মাঠের বাইরে শেবাগের ‘হোমওয়ার্ক’-এর অভাব
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ তার মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কিন্তু অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে তিনি সব সময় যে একইরকম সফল, তা বলা কঠিন। আইপিএল ২০২৬-এর আসরে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন এই ব্যাটিং কিংবদন্তি। এসআরএইচ (SRH) বনাম কেকেআর (KKR) ম্যাচে এক তরুণ ক্রিকেটারকে চিনতে না পারায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ট্রোলের শিকার হতে হলো তাকে।
কী ঘটেছিল সেই ম্যাচে?
৩ মে ২০২৬, উপ্পলের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলেন শেবাগ। জিও-হটস্টারের এক আলোচনায় প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি যখন স্মরন রবিচন্দ্রনের বিষয়ে কথা বলছিলেন, তখন শেবাগের একটি প্রশ্ন সবাইকে অবাক করে দেয়। মনোজ তিওয়ারি বলেন, ‘আজ স্মরন রবিচন্দ্রনকে দেখার জন্য আমি খুবই উত্তেজিত।’ এর উত্তরে শেবাগ সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘কারা কি করে ও?’
এই প্রশ্নটি উপস্থিত সকলের কাছেই ছিল বেশ অদ্ভুত। কারণ, স্মরন রবিচন্দ্রন আইপিএল ২০২৬ নিলামে এসআরএইচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ৩০ লক্ষ টাকা ভিত্তিমূল্যে তাকে দলে নিয়েছিল অরেঞ্জ আর্মি। কর্ণাটকের এই উদীয়মান ব্যাটসম্যান দলের হয়ে অভিষেকও করেছিলেন সেই ম্যাচে। শেবাগের এই অজ্ঞতা দেখে মনোজ তিওয়ারি তাকে মনে করিয়ে দেন যে, স্মরন একজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান এবং অফস্পিনও করতে পারেন। অথচ শেবাগের নির্বিকার ভঙ্গি তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শেবাগের এই ধরণের ‘দায়িত্বহীন’ আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। অনেকে মনে করছেন, ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রস্তুতি না নেওয়া পেশাদারিত্বের অভাব। কিন্তু সমালোচনা সেখানেই থেমে থাকেনি। নেটিজেনরা শেবাগের পেশাগত জীবনের ব্যর্থতাকে টেনে এনেছেন তার ব্যক্তিগত জীবনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেবাগের স্ত্রী আরতি আহলাওয়াতের প্রসঙ্গ তুলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, শেবাগের এই ধরণের অদ্ভুত স্বভাবই সম্ভবত তাদের সম্পর্কের অবনতির কারণ।
শেবাগ ও আরতির সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও বীরেন্দর শেবাগ বা আরতি আহলাওয়াতের পক্ষ থেকে তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে তারা গত কয়েক মাস ধরে আলাদা থাকছেন। ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করা এবং শেবাগের নিজের ছেলেদের সাথে ছবি দিলেও স্ত্রীর সাথে ছবি না দেওয়া—এই সমস্ত ঘটনা ভক্তদের মনে বিচ্ছেদের জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির আর্যবীর ও বেদান্ত নামে দুই পুত্র রয়েছে।
ধারাভাষ্যকার হিসেবে শেবাগের যাত্রা
সমালোচনা যাই হোক, ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাভাষ্য জগতে শেবাগ একটি বড় নাম। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আইপিএলের বিভিন্ন মরসুমে আকাশ চোপড়ার সাথে তার ধারাভাষ্য বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এছাড়াও পাঞ্জাব কিংসের মেন্টর ও ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আইপিএল ২০২৪-এ হরিয়ানভি ভাষায় ধারাভাষ্য দেওয়ার যে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন শেবাগ, তা এখনও আইপিএল ২০২৬-এ বেশ সাফল্যের সাথেই চলছে।
তবে, তারকা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সবসময় যে সব পারফরম্যান্স দর্শকদের মন জয় করতে পারে, তা নয়। মাঠের বাইরের প্রস্তুতির ঘাটতি অনেক সময়ই একজন কিংবদন্তির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। শেবাগের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, ধারাভাষ্যের মতো দায়িত্বপূর্ণ কাজে প্রতিটি তথ্যের গভীর জ্ঞান থাকা কতটা আবশ্যক। ভক্তরা আশা করবেন, আগামী দিনে শেবাগ আরও মনোযোগী হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হবেন এবং বিতর্কের চেয়ে তার ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণই হবে আলোচনার মূল বিষয়।
0 Comments