আইপিএলে সুনিল নারিনের ঐতিহাসিক মাইলফলক
আইপিএলের প্রতিটি মৌসুমেই কিছু না কিছু চমক নিয়ে আসেন সুনিল নারিন। তবে এবারের আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ পথচলায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে তিনি পূর্ণ করলেন আইপিএলে নিজের ২০০তম উইকেট। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন, কারণ আইপিএল ইতিহাসে এক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ২০০ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড এটিই প্রথম।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো স্পেল
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। অভিষেক শর্মা দ্রুত ফিরে গেলেও ট্রাভিস হেড তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যায় যখন কেকেআরের স্পিন জুটি সুনিল নারিন এবং বরুণ চক্রবর্তী জ্বলে ওঠেন। হায়দ্রাবাদের ইনিংসের মধ্যভাগে মাত্র ৬০ রানের ব্যবধানে তারা ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন।
নারিন তার শেষ ওভারের প্রথম বলেই সলিল অরোরাকে বোকা বানিয়ে অফ-স্টাম্প উপড়ে ফেলেন। সেই সাথে পূর্ণ হয় তার ২০০তম আইপিএল উইকেট। নারিনের এই ডেলিভারিটি ছিল নিখুঁত, যার কোনো জবাব ছিল না অরোরার কাছে।
কেন নারিনের রেকর্ডটি বিশেষ?
আইপিএলে ২০০ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় যুজবেন্দ্র চাহাল বা ভুবনেশ্বর কুমারের নাম থাকলেও, তারা ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন। কিন্তু সুনিল নারিন শুরু থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি তার এই আনুগত্য এবং পারফরম্যান্স তাকে আইপিএলের ইতিহাসে অন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। এছাড়াও, প্রথম বিদেশী স্পিনার হিসেবে তিনি ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের আধিপত্য
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবারের আইপিএলের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। হেনরিখ ক্লাসেন এবং ট্রাভিস হেডের মতো ব্যাটারদের সামলানো যেকোনো বোলারের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু কেকেআরের স্পিনাররা প্রমাণ করেছেন কেন তাদের বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং ইউনিট বলা হয়। বরুণ চক্রবর্তী তিন উইকেট এবং সুনিল নারিন শেষ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে হায়দ্রাবাদের রানের গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেন। বিশেষ করে রোভম্যান পাওয়েলের দুর্দান্ত ক্যাচ এবং নারিনের অভিজ্ঞতাপূর্ণ বোলিং কেকেআরকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে।
নারিনের পরবর্তী সাফল্য
২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেই ক্ষান্ত হননি নারিন। তার ওভারের শেষ বলে তিনি ইশান কিষাণকেও সাজঘরে ফেরান। নারিন বুঝতে পেরেছিলেন যে কিষাণ এগিয়ে এসে খেলার পরিকল্পনা করছেন, তাই তিনি একটু শর্ট লেন্থে বল করেন এবং বলটি কিষাণের ব্যাটের কানায় লেগে আকাশের দিকে উঠে যায়, যা অনায়াসে লুফে নেন অনুকূল রয়।
এই পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই কেকেআর শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে। অভিজ্ঞ এই ক্যারিবিয়ান স্পিনারের জাদু এখনো আইপিএলের মঞ্চে কতটা কার্যকরী, তা এই ম্যাচ আরও একবার প্রমাণ করল। কেকেআর ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা, যেখানে তাদের প্রিয় ‘জাদুকর’ আরও একটি পালক যুক্ত করলেন নিজের মুকুটে।
তথ্যসূত্র: ক্রিকেটঅ্যাডিক্টর
0 Comments