১ রান দিয়ে চাপে পড়েন, ফলে শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬০ রান।
হাসান নওয়াজ তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে উসামা মিরের বলে একটি চার এবং একটি ছক্কা মেরে জয়ের পথ আরও সহজ করে দেন। এরপর ১৩তম ওভারে রিলী রসো ড্যানিয়েল সামসকে দুটি চার মেরে তার মৌসুমের দ্বিতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন। হাসান নওয়াজও সেই ওভারে একটি চার মেরে স্কোরবোর্ডকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে শেষ সাত ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৫ রান। যদিও হাসান এবং দিনেশ চান্দিমাল পরে আউট হন, কিন্তু ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
ম্যাচ শেষে মূল পরিসংখ্যান একনজরে:
- লাহোর কালান্দার্স: ১৩৪ অল-আউট (হাসিবুল্লাহ ৩৩, উসামা মির ২২)
- কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস: ১৩৮/৪ (রিলী রসো ৬০*, হাসান নওয়াজ ৪৯)
- সেরা বোলিং: উসমান তারিক (৩-১৮), জাহান্দাদ খান (৩-৩৫)
- ফলাফল: কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস ৬ উইকেটে জয়ী।
