এডজবাস্টনে ড্যানি ওয়ায়াট-হজের ব্যাটিং তাণ্ডব

মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপের নারী ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে এডজবাস্টনে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনীর সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। সারে উইমেনের তারকা ব্যাটার ড্যানি ওয়ায়াট-হজ তার টি-টোয়েন্টি মেজাজ ওয়ানডে ফরম্যাটেও বজায় রেখে মাত্র ৮০ বলে ১২৪ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসের ওপর ভর করে সারে ৫২ রানের এক বড় জয় তুলে নিয়েছে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে।

সারের ইনিংসের শুরু ও মধ্যভাগের বিপর্যয়

ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সারে। শুরুটা বেশ দ্রুত হয়েছিল। সোফিয়া ডাঙ্কলি এবং পেজ শোলফিল্ড মিলে ৪৪ রান যোগ করেন। তবে হঠাৎ করেই সারে তাদের ছন্দ হারায়। শোলফিল্ড টেলরের বলে বোল্ড হন এবং ডাঙ্কলি ৩১ রান করে এম আরলটের বলে আউট হন। এরপর অ্যালিস ক্যাপসি এবং কিরা চাথলি দ্রুত বিদায় নিলে সারের স্কোর দাঁড়ায় ৯৫ রানে ৪ উইকেট। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল সারে হয়তো বড় লক্ষ্য গড়তে ব্যর্থ হবে।

ওয়ায়াট-হজ ও ডেভিডসন-রিচার্ডসের ঐতিহাসিক জুটি

৯৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের হাল ধরেন ড্যানি ওয়ায়াট-হজ এবং অ্যালিস ডেভিডসন-রিচার্ডস। এই দুজনে মিলে ১৬ ওভারে ১১৮ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। ডেভিডসন-রিচার্ডস ৭৫ বলে ৫৭ রান করে আউট হলেও, অন্যপ্রান্তে ওয়ায়াট-হজ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তিনি মাত্র ৬৬ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার ১২৪ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি বিশাল ছক্কা এবং ১০টি চারের মার। অর্থাৎ তার সেঞ্চুরির ৭৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে।

জেমিমা স্পেন্সের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস

ওয়ায়াট-হজ আউট হওয়ার পর ১৯ বছর বয়সী জেমিমা স্পেন্স তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি মাত্র ৪৮ বলে ৭৯ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা তার ক্যারিয়ারের ব্যক্তিগত সেরা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অ্যালিস মোনাগান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে সারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৮৯ রানের এক পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায়। ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে মেরি টেলর ৩টি উইকেট শিকার করেন।

ওয়ারউইকশায়ারের রান তাড়া ও ব্যাটিং বিপর্যয়

৩৯০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়ারউইকশায়ার শুরুতেই ধাক্কা খায়। ড্যাভিনা পেরিন মোনাগানের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে ফিরে যান। তবে আমু সুরেনকুমার এবং কেটি জর্জ দলের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। এই জুটি ১১ ওভারে ৭৯ রান যোগ করে ম্যাচে উত্তেজনা বজায় রাখেন। সুরেনকুমার ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকলেও সারের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারাতে শুরু করে স্বাগতিকরা।

টিলি কর্টিন-কোলম্যানের স্পিন জাদু

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় যখন বামহাতি স্পিনার টিলি কর্টিন-কোলম্যান আক্রমণে আসেন। মাত্র ১৮ বলের মধ্যে ওয়ারউইকশায়ার ৪টি উইকেট হারায়, যার মধ্যে ৩টি উইকেটই নেন কর্টিন-কোলম্যান। তিনি একে একে কেটি জর্জ, চ্যারিস প্যাভেলি এবং ক্লো ব্রুয়ারকে আউট করে ওয়ারউইকশায়ারের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ১০১ রানে ১ উইকেট থেকে ওয়ারউইকশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ১১৫ রানে ৫ উইকেট।

এম আরলটের লড়াকু ৯০ ও সারের জয় নিশ্চিতকরণ

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ছাড়েননি এম আরলট। তিনি এবং ইসি ওং সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের একটি বড় জুটি গড়েন। আরলট মাত্র ৬৪ বলে ৭টি চার এবং ৭টি ছক্কায় ৯০ রানের একটি আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। তিনি যখন সেঞ্চুরির ঠিক ১০ রান দূরে ছিলেন, তখন ডেভিডসন-রিচার্ডসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ইসি ওং ৪৫ রান করে আউট হলে ওয়ারউইকশায়ারের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ার ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩৭ রান তুলতে সক্ষম হয়।

ম্যাচ ফলাফল ও সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

  • সারে উইমেন: ৩৮৯/৯ (৫০ ওভার) – ওয়ায়াট-হজ ১২৪, স্পেন্স ৭৯, ডেভিডসন-রিচার্ডস ৫৭; মেরি টেলর ৩/৭৮।
  • ওয়ারউইকশায়ার উইমেন: ৩৩৭/৯ (৫০ ওভার) – এম আরলট ৯০, সুরেনকুমার ৫৯; কর্টিন-কোলম্যান ৩/৪৩।
  • ফলাফল: সারে উইমেন ৫২ রানে জয়ী।

এই জয়ের মাধ্যমে সারে মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপে তাদের যাত্রা দারুণভাবে শুরু করল। অন্যদিকে, ওয়ারউইকশায়ার হারলেও এম আরলটের লড়াই তাদের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস যোগাবে।

Categories: Report

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *