[CRK] বাবর আজমের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি: কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসকে উড়িয়ে দিল পেশোয়ার জালমি
[CRK]
বাবর আজমের ব্যাটে রান উৎসব: কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের করুণ পরিণতি
পিএসএলের এবারের আসরে পেশোয়ার জালমির দাপট অব্যাহত। বাবর আজমের অনবদ্য ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাত্তাই পেল না কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস। ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৭ রানেই গুটিয়ে গেল গ্ল্যাডিয়েটরসরা, ফলে ১১৮ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জালমি। বাবর আজম তার টি২০ ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা ব্যাটারদের একজন।
বাবর ও মেন্ডিসের ব্যাটিং তাণ্ডব
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের জন্য শুরু থেকেই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মোহাম্মদ হারিস প্রথম ওভারেই ২২ রান তুলে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন। হারিসের বিদায়ের পর মাঠে নামেন বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস। এই দুই ব্যাটার মিলে কোয়েটার বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন। মেন্ডিস মাত্র ৪৪ বলে ৮৩ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। অন্যদিকে বাবর আজম তার ইনিংসের শেষ দিকে যেভাবে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন, তা ছিল দেখার মতো। মাত্র ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে তিনি দলের সংগ্রহকে ২৫৫ পর্যন্ত নিয়ে যান। এটি ছিল পিএসএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটিং প্রদর্শনী।
ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও জালমির আধিপত্য
২৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ওপেনার শামিল হোসেন ও সাউদ শাকিল কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মোহাম্মদ বাসিত শুরুতে জোড়া আঘাত হেনে গ্ল্যাডিয়েটরসদের চাপে ফেলে দেন। রিলি রুশো গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরলে কোয়েটার পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
বোলিংয়ে জালমির হয়ে আলো ছড়িয়েছেন ১৮ বছর বয়সী পেসার আলি রাজা। ১৪৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির বেশি গতিতে বোলিং করে তিনি কোয়েটার ব্যাটারদের নাজেহাল করে ছাড়েন। মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বাসিতও ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে কোয়েটার ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শেষ দিকে দিনেশ চান্দিমাল ও বেভন জ্যাকবস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা ছিল কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর জন্য।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
- পেশোয়ার জালমি: ২৫৫/৩ (২০ ওভার)
- বাবর আজম: ১০০* (৫২ বল)
- কুশল মেন্ডিস: ৮৩ (৪৪ বল)
- কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস: ১৩৭ অল আউট (১৬.৫ ওভার)
- আলি রাজা: ৩/৯
- মোহাম্মদ বাসিত: ৩/২৬
এই জয়ের ফলে পেশোয়ার জালমি পিএসএলের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পর এই বিশাল ব্যবধানের জয় তাদের নেট রান রেটকেও বেশ চাঙ্গা করে তুলল। অন্যদিকে, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের জন্য এই ম্যাচটি ছিল একটি শিক্ষা, যেখানে ফিল্ডিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বাবর আজমের এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংস ক্রিকেট ভক্তদের মনে বহুদিন গেঁথে থাকবে, কারণ তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে চাপের মুখেও কীভাবে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে হয়। পিএসএলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও কি জালমি এই অপ্রতিরোধ্য গতি ধরে রাখতে পারবে? উত্তর পেতে আমাদের চোখ রাখতে হবে পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে।
