[CRK] ডেভিড মিলারের বীরত্বে চিন্নাস্বামীতে আরসিবির বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় দিল্লির
[CRK]
চিন্নাস্বামীতে মিলার-ঝড়: আরসিবির বিপক্ষে দিল্লির রোমাঞ্চকর জয়
আইপিএলের মঞ্চে যেকোনো মুহূর্তই বদলে যেতে পারে ম্যাচের মোড়। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তেমনই এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনার সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ডেভিড মিলার যখন ক্রিজে এলেন, তখন দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪২ রান মাত্র ২৫ বলে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে মিলারের ব্যাট থেকে আসা বিধ্বংসী ইনিংসই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিল দিল্লিকে।
অতীতের আক্ষেপ থেকে জয়ের তৃপ্তি
ম্যাচ জয়ের পর ডেভিড মিলার তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই জয়টি তার কাছে কতটা স্বস্তির। মাত্র দশ দিন আগেই গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে শেষ দুই বলে দুই রানের প্রয়োজন থাকলেও তিনি দলকে জয়ী করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিল। মিলার বলেন, ‘আগের ম্যাচের সেই হতাশা মনের কোণে সবসময়ই ছিল। কিন্তু আজ শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটি আমার জন্য এক ধরণের প্রায়শ্চিত্ত।’
ত্রিস্তান স্টাবসের প্রেরণা ও কৌশল
অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়ার পর মিলার যখন ক্রিজে নামেন, তখন পরিস্থিতি ছিল বেশ চাপের। আরসিবির বোলাররা অত্যন্ত নিখুঁত ইয়র্কার মারছিলেন। মিলার স্বীকার করেন, শুরুতে ব্যাটিং করাটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে সঙ্গী ত্রিস্তান স্টাবসের পরামর্শ তাকে দারুণ সাহায্য করেছে। স্টাবস তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার তীব্রতা (intensity) উচ্চ পর্যায়ে রাখো।’ এই মন্ত্রই মিলারের মনোযোগ ফিরিয়ে আনে এবং তাকে দারুণ ফর্মে নিয়ে আসে।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা
ম্যাচটি যখন শেষ ওভারে গড়ায়, তখন দিল্লির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। আরসিবির বোলার রোমারিও শেফার্ড প্রথম দুই বলে মাত্র দুই রান দিয়ে চাপ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু মিলার হার মানার পাত্র ছিলেন না। পরের চার বলে তিনি ১৩ রান তুলে নেন। পরপর দুটি ছয় ও একটি চারের মাধ্যমে তিনি ম্যাচ শেষ করে দেন। মিলার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছিলাম ডট বল যতটা সম্ভব কমাতে। যখনই বাউন্ডারির সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়েছি।’
ত্রিস্তান স্টাবসের অবদান
ম্যাচে স্টাবসের ভূমিকার প্রশংসা করে মিলার বলেন, ‘স্টাবোর সাথে ব্যাটিং করা সবসময়ই আনন্দদায়ক। ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে এবং ইনিংসটিকে আগলে রেখেছিল। ওর কৌশল দারুণ এবং ও অনেক শক্তিশালী। ওর সাথে থাকাটা আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয় ছিল।’
পরবর্তী লক্ষ্য ও মানসিক দৃঢ়তা
দিল্লি ক্যাপিটালসের লক্ষ্য ছিল ১৯তম ওভারেই ম্যাচ শেষ করা। যদিও আরসিবির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়াটাই ছিল মূল লক্ষ্য। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত শান্ত থাকা এবং সঙ্গীর সাথে সঠিক যোগাযোগ বজায় রাখাই ছিল তাদের জয়ের মূলমন্ত্র।
মিলার শেষ বল পর্যন্ত টিকে থেকে জয় নিশ্চিত করে প্রমাণ করলেন কেন তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার বলা হয়। তার এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংস দিল্লি ক্যাপিটালসকে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে লড়াইয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে থাকবে মিলারের পরবর্তী পারফরম্যান্সের দিকে।
