[CRK] আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: জরিমানার মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক ওয়াসিম
[CRK]
আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের
ক্রিকেটের মাঠে খেলোয়াড়দের মেজাজ হারানো নতুন কিছু নয়, তবে সেই ক্ষোভ যখন সরাসরি ম্যাচ অফিশিয়ালদের দিকে ধেয়ে যায়, তখন আইসিসির কঠোর অবস্থানের মুখোমুখি হতেই হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম ঠিক এই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হলেন। নেপালের কীর্তিপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করায় তাকে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেখানে
ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক পরপরই ঘটনার সূত্রপাত। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর শিকার হন ওয়াসিম। মাঠ ছাড়ার আগে তিনি পরিষ্কারভাবেই তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওয়াসিমের দাবি ছিল, বলটি লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, যা তাকে আউট দেওয়াটা ভুল ছিল। তবে এখানেই থেমে থাকেননি আমিরাত অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে প্রেজেন্টেশন সেরিমনিতে তিনি সরাসরি আম্পায়ারিংয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এই মন্তব্যই তাকে আইসিসির বিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে।
আইসিসির কোড অফ কন্ডাক্ট ও শাস্তি
আইসিসি তার বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াসিম আইসিসি কোড অফ কন্ডাক্টের ২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লেভেল ১-এর অপরাধ করেছেন। এই অনুচ্ছেদটি মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সমালোচনা বা তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের সাথে সম্পর্কিত। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, লেভেল ১ অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন তিরস্কার থেকে শুরু করে ম্যাচ ফির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে।
- অপরাধের মাত্রা: লেভেল ১ breach
- শাস্তি: ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা
- ডিমেরিট পয়েন্ট: ১টি পয়েন্ট
- রেকর্ড: ২৪ মাসের মধ্যে এটি তার প্রথম অপরাধ।
ম্যাচ পরিচালনা করা অন-ফিল্ড আম্পায়ার বুদ্ধি প্রধান এবং বিনয় কুমার, তৃতীয় আম্পায়ার দুর্গা সুবেদি এবং চতুর্থ আম্পায়ার সঞ্জয় সিগদেল ওয়াসিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন।
অধিনায়কের দায় স্বীকার
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ ওঠার পর সাধারণত আনুষ্ঠানিক শুনানির ব্যবস্থা থাকে। তবে মুহাম্মদ ওয়াসিম তার ভুল বুঝতে পেরে কোনো ধরনের জটিলতায় যাননি। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ম্যাচ রেফারি ওয়েন্ডেল ল্যাব্রয় কর্তৃক প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। এর ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব
২৪ মাসের মধ্যে এটি ওয়াসিমের প্রথম অপরাধ হওয়ায় তার ক্যারিয়ারে খুব বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না ঠিকই, তবে এই ডিমেরিট পয়েন্ট তার ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন অধিনায়কের জন্য এমন মন্তব্য পেশাদারিত্বের প্রশ্নে সবসময়ই নেতিবাচক বার্তা দেয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেটের জন্য ওয়াসিম একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, তাই দলের স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভবিষ্যতে তাকে আরও ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
ক্রিকেটের মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত অনেক সময় খেলোয়াড়দের বিপক্ষে যেতেই পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা আইসিসির নিয়মের লঙ্ঘন না হয়, সেটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বার্তা। ওয়াসিমের এই ঘটনাটি অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
