[CRK] ১৯২৯ সালের নারী ওয়ার্ল্ড কাপ সম্প্রসারণ ও ২০৩২ অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের সম্ভাবনা – ICC আপডেট
[CRK]
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) সম্প্রতি একটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় নারী ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপের কাঠামোকে ২০২৯ সালের জন্য বিস্তৃত করে দশটি দল অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি ২০২৫ সালের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যেখানে নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
১৯২৯ সালের নারী ওয়ার্ল্ড কাপের সম্প্রসারণ
ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স ডে ২০২১-এ ICC প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটের সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেছিল। এখন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে ওডিআই বিশ্বকাপের মূল টুর্নামেন্টে মাত্র আটটি দলই অংশগ্রহণ করতে পারত, কিন্তু ২০২৯ সালে এই সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ১০টি দল নিয়ে ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তুলনায় ২০২৫ সালের টুর্নামেন্টে মাত্র ৩১টি ম্যাচই হয়েছিল।
ICC-এর একটি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রায় ৩০০,০০০ দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে কোনো নারী ক্রিকেট ইভেন্টের রেকর্ড ভাঙেছে”। এছাড়া, ভারতে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন, যা বিশ্বব্যাপী স্ক্রিন ভিউয়ের নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
- ২০২৯ সালের টুর্নামেন্টে ১০টি দল
- ৪৮টি ম্যাচের সূচি
- নতুন রেকর্ড ভিউয়ার সংখ্যা
এছাড়া, ICC উইমেন্স ক্রিকেট কমিটির নতুন সদস্যদের নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে। এতে অ্যাশলি ডে সিলভা, মিথালি রাজ, আমল মুজুমদার, বেন সয়েয়ার, চার্লটে এডওয়ার্ডস এবং সালা স্টেলা সিয়াল-ভিয়া নাম অন্তর্ভুক্ত।
লস এঞ্জেলেস ২০২৮ এবং ব্রিসবেন ২০৩২ অলিম্পিক্সে ক্রিকেট
ICC এছাড়াও জানিয়েছে যে ২০২৮ সালের লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়েছে। এতে মোট ২৮টি গেম হবে, পুরুষ ও নারীর উভয় প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রত্যেক প্রতিযোগিতায় ছয়টি দল খেলবে, যেখানে পাঁচটি অঞ্চল (আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া) থেকে শীর্ষস্থানীয় দল এবং হোস্ট যুক্তরাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। ষষ্ঠ দলটি একটি কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, যার বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। গেমগুলি ১২ জুলাই থেকে ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যা লস এঞ্জেলেসের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে নির্মিত একটি বিশেষ স্থাপনা।
এটার আগে, ক্রিকেট ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস (আইচি-নাগোয়া, জাপান), ২০২৭ সালের আফ্রিকান গেমস (কায়রো, মিশর) এবং ২০২৭ সালের প্যান আমেরিকান গেমস (লিমা, পারু) তেও অংশ নেবে।
ব্রিসবেন ২০৩২ অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনাও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ICC সিইও সংযোগ গুপ্তা বলেছেন যে তিনি “ব্রিসবেন ২০৩২-এ ক্রিকেটের প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা” করেছেন। তিনি এবং ICC চেয়ার জে শা, সম্প্রতি সুইসের লজেনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) ও লস এঞ্জেলেস ২০২৮ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইভেন্ট ডেলিভারি, প্রতিযোগিতা ফরম্যাট এবং কোয়ালিফিকেশন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ICC মোবাইল গেমিং অধিকার নিয়ে বিড প্রক্রিয়া শুরু
ক্রিকেটের ডিজিটাল ফ্যান অভিজ্ঞতা উন্নত করার দিকেও ICC পদক্ষেপ নিচ্ছে। ICC ঘোষণা করেছে যে তারা এখন মোবাইল ক্রিকেট গেমের জন্য একটি বিডিং প্রক্রিয়া (Invitation to Tender) শুরু করবে। এটি বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় গেমিং পার্টনারদের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিশ্বমানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে।
এই বিডিং প্রক্রিয়ার পেছনে মূলত বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (WCA) এবং ICC-র মধ্যে চলমান NIL (নেম, ইমেজ এবং লাইকেলিহুড) অধিকারের বিবাদ রয়েছে। WCA দাবি করে যে খেলোয়াড়দের NIL অধিকার নিয়ে কোনো গেম উন্নয়ন ICC-র চুক্তি লঙ্ঘন করবে। তবে ICC পূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সদস্য বোর্ডগুলো সরাসরি খেলোয়াড়দের সঙ্গে NIL অধিকারের আলোচনা করবে, যা বর্তমানে প্রায় ৬০০ জন খেলোয়াড়কে ঘিরে। গেমের জন্য কতগুলো বোর্ড এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে অনুমান করা হচ্ছে যে আধা অংশ পূর্ণ সদস্য দেশে এই অধিকারগুলো সুরক্ষিত হয়েছে।
ICC জুন মাসে একটি এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EOI) চালু করেছিল, কিন্তু খেলোয়াড়দের সঙ্গে অধিকার নিয়ে আলোচনা অবশিষ্ট থাকায় প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখন এই নতুন বিড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গেমের গুণমান ও ফ্যান্সের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
নতুন দিগন্তে নারী ক্রিকেট ও অলিম্পিক্সের ভবিষ্যৎ
ICC-র এই ধারাবাহিক উদ্যোগগুলি নারী ক্রিকেটের বিকাশে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৯ সালের দশটি দলের ওয়ার্ল্ড কাপ, ২০২৮ লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক্স এবং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ, এবং মোবাইল গেমিং অধিকার নিয়ে নতুন বিডিং—all together creating a robust ecosystem for the sport’s growth. এই পদক্ষেপগুলি শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, ভক্ত, স্পনসর এবং গেমিং ইন্ডাস্ট্রির জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
প্রফেশনাল এবং অথরিটেটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ICC এর এই কৌশলগত পরিকল্পনা ক্রিকেটকে একটি গ্লোবাল স্পোর্টস ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং নতুন ফ্যান বেস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশ, নারী এবং পুরুষ উভয়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিতে পারবে, যা ক্রিকেটের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা বাড়াবে।
অবশেষে, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং বহুমুখী হতে চলেছে, যেখানে টুর্নামেন্টের সম্প্রসারণ, অলিম্পিক্সে অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল গেমিংয়ের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা ভক্তদের জন্য অপেক্ষা করছে।
