বিরাট কোহলির ব্যাটে নতুন ইতিহাসের হাতছানি
বুধবার রাতে রায়পুরে যেন ক্রিকেটের এক মহাকাব্য রচিত হলো। গত দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর সমালোচকরা যখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন বিরাট কোহলি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বিপক্ষে তার অপরাজিত ১০৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি কেবল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে (আরসিবি) জয়ই এনে দেয়নি, বরং ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নতুন করে নাম লিখিয়েছে এই কিংবদন্তির।
কেকেআরের চ্যালেঞ্জ ও কোহলির জবাব
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে কেকেআর তরুণ ব্যাটার অংকৃশ রঘুবংশীর ৭১ এবং রিঙ্কু সিংয়ের অপরাজিত ৪৯ রানের সুবাদে ১৯২ রানের এক পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছিল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলি শুরু থেকেই ছিলেন ছন্দময় এবং আত্মবিশ্বাসী। ৬০ বলে ১০৫ রানের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার এবং ৩টি ছক্কায়। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি দলকে ৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। 
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক
এই ইনিংসের মাধ্যমে বিরাট কোহলি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪,০০০ রান পূর্ণ করেছেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মিলিয়ে মাত্র ৪০৯ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এছাড়া, প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড
কোহলির এই সেঞ্চুরিটি ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১০ম শতক। এর মাধ্যমে তিনি ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন। বিশ্বের হাতেগোনা অল্প কয়েকজন ব্যাটারই ১০ বা তার বেশি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির তালিকায় রয়েছেন, যেখানে কোহলি এখন একটি উজ্জ্বল নাম।
অন্যান্য অর্জনের তালিকা
বিরাট কোহলির এই ম্যাচটি ছিল আইপিএল ইতিহাসের তার ২৭৯তম ম্যাচ। এই ম্যাচ খেলার মাধ্যমে তিনি রোহিত শর্মা এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (২৭৮ ম্যাচ) ছাড়িয়ে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া রায়পুরের মাঠে এটিই এখন কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ, যা এর আগে কেন উইলিয়ামসনের (১০১ রান) দখলে ছিল।
অস্বাভাবিক রেকর্ডের নায়ক
বিরাট কোহলি অনন্য আরও একটি রেকর্ডের মালিক হয়েছেন—টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি করা প্রথম আইপিএল ব্যাটার তিনি। পুরো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই বিরল নজির স্থাপন করেছেন। এছাড়া দেবদূত পাডিক্কালের সাথে তার ৯২ রানের জুটিটি ছিল তাদের দশমবারের মতো ৫০ বা তার বেশি রানের জুটি, যা আইপিএলে একটি নতুন রেকর্ড।
অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে কোহলি
এই জয়ের ফলে আরসিবি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়েও কোহলি এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। ১২ ইনিংসে ৫৩.৭৭ গড়ে এবং ১৬৫.৭৫ স্ট্রাইক রেটে তার মোট সংগ্রহ ৪৮৪ রান। যদিও তালিকার শীর্ষে আছেন হেইনরিখ ক্লাসেন (৫০৮ রান) এবং সাই সুদর্শন (৫০১ রান), তবে কোহলির বর্তমান ফর্ম অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিরাট কোহলির এই ইনিংস কেবল পরিসংখ্যানের পাতায় নাম লেখানো নয়, বরং এটি তার অদম্য মানসিকতার পরিচয়। নিন্দুকদের জবাব দিয়ে কীভাবে মাঠে পারফর্ম করতে হয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন আরসিবি-র এই সুপারস্টার। ক্রিকেট প্রেমীরা এমন আরও অনেক মহাকাব্যিক ইনিংসের অপেক্ষায় থাকবেন, যেখানে কোহলির ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসবে আরও নতুন কোনো রেকর্ড।”
0 Comments