মানসিক অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন ভারতের প্রাক্তন পেসার সলিল আঙ্কোলা
মানসিক অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সলিল আঙ্কোলা
ভারতীয় ক্রিকেটের এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল পেসার সলিল আঙ্কোলা বর্তমানে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ৫৮ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ক্রিকেটার বর্তমানে গুরুতর মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং সুস্থ হওয়ার লক্ষ্যে একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হয়েছেন। তার এই লড়াইয়ের খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মায়ের প্রয়াণ ও মানসিক আঘাত
সলিল আঙ্কোলার স্ত্রী রিয়া জানিয়েছেন, গত অক্টোবর ২০২৪ সালে সলিলের মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। এই শোক তিনি কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না, যার ফলে তার শারীরিক অসুস্থতাও ক্রমাগত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সলিল নিজেই সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য রিহ্যাব সেন্টারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রিয়া বলেন, সলিল নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পুরো পরিবার তাকে নিয়ে গর্বিত এবং আশাবাদী। বর্তমানে তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। একজন লড়াকু মানুষ হিসেবে তিনি আবারও প্রিয় ক্রিকেটের আঙিনায় ফিরে আসবেন বলে তার পরিবার ও বন্ধুরা বিশ্বাস করেন।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান ও প্রতিকূলতা
সলিল আঙ্কোলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঘটনাবহুল। শচীন টেন্ডুলকারের সাথে একই ম্যাচে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট অভিষেক হওয়া এই পেসারের কাছে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তাকে কপিল দেবের উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হতো। কিন্তু ইনজুরি এবং ধারাবাহিকতার অভাব তার পথচলাকে রুদ্ধ করে দেয়। তিনি ভারতের হয়ে মাত্র একটি টেস্ট ও ২০টি ওডিআই ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (৩/৩৩) ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ দলেও তিনি ছিলেন, কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দিল্লির সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকে তার শেষ বড় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা।
মাঠ থেকে রুপোলি পর্দায়
মাত্র ২৮ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে হয় সলিল আঙ্কোলাকে। তবে খেলা ছাড়ার পর তিনি নতুন এক জগৎ খুঁজে পান—অভিনয়। সঞ্জয় দত্তের সাথে ‘কুরুক্ষেত্র’ সিনেমার মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন। এছাড়া ছোট পর্দায় বিভিন্ন সিরিয়াল এবং ‘বিগ বস’-এর প্রথম সিজনেও তাকে দেখা গিয়েছিল।
ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন
অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও সলিল আঙ্কোলার মন পড়ে ছিল ক্রিকেটেই। ২০২০ সালে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচন কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর থেকেই মূলত তার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের লড়াই প্রকাশ্যে আসে।
সবশেষে
সলিল আঙ্কোলার মতো একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক স্বাস্থ্য যেকোনো পেশার মানুষের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। পরিবারের সহায়তা এবং তার নিজের ইচ্ছাশক্তি তাকে এই অন্ধকার সময় থেকে দ্রুত আলোর পথে ফিরিয়ে আনবে, এটাই এখন সকলের কাম্য। খেলাধুলার মাঠের সেই লড়াকু মানসিকতা নিয়েই তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, এই প্রত্যাশা রইল।
